কবির আহমদ, মো. আব্দুর রউফ, আজাদুর রহমান আজাদ, মো. সামছুল ইসলাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ মেহেরবানী করে আমাদের উপর দায়িত্ব অর্পন করলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পালটে দেয়া হবে। ৫৪ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমির সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের যে নতুন বাংলাদেশ তা পাঁচ বছরেই ধরা দেবে। জনগণের টাকা যারা চুরি করেছে তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। যে দেশেই থাকুক নিয়ে আসা হবে। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেয় তবে তা বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে সেই সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই। যোগ্যতা থাকলে চা শ্রমিকের ছেলেও যেনো যথাযোগ্য স্থানে অধিষ্ঠিত হতে পারে আমরা সেই সংস্কৃতি চালু করতে চাই। চাহিদার তুলনায় সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা তুলনামুলক কম। আমরা নির্বাচিত হলে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতন ভাতা নিশ্চিত করবো। এরপরও যারা ঘুষ খাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদরাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

বেলা পৌণে আড়াইটার দিকে জনসভার কার্যক্রম শুরু হলেও এর আগেই দুপুর থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে আসতে থাকেন। ৩ টার আগেই আলিয়া মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এরপর আশপাশের রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এবারই প্রথম সিলেটে জামায়াতের জনসভায় বিপুলসংখ্যক নারী অংশ নেন। তাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়। ৩টা ৩৮ মিনিটে আমীরে জামায়াত প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরু করেন।

ডা শফিকুর রহমান বলেন, সিলেট হচ্ছে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী। হযরত শাহজালাল (র.) তৎকালীন জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন। আমরা তারই উত্তরসূরী। বাংলাদেশে গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলেছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে ২০২৪ এর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরই আমরা বলেছিলাম, দল হিসেবে জামায়াত কোন জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কথা রেখেছেন। দল হিসেবে আমরা প্রতিশোধ নেইনি। মামলা বাণিজ্য করিনি। কিন্তু অনেকে মামলা বাণিজ্য করেছে। জুলুম করেছে।

বক্তব্য শেষে জামায়াত আমীর সিলেটের ৬টি ও সুনামগঞ্জের ৩টি আসনের জামায়াত ও জোটের প্রার্থীদের হাতে স্ব স্ব দলীয় প্রতীক তুলে দেন এবং তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়, ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রার্থীগণ বক্তব্য রাখেন। এর আগে জামায়াত আমীর হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।

সিলেট খনিজ সম্পদে ভরপুর উল্লেখ করে আমীরে জামায়াত বলেন, সিলেটের খনিজ সম্পদের হিস্যা সিলেটবাসী পাচ্ছে না। সিলেটের সব এলাকায় এখনও গ্যাস যায়নি। বিদ্যুৎ যায়নি সব জায়গায়। নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। মদ গাঁজা- জুয়ায় ছেয়ে গেছে সিলেট। আমরা দায়িত্ব পেলে এগুলো বন্ধ করবো। কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব হবে বাংলাদেশ। এই দেশে কেউ আর চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কোন অফিস আদালতে কারো ঘুষ নেওয়ার সাহস ও সুযোগ হবে না।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সিলেট মহানগরী আমীর ও মহানগর ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সিলেটের ৬টি আসন ও সুনামগঞ্জের ৩টি আসনের জোট প্রার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিগত দিনের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেস্তা ছিলেন না। সবাই চুরি করেছেন কেউ কম বা কেউ বেশি। যারা জনগণের টাকা চুরি করেছে আমরা দায়িত্ব পেলে তাদের শান্তি দেবো না। তাদের মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনবো। দুর্নীতি বন্ধ হলে, চুরি বন্ধ হলে উন্নয়নও হবে।

সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু কোন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না। আমরা নামে নয় কাজে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করবো।

জামায়াত আমীর বলেন, আমরা কৃষকদের কাছে সরঞ্জাম তুলে দেবো। কৃষিপণ্যের বাজার নিশ্চিত করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে। জাল যার জলা তার হবে। চা বাগানের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।

