ফেনী সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৫ নং ফেনী-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট এস. এম. কামাল উদ্দিন-এর মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

৪ জানুয়ারি, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যাদি পর্যালোচনা শেষে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ফেনী জেলা আমির, জনাব মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান। পাশাপাশি জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

নেতৃবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ফেনী-১ আসনের জনগণ ন্যায়, সততা ও আদর্শের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে রায় প্রদান করবেন বলে তারা আশাবাদী।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় বিশ্বাসী।

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার চারটি আসনে দাখিলকৃত ৩৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে জামায়াতের ৪ প্রার্থীসহ ২৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৬টি বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন। এর মধ্যে পাঁচজন স্বতন্ত্র ও একজন দলীয় প্রার্থী রয়েছেন।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে শুরু করে ১২টা পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই বাছাইকালে এ তথ্য জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

কুষ্টিয়ার ৪টি আসনে জামায়াতের প্রার্থী কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে অধ্যক্ষ বেলাল হুসাইন, কুষ্টিয়া-২ মিরপুর ভেড়ামারা আসনে আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে মুফতি আমীর হামজা ও কুষ্টিয়া-৪ খোকসা কুমারখালী আসনে আফজাল হুসাইনকে বৈধ প্রার্থী ঘোষনা করা হয়।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা এবং জেএসডির গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে হাবলু মোল্লার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আল আহসানুল হকের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুমারখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির খাইরুল ইসলাম এ তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, খাইরুল ইসলাম সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। বিধি অনুযায়ী অব্যাহতি না থাকায় তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে, আর শেখ সাদী ও আনসার প্রামাণিকের মনোনয়নপত্রে ভুল থাকায় তা বাতিল করা হয়।

তবে বড় দলের মনোনীত কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা ও নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বাগমার (রাজশাহী) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বাগমারায় ৪জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ। এতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. আব্দুল বারীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে হলফনামাসহ সকল কাগজপত্র সঠিক পাওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত দেন।

ডা. মো. আব্দুল বারী একজন সৎ, শিক্ষিত ও সমাজসেবায় নিবেদিত ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানবসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় বাগমারার ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং জনকল্যাণমূলক চিন্তাভাবনা এলাকার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলুল হক এর দলী নমিনেশন পত্র, হলফনামায় স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে তাঁর মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়। একই ভাবে ইসলামী আন্দোলনের তাজুল ইসলাম খাঁন এর ফরমে হলফনামায় স্বাক্ষর নেই, ফরমে নিজের ও ২০, ২১ শের ফরমে স্বাক্ষর তথ্য-উপাথ্যের মিল নেই। এতে আইনগতভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বাতিলকৃতরা তাঁরা মহামান্য হাইকোর্টে আ্যপিল করে পারবেন বল জানানো হয়েছে। ।

খুলনা ব্যুরো : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সামনে রেখে খুলনা জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ৬টি আসনে ৩৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬টি আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ৩৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কারণে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর আগে এ ছয়টি আসনের জন্য মোট ৫৬ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

খুলনা-১ আসনে (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বৈধ ঘোষণা হওয়া ১০ প্রার্থী হলেন, ইসলামী আন্দোলনের মো. আবু সাঈদ, বিএনপির আমির এজাজ খান, জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ফিরোজুল ইসলাম, জেএস ডির প্রসেনজিৎ দত্ত, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জাতীয় পার্টি প্রবীর গোপাল রায়, বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদ সুব্রত মন্ডল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি কিশোর কুমার রায়, জাতীয় পার্টির সুনীল শুভ রায়, ইসলামী ফ্রন্ট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

খুলনা-২ আসনে (খুলনা সদর-সোনাডাঙ্গা) চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আমানুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম।

খুলনা-৩ আসনে (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী-আড়ংঘাটা) মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মো. আব্দুল আউয়াল, বিএনপির রকিবুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, বাসদের জনার্দন দত্ত, এনডিএমের শেখ আরমান হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এফ এম হারুন অর রশীদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ খান লিটন ও মঈন মোহাম্মদ মায়াজ।

