মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমেরিকার সাথে চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জামায়াতের সাথে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। এটা আগেও বলেছি। এখনো বলছি দায়িত্ব নিয়ে’। তিনি আরো বলেন, ‘তিস্তার বিনিময়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প আমরা মেনে নিবো না, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতেই হবে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যের আগে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংয়ে এসব বলেন জামায়াত আমীর। এসময় তার সাথে ছিলেন দলটির রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহবুর রহমান বেলাল এমপি, রায়হান সিরাজি এমপি, মহানগর জামায়াত আমীর এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আঘাত করার অধিকার পশ্চিমবঙ্গসহ দুনিয়ার কোনো দেশের সংবিধানও দেয়নি, দুনিয়ার কারো নেই। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। এ সময় তিনি রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে মহানগর জামায়াত আমীর এ টি এম আজম খানের নাম ঘোষণা করেন।

আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টার বক্তব্যের বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, ‘এই বিষয়ে আগেও প্রশ্ন এসেছিল। তখন আমি আমার নিজের একটা বক্তব্য দিয়েছি যে, সরকারের (অন্তর্বর্তীকালীন) পক্ষ থেকে কেউ আমাদের সাথে এই বিষয় (আমেরিকার সাথে চুক্তি) নিয়ে কোনো আলোচনা করে নাই। এখনো আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো একজন মানুষ এই বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে একটা শব্দ উচ্চারণ করেনি। এটাই হচ্ছে আমাদের পজিশন।’

পার্শ্ববর্তী দেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে যেটা হয়েছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নাÑ দুনিয়ার যেখানে এই রকম অপকর্ম হবে আমরা তার নিন্দা জানাই। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে আঘাত করার অধিকার এই দুনিয়া কাউকে দেয় নাই। কোনো দেশের সংবিধানও দেয় নাই। কেউ যদি এটা করেন মানবতার উপর এটা জুলুম এবং আমরা তার বিপক্ষে সবসময় আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পদ্মা ব্রিজের এই উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এটা তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় তিস্তাকে অবশ্যই তার পাওনা দিতে হবে এবং এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এর ভিন্ন আমরা কিছু চাই না। আমি সংসদের ভিতরে স্পষ্টভাবে এনিয়ে কথা বলেছি আপনারা দেখেছেন। আমাদের অবস্থান এ বিষয়ে একদম পরিষ্কার।’

জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমরা আমাদের দলের মুক্তি নয়, দেশবাসীর মুক্তি চাই। আমরা আমাদের দেশ দলের উন্নতি নয়, আমরা গোটা দেশবাসীর উন্নতি চাই। এইভাবেই আমরা একটা ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চাই।’

জামায়াত আমীর বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, ৭০ ভাগ মানুষ প্রায়, তারা রায় দিয়েছিল গণভোটের পক্ষে। কিন্তু সরকারি দল এটাকে অপমান এবং অগ্রাহ্য করেছে। আমরা কথা দিয়েছি এই কর্মসূচি আমরা বাদ দেব না, পরিত্যক্ত ঘোষণা করব না। সংসদের ভিতরেও লড়াই চালিয়ে যাব। সংসদের বাইরেও লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা গভীর আস্থাশীল, গণভোটের রায় এই বাংলার জমিনে একদিন ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। গণভোটের রায় অপমানে, অবহেলায় পরিত্যক্ত হবে না ইনশাআল্লাহ।’

পরে তিনি মহানগর জামায়াত আমীর এ টি এম আজম খানকে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে উপস্থিত সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। সুধী সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। এর আগে দুপুর ১২টায় নগরীর মডেল কলেজ মিলনায়তনে রংপুর বিভাগের থানা ও উপজেলা জামায়াতের আমীর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।

সকাল ৯টায় তিনি এক দিনের সফরে প্রথমে রংপুর সার্কিট হাউজে আসেন। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে তিনি জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।