বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডা. শফিকুর রহমান গতকাল শুক্রবার পাঁচ জেলায় নির্বাচনী জনসভায বক্তৃতা করেন। এসব সমাবেশে বিপুল জন সমাগন ঘটে। আমাদের সংবাদদাতাদের প্রেরিত খবর।

মু. আবু সুফিয়ান, বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : গতকাল পটুয়াখালীর বাউফলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। চারপাশের রাস্তা-ঘাট ও মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে জনতার ঢলে।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, মজলুম জননেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত বছরগুলোতে রাজনৈতিক দল ও শাসকগোষ্ঠী আমাদেরকে বারবার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয় বাণিজ্য ও বিচারহীনতা উপহার দিয়েছে। আমরা সেই বাংলাদেশ বদলে দিয়ে একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। ১৩ তারিখ সূর্য উদিত হবে নতুন বাংলাদেশকে কাঁধে নিয়ে।”

তিনি বলেন, “আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিলে আমাদের দুই হাতের দশ আঙুল থাকবে পরিচ্ছন্ন। আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতি করি না, কাউকে করতেও দেব না। মামলা বাণিজ্য আমরা ঘৃণা করি। কেউ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিথ্যা মামলা দিয়ে কারো ভবিষ্যৎ ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “ব্যাংকের টাকা লুটপাট করতে দেওয়া হবে না, শেয়ারবাজার ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না। বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে এনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। বিচার হবে নির্যাতনের ভিত্তিতে কেউ মামু-খালু দেখিয়ে পার পাবে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী অন্যায় করলেও তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।”

সমাজ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন,“একটি ভালো সমাজ গড়তে তিনটি জিনিস অপরিহার্য উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার। আমাদের সামনে দুটি নির্বাচন-একটি গণভোট, আরেকটি সাধারণ নির্বাচন। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামি। হ্যাঁ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে, না বিজয়ী হলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।”

তিনি অতীত ও বর্তমানের রাজনীতি তুলে ধরে বলেন, “যারা অতীতে সততার প্রমাণ দিতে পারেনি, তাদের ভোট চাওয়ার কোনো অধিকার নেই। যারা জনগণকে সম্মান দিয়েছে এবং যোগ্যতা দিয়ে সেই সম্মান ধরে রেখেছে, মানুষ তাদেরকেই বেছে নেবে। জামায়াত দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য, দখলদারিত্ব, ব্যাংক ডাকাতি ও ঋণখেলাপির রাজনীতি করে না।”

১১ দলীয় জোটের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আপনারা যদি আমাদের সুযোগ দেন, আপনাদের দাবি তুলতে হবে না- আমাদের দায়িত্ব হবে উন্নয়ন আপনাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। আমার বাড়ি সারা বাংলাদেশে। যেখানে যা প্রয়োজন, সেখানে পৌঁছে যাওয়া আমার দায়িত্ব। শহীদরা যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন, সেই দায়িত্ব আমরা কাঁধে তুলে নিয়েছি।”

বক্তব্য শেষে পটুয়াখালী ২ (বাউফল) আসনের ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন ড. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে পটুয়াখালীর চারটি আসনের জোট প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বাউফল উপজেলা আমীর মাওলানা মো. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, পটুয়াখালী জেলা আমীর অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান, বরিশাল মহানগর আমীর জহির উদ্দিন মো. বাবর, পটুয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম, পটুয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা বিপুল জনসমাগমে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

পিরোজপুর সংবাদদাতা: এক আমলের ১০ টাকার চাউল খেয়ে পেট ব্যথা এখনো যায়নি। এখন আবার কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। একজন বলে ২ হাজার, একজন বলে ৭ হাজার একজন বলে ২০ হাজার। একজন বলে আমরা দেবো ৫ লক্ষ, আরেকজন গিয়ে বলে ৫০ লক্ষ আর একজন গিয়ে বলে ৫০ কোটি। এসব দশ টাকার চাউলের মত ধাপ্পাবাজি।