খুলনা-৪ আসনে (রূপসা-তেরখাদা-দিঘরিয়া) মোট ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলনের ইউনুস আহম্মেদ সেখ, বিএনপি’র এস কে আজিজুল বারী, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এস এম সাখাওয়াত হোসাইন ও জামায়াতে ইসলামীর মো. কবিরুল ইসলাম।

খুলনা-৫ আসনে (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) মোট ৬জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর গোলাম পরওয়ার, বিএনপি’র মোহাম্মদ আলি আসগার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলাদার ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আব্দুল কাইউম জমাদ্দার।

খুলনা-৬ আসনে (কয়রা-পাইকগাছা) মোট ৬জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন-বিএনপি’র এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলনের মো. আছাদুল্লাহ ফকির ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মন্ডল।

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) থেকে ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে দাখিলকৃত ২৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা এ তথ্য জানান। জেলা প্রশাসক জানান, যাচাই-বাছাই শেষে বিধি-বিধান অনুসরণ করে অযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ-১ আসন : এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আলী বেপারী, জনতার দলের প্রার্থী, মোহাম্মদ শাহজাহান খান।

আসনে মনোনয়ন পত্র বৈধ বিএনপির এস এ জিন্নাহ কবীর, জামায়াতের ডাঃ আবু বকর সিদ্দিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মোজাম্মেল হক তোজা, বাংলাদেশ মাইনোরিটি কমিউনিটির দিলিপ কুমার দাস, ইসলামী আন্দোলনের মোঃ খোরশেদ আলম, গন অধিকার আন্দোলনের মোঃ ইলিয়াস হোসেন ও খেলাফত মজলিসের হেদায়েত উল্লাহর।

মানিকগঞ্জ-২ আসন : এ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবিদুর রহমান, বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হক জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম আবদুল মান্নান। এখানে মনোনয়পত্র বৈধ ঘোষিত হয় সাবেক এমপি, বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, খেলাফত মজলিসের মোঃ সালাউদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আলীর।

মানিকগঞ্জ-৩ আসন : এই আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা, স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, এবি পার্টির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জনি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক হোসেন।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম (রিতা), জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মুহাম্মাদ দেলোয়ার হোসাইন, জেপির আবুল বাশার বাদশা, বাংলাদেশ জাসদের মোঃ শাহজাহান আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম খান কামাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোঃ সাঈদ নূর, জাতীয় পার্টির মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস ও ইসলমী আন্দোলন বাংলাদেশের শামসুদ্দিনের মনোনয়ন বৈধ বলে গন্য হয়।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠির দুই সংসদীয় আসন, ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ এ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, ৮ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ৪ জনের মনোনয়ন স্থগিত রেখেছে।

ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালসহ ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া ঋণ খেলাপি ও এক শতাংশ ভোটার তালিকার সঠিকতা না থাকায় চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর ফয়জুল হক ও জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী রুবেল হাওলাদারের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ও জামায়াতে ইসলামীর শেখ নেয়ামুল করিম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ওওওও৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঋণ খেলাপির কারণে জাতীয় পার্টির এম এ কুদ্দুস খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া এক শতাংশ ভোটার তালিকার সঠিকতা না থাকায় দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর ও জেএসডির প্রার্থী মাসুদ পারভেজের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাতিল ও স্থগিত প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নড়াইল সংবাদদাতা : নড়াইলের দু’টি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,খেলাফত মজলিসসহ মোট ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা করা হয়েছে। দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ¯’গিত ও ১৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রার্থী, প্রস্তাবকারী, সমর্থনকারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপ¯ি’তিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম এ ঘোষনা দেন। এ সময় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহা: আ: ছালেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আহসান মাহমুদ রাসেল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সারমিনা সাত্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হোসনে আরা তান্নি,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি.এম. রাহসিন কবির, নড়াইল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র প্রার্থী আতাউর রহমান বা”চু, নড়াইল-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো: ওবায়দুল্লাহ কায়সারসহ প্রার্থীরা উপ¯ি’ত ছিলেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডক্টর মোহাম্মদ আবদুল ছালাম জানান, দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যথাযথ থাকায় নড়াইল-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো: ওবায়দুল্লাহ কায়সার, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আব্দুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিলটন মোল্যা, স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক বি. এম. নাগিব হোসেনের মনোনয়নপত্র ¯’গিত রাখা হয়েছে।¯’গিত হওয়া প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজ দাখিল সাপেক্ষে তাদেরকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করা হবে।এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আজিজসহ ১০ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