নিজের এক্স একাউন্টের একটি পোস্ট নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, একদল মা বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে। আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমানজনক পোস্ট দিয়েছে। এখন তারা কী বলবে, চোরেরা তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখন তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি। আমি আর এ নিয়ে কথা বলবো না।

সবশেষে তিনি বলেন, আমি এই সিলেটের সন্তান। আমি এখানে আপনাদের কোলে লালিত হয়েছি। আজ জামায়াতের আমীর হিসেবে নয়, আপনাদের একজন হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একবার সুযোগ দেন। আমরা দেশের মালিক বনবো না। আপনাদের চৌকিদার হবো। যার যা মর্যাদা তা নিশ্চিত করবো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জাগপার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

রাশেদ ইকবালের পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সুচীত জনসভায় বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও সিলেট-৬ আসনে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমীর ও সিলেট-১ আসনে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টীম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, সুনামগঞ্জ জেলা আমীর ও সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান, সিলেট জেলা নায়েবে আমীর হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, সাবেক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর সভাপতি হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান ও সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শাহীন আহমদ।

জনসভা শেষে ১১ দলীয় জোট মনোনীত সিলেট-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা, সিলেট-২ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর হাতে দেয়াল ঘড়ি, সিলেট-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজুর হাতে রিক্সা, সিলেট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের হাতে দাঁড়িপাল্লা, সিলেট-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রাথীয় মুফতি আবুল হাসানের হাতে দেয়াল ঘড়ি ও সিলেট-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। এছাড়া জনসভায় সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খানের হাতে দাঁড়িপাল্লা, সুনামগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী এডভোকেট শিশির মনিরের অনুপস্থিতিতে তার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক গ্রহণ করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী এডভোকেট শামছ উদ্দিনের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম মাদানীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে কেউ পীর, দরবেশ, মুফতি হয়ে মানুষের কাছে ভোট চায়, আসলে তারা প্রতারক। ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে হেয় করা হবে। কারো সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হবে না। কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না। দেশকে বিভক্ত করতে দেয়া হবে না।’

গতকাল শনিবার হবিগঞ্জের নিউফিল্ড ময়দানে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘১১ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে কারো হাতে বেকার ভাতার কার্ড দিয়ে বেইজ্জতি করা হবে না, যুবক কর্মক্ষম মানুষের হাতে মর্যাদার কাজ তোলে দেয়া হবে। কাজ করে তারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। গ্রামে গ্রামে কৃষি ভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তুলা হবে, গ্রামকে শিল্প বানানো হবে। মানুষ নিজের এলাকায় থেকে মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাগজের সার্টিফিকেট সরবরাহের মাধ্যম না বানিয়ে অভিজ্ঞ মানুষ তৈরীর প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলা হবে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আমাদের কেউ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেবেন না। স্বল্পমূল্যে প্লট ফ্ল্যাট নেবেন না। প্রতিবছর সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দিতে বাধ্য থাকবেন। ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ছিল না কিন্তু এই সময়ের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে মানুষের পাশে থাকতে হয়। ক্ষমতা পেলে সেই দায়িত্ব আরো বেড়ে যাবে, মানুষকে ফেলে আমরা কোথাও পালিয়ে যাব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘৫৪ বছরের একটি দেশ উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছে, কিন্তু দুর্নীতির কারণে দেশ এগুতে পারেনি। ২৮ লক্ষ কোটি টাকা শুধু ১৫ বছরেই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখনো বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয়, চাঁদাবাজি হয়, মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন হয়। এসব অপরাধের সুযোগ করে দেয়ার জন্য ১৯৭১ সালে আমার ভাইসহ লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধ করেনি।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটির উপরে সম্পদ, নিচে সম্পদ, পানিতে সম্পদ, পানির গভীরে সম্পদ, এদেশ উন্নয়নের উঁচ্চ শিখরে না পৌঁছার কোনো কারণ ছিল না, দুর্নীতি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মামলাবাজদের হাত ভেঙে দেয়া হবে। হবিগঞ্জ জেলাকে দেখলে মনে হয় হবিগঞ্জের সাথে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ করা হয়েছে, নিজস্ব কোনো ক্যাম্পাস নেই। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। চা বাগান আছে কিন্তু চা শ্রমিকদের জীবন মানের উন্নতি করা হয়নি। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে উন্নয়ন বঞ্চিত জেলাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।’

হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জ-১ আসনে রিকশা প্রতীকে এমপি প্রার্থী খেলাফত মজলিশের মুফতি সিরাজুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-২ আসনে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে এমপি প্রার্থী মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, হবিগঞ্জ-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ, হবিগঞ্জ-৪ আসনে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের এমপি প্রার্থী ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির জিএস মাজহারুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ থেকে সদ্য জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী নেতা অ্যাডভোকেট চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান, নেজামে ইসলামী পার্টির সিলেট মহানগরীর সেক্রেটারি জুবায়ের আহমেদ খান, জুলাই যোদ্ধা আবু শাহেদ, জুলাই যোদ্ধা মুহিত মিয়া, এনসিপি হবিগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক সাবেক ভিপি আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোট হবে বাংলাদেশ বদলে দেয়ার ভোট। এটা ২৪এর যোদ্ধাদের আকাক্সক্ষার ভোট। এই ভোটের সাথে গণভোট হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে আমরা একটি পরিবতিত বাংলাদেশ পাবো। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত মানুষ পরিবর্তন চায়। যেদেশ দুর্নীতিতে সেরা হয়, সেদেশ আমার দেশ নয়। এই দেশে কোন দুর্নীতি হবে না। চাঁদাবাজ থাকবে না।

কুলাউড়ার কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান গতকাল শনিবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা ফুটবল খেলার মাঠে ১১ দল আয়োজিত ঐতিহাসিক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সারাবিশ্ব সামনের দিকে আগাচ্ছে আর আমরা পেছনের দিকে যাচ্ছি। প্রবাসীরা এদেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে প্রবাসী অধ্যুষিত এই সিলেট বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর না হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্বের সাথে যোগাযোগে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আমি যদি সুযোগ পাই তাহলে সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তিরিত করবো। তাছাড়া প্রবাসে কোন রেমিটেন্স যোদ্ধা মারা গেলে তার লাশ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেশে আনা হবে। প্রয়োজনে প্রবাসী পরিবারের দায়িত্ব সরকার বহন করবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এ দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। যুবকরাই ২৪এর আগস্টে আন্দোলন করে নতুন স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। চিন্তা করেন ৫ আগস্টের আগে আমাদের সভা করার, বক্তব্য দেয়ার কোন সুযোগ ছিলো না। যুবকরাই আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আবু সাঈদ থেকে ওসমান হাদি যাদের রক্তে আমরা আজকের এই দেশ পেয়েছি।

মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও মৌলভীবাজার ০২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি ইয়ামির আলীর সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রিয় জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান, সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুর রব, লেবার পার্টি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি শাহ মাছুম ফারুকী, এনসিপি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফারুক উদ্দিন সুন্দর প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিঃস্বার্থ একটি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। দেশ বিদেশ থেকে আমাকে কুলাউড়া থেকে নির্বাচন করার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি দুটি আসন থেকে নির্বাচন করতে পারি না। তবে কুলাউড়ায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী নির্বাচিত হলে তিনি হবে এমপি। তবে ছায়া এমপি হিসেবে আমিও থাকবো তার পাশে। সুতরাং আপনারা এখানে দু’জন এমপি পাবেন।

এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কৃষক শ্রমিক আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাই আইনের চোখে সমান। কিন্তু এদেশের আইন সমান নয়। আমরা ইনসাফ ও সুবিচারের বাংলাদেশ গড়তে চাই।

বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার ০১ আসনের সংসদ সদস্য (বড়লেখা- জুড়ী) পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম ও মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলীকে পরিচয় করিয়ে দেন।