তিনি প্রশ্ন করেন, এদের মুসলমানের দেশ, এদেশে হিজাব পরা, মেকআপ করা কি গুনাহের কাজ? নাকি আল্লাহর বিধান? আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তারা বলছে, হিজাব মেকআপ পরে আসলে তা খুলে ফেলব। বলছে কেউ যদি দাঁড়িপাল্লার পক্ষে এসে ভোট চায় তাহলে তার কাপড় খুলে ফেলব। এরা কোন প্রজাতির এরা কি মানুষ? আল্লাহ যাদের বিবেক দিয়েছেন তারাই মানুষ হয়। কোন মানুষ মায়ের গায়ের কাপড় খুলতে বলতে পারে না। এ নোংরা কথা বলার পরে অহংকার দেয়ার পরেও দলের নেতাকে কিংবা দলের পক্ষ থেকে ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে এ জাতি দেখে নাই। তারমানে তারাও এটাকে সমর্থন করে। উপস্থিত জনতার কাছে তিনি জানতে চান, আমাদের দেশের মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে কেউ টানাটানি করে এটা কি আপনারা বরদাস্ত করবেন? উপস্থিত জনতা সমস্বরে উত্তর দেয় না? তার বিরুদ্ধে জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন? তিনি বলেন ইনশাআল্লাহ সেই জবাব দেয়ার মোক্ষম সময় হলো বারই ফেব্রুয়ারি।

গতকাল শুক্রবার পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন।

ডাঃ শফিকুর রহমান গতকাল বরিশালের মেহেদীগঞ্জ উপজেলা, বাউফল উপজেলা এবং ঝালকাঠি জেলায় জনসভা শেষ করে বিকেল তিনটায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হন। তিনি জনসভা স্থলে উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সকাল ১১ টায় জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়ে জুমার পূর্বে প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। প্রথম অধিবেশনে পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলা সুরতম পরিষদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এরপর জুমার বিরতির পরে বেলা ২:০০ টায় দ্বিতীয় পর্বের কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর ১,২ ও ৩ আসনের এমপি প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, শামীম সাঈদী এবং শামীম হামিদী। বিশেষ অতিথি হিসেবে জনসভায় বক্তব্য রাখেন এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এবং বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। জেলা সেক্রেটারি জহিরুল হক, জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, এন ছিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডাক্তার শফিকুর রহমান তিনি জনসভাস্থলে উপস্থিত হলে উপস্থিত জনতা মুহুর্মুহু স্লোগান দিবে প্রাঙ্গণের আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে।

তিনি বলেন, আমি তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে জীবন দিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে আমাদেরকে ৩৬ জুলাই এনে দিয়েছিল। যারা জীবন দিয়ে চলে গেছে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করুন। যারা আহত এবং পঙ্গুত্ববরণ করেছে তাদেরকে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সুস্থতার নেয়ামত দান করুন। এবারের ১২ তারিখের নির্বাচন অতীতের ১২ টি নির্বাচনের মত কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। তিনি বলেন, বিগত ১২টি নির্বাচনের মাধ্যমে যেভাবে বাংলাদেশকে পুরনো বন্দোবস্তের মাধ্যমে খাবলে, কামড়ে, খামছে শেষ করে দেয়া হয়েছিল, তা পরিবর্তন করার নির্বাচন। নতুন বাংলাদেশ জাগিয়ে তোলার নির্বাচন। শহীদদের প্রত্যাশা পূরণ করার নির্বাচন, যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণের নির্বাচন, ছয়ত্রিশের যোদ্ধাদের সম্মান করার নির্বাচন। আমাদের মা-বোনদের গর্বের, প্রশান্তির, ইজ্জতের নিরাপত্তার নির্বাচন। শিশুর জন্য বেড়ে ওঠার নির্বাচন। দেশের কামার, কুমার, মুটে, চাষী সকলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের নির্বাচন। জিজ্ঞেসা করবেন এর আগে মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় নাই। না হয় নাই। হয় নাই বলেই গত সাড়ে ১৫ বছরে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সেই টাকা ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। দেশটাকে সুষম উন্নয়ন উপহার দেয়ার নির্বাচন। ইনসাফের ভিত্তিতে উন্নয়নের নির্বাচন। যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেয়ার নির্বাচন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, এটা আল্লামা সাঈদীর নির্বাচনী আসন, আপনারা মাসুদ সাঈদীর শামীম সাঈদীর বিজয়ী করে আল্লামা সাঈদীর স্বপ্ন পূরণ করবেন। অনুষ্ঠানে মালিক আব্দুল লতিফ, শামীমুল হক, সুরের ছোয়া শিল্পীগোষ্ঠী আলোর দেশে শিল্পীগোষ্ঠী ইসলামী গান পরিবেশন করে জনতাকে উজ্জীবিত রাখেন।

