চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা: বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে হবিগঞ্জ-৪(চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এসএম ফয়সল ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে এসএম ফয়সল আহমদ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সুন্নী জোটের আলোচিত প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৮৯৬ ভোট।

এছাড়া, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের দেওয়ালঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৪২৩ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীরা তুলনামূলক কম ভোট পেয়েছেন। এ আসনের মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৭১টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৪৮। ফলাফল শিট অনুযায়ী ভোটগ্রহণের হার ছিল ৫৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ফলাফল ঘোষণার পর ধানের শীষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

বিজয়ী প্রার্থী এসএম ফয়সল আহমদ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ বিজয় হবিগঞ্জ-৪ আসনের সর্বস্তরের মানুষের। আমি সকল ভেদাভেদ ভুলে এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব। চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, হবিগঞ্জ-৪ আসনে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সব কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাথমিক বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এ আসনে স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।