বরিশাল অফিস : জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা নিজেদের দল সামলাতে পারেন না তারা দেশ চালাবে কিভাবে। ৫ আগস্টের পর তারা নিরীহ মানুষদের মামলা দিয়ে খাজনাপাতি তুলেছে। মানুষ তাদের প্রতি অতিষ্ঠ। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সরকারি আরসি কলেজ মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তানের বৈষম্য আচরণের কারণে মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত, তার মাধ্যমে আমরা পেয়েছি বাংলাদেশ। কিন্তু পৌনে চার বছর আবার শোষণ নৈরাজ্য করলো আওয়ামী লীগ। এরপর বার বার ক্ষমতার হাত বদল হলেও জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন আসেনি।

তিনি বলেন, এদেশে সবচেয়ে বড় মজলুম দল জামায়াত। বিচারিক হত্যাকান্ড সহ নানা নিপীড়ন হয়েছে। তবুও জনগণের স্বার্থে কথা বলা বন্ধ করিনি। জুলাই বিপ্লবের পরিবর্তনের পর আমরা কোন নির্দোষ নীরিহ মানুষকে হয়রানি করিনি।

কিন্তু একটি বড় দলের লোক মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা প্রতিষ্ঠায় ১১ দলীয় জোট বদ্ধপরিকর। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করবো। আল্লাহ যদি আমাদেরকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ দেয় তাহলে সকলকে তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিব। পাচার হওয়া টাকা ওদের পেট থেকে বের করে আনা হবে। কেননা অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া হিজলা মেহেন্দিগঞ্জের অবহেলিত জনপদের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, তুমিও তো মায়ের সন্তান, তাহলে আরেক মাকে কেন সম্মান দিতে পারো না? মায়েদের নিরাপত্তায় আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আইডি হ্যাক বিষয়ে তিনি বলেন, মিসাইল ছুড়েছিল আমার দিকে, ফিরে সেটা তাদের কপালেই পড়েছে। সত্য কখনো চাপা থাকে না।

যে রাজনীতি চাঁদাবাজ, হত্যাকারী লুন্ঠনকারী তৈরি করে, ঐ রাজনীতি আমরা চাইনা। তাই পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। এতোদিন পাহারাদারি করেছি দলের, আপনারা সুযোগ দিলে এবার দেশের পাহারাদারি করবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বরিশাল অঞ্চল টীম সদস্য একেএম ফখরুদ্দিন খান রাজী, বরিশাল জেলা আমীর ও বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার, বরিশাল-২ আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার আব্দুল মান্নান, বরিশাল-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান, বরিশাল জেলা এনসিপির আহবায়ক আবু সাঈদ মুসা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা জোবায়ের গালিব, জাগপা জেলা সভাপতি মনির হোসেন ও খেলাফত মজলিশের জেলা সহ সভাপতি রুহুল আমীন কামাল, ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাহমুদ হোসাইন দুলাল।

এছাড়া বরিশাল প্রেস ক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, জেলা ছাত্রশিবিরের বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি আব্দুর রহমান সুজন, বরিশাল জেলা সভাপতি সাইয়্যেদ আহমেদ, হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলা আমীর ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।বক্তব্য শেষে বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার সহ অন্যান্য প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।

মো: সামিরুল ইসলাম, নড়াইল : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সকলের জন্য নিরাপদ ও গর্বের বাংলাদেশ গড়তে চাই।আমরা শুধু জামায়াত বা দাঁড়িপাল্লার বিজয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় দেখতে চাই। রাজনীতিকে যারা ব্যবসার পণ্য করে তারা কখনো দেশকে গড়ে তুলতে পারবে না। আর পুরানো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না। পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পাল্টে দিতে চাই। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। রাজনৈতিক নেতৃত্বে সততা আর সদিচ্ছা থাকলে সমাজ পাল্টাতে সময় লাগে না। গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টায় নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

নড়াইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও নড়াইল-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বা”চু’র সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টীম সদস্য ও নড়াইলের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আশেক ইলাহী।জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী ও নড়াইল-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মো: ওবায়দুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার জাকির হোসাইন,জামায়াত নেতা মো: শামসুর রহমান, খেলাফত মজলিস নেতা হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা মহসিন হোসাইন,মাওলানা আব্দুল হান্নান সর্দার,ডা: পতিত পাবন বিশ্বাস, এনসিপি নেত্র মাহমুদা সুলতানা রিমি,ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

জামায়াতের আমীর আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও জনগণের আশা- আকাঙ্খা পূরণ হয়নি।মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ। সমাজে এখন কেউ ভালো নেই।সমাজসহ সকল সেক্টরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আসন্ন নির্বাচনে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে সকলের প্রতি আহবান জানান।দাঁড়িপাল্লার বিজয়ে মর্যাদার সঙ্গে বোনেরা-মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্ম¯’লে, সব জায়গায় নিরাপদ থাকবেন। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সংস্কারে এ নির্বাচনে হ্যাঁ ভোট দিতেও সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। আমরা যদি সরকার গঠন করি তাহলে অন্যায়কারী যিনি হোন না কেন তাকে আইনের আওতায় শাস্তি পেতে হবে। নড়াইলের উন্নয়নে তিনি ন্যায্য দাবি-দাওয়ার প্রতি একাত্মতা ঘোষনা করেন।বক্তব্য শেষে তিনি নড়াইল-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো: ওবায়দুল্লাহ কায়সার ও নড়াইল-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বা”চু’র হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, পুরানো বস্তাপচা রাজনীতি পরিহার করতে হবে। আগামী নির্বাচনে প্রত্যেকটা ভোটের পাহারাদারী করতে হবে। এবার আর কাউকে ভোট কেড়ে নিতে দেয়া হবে না। কেউ যদি তা কেড়ে নিতে আসে তাহলে সে হাতটা ধরে ফেলবেন মোচড়ায়ে ফেলবেন। আর এজন্য মামলা আপনাদের বিরুদ্ধে হবে না। কেউ মামলা করলে বলে দিবেন শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য। সারাদেশে যুবকদের জাগতে হবে, সকলের অধিকার কায়েম করতে হবে।

গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টায় ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন জুলাই আন্দোলনে প্রাণ তরুণ ও যুবকদের প্রতিদান আমি দিতে পারবো না। কিন্তু বেকার ভাতাও দিয়েও তোমাদের বেইজ্জতী করবো না। তবে খুব শীঘ্রই দেশের দায়িত্বভার তোমাদের হাতে তুলে দেব।

আমামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হবে আশা ব্যক্ত করে আমীরে জামায়াত শফিকুর রহমান ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।

বক্তব্য শেষে তিনি ঝালকাঠি-১ আসনে ডক্টর ফয়জুল হক ও ঝালকাঠি-২ আসনে শেখ নেয়ামুল করিমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ও সেক্রেটারী অধ্যক্ষ ফরিদুল হক ও নায়েবে আমীর এডভোকেট বিএম আমিনুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শেখ নেয়ামুল করিম, এনসিপি কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা: মাহমুদা মিতু, ঝালকাঠি-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. ফয়জুল হক ঝালকাঠি -২ আসনের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি এনামুল হাসান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা মিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। শহীদ ওসমান হাদীর বোন মাসুমা হাদীও জনসভার স্টেইজে উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।