নড়াইল-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র প্রার্থী আতাউর রহমান বা”চু, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে’র প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম,স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মনিরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল হান্নান সর্দার এবং মুক্তিজোটের প্রার্থী শোয়েব আলীর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষনা করা হয়েছে। এ আসনে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

শেরপুর জেলা সংবাদদাতাঃ ৩ জানুয়ারি শনিবার শেরপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাছাই বাছাই শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির মনোনীত এমপি প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে শেরপুর ১ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মোঃ রাশেদুল ইসলাম (রাশেদ)-এর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া শেরপুর ২ (নালিতাবাড়ী নকলা) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ গোলাম কিবরিয়া এবং শেরপুর–৩ (শ্রীবরদী ঝিনাইগাতী) আসনে আলহাজ্ব মোঃ নুরুজ্জামান বাদল-এর মনোনয়নপত্রও যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার খবরে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সন্তোষ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারবেন মনোনীত প্রার্থীরা।

চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই রবিবার (৪জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় ভোলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংসদীয় আসন ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা ১১৮) ২জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৫জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন ভোলা জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান।

এ আসনে যে সকল প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতায়ীতাবাদী দল (বিএনপি) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জাপা) মোঃ মিজানুর রহমান, আম জনতার দলের জালাল উদ্দিন রুমি ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আবুল কালাম।

ভোলা-৪ আসনে সম্পদের বিবরণে আয়কর রিটার্নের গড়মিল থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল মোকাররম মো: কামাল উদ্দিন এবং সমর্থকদের ভোটার তালিকায় ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের প্রার্থীতা বাতিল করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান।

উল্লেখ্য, এ আসনে বিভিন্ন দলের ৭জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্য থেকে ২জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাকি ৫জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বাহুবল (হবিগঞ্জ) : হবিগঞ্জ ১ (নবিগঞ্জ - বাহুবল) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাড়িপাল্লার প্রার্থী জননেতা মোঃ শাহজাহান আলীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় জননেতা শাহজাহান আলী বলেন দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আমার মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। আজকের শুনানি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না, রাজনীতি করি গন মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য। হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রতিটি জনগণ আমার শক্তি ও অনুপ্রেরণা। এ আসনের উন্নয়ন, শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আমি নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।”

নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে শাহজাহান আলী বলেন, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্তুষ্ট। অতীতে প্রশাসনের দলীয় আচরণ দেখেছি, কিন্তু এখন সকল প্রার্থীর প্রতি একটি নিরপেক্ষ আচরণ লক্ষ্য করছি। এটি একটি বড় পরিবর্তন। আমরা আশা করি এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং দেশে স্থায়ীভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা শাহজাহান আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মানবসেবা, শিক্ষা উন্নয়ন, সড়ক–পুল–বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো উন্নয়ন আন্দোলন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবি এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি একজন পরিচ্ছন্ন, নীতিবান ও উন্নয়নমুখী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতোমধ্যে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।

স্থানীয় গণমানুষের কাছে দাড়িপাল্লা প্রতীক এখন ন্যায়বিচার, সমতা, দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি ও সেবামুখী নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ইমাম, তরুণ প্রজন্মসহ সর্বস্তরের জনগণ বলছেন “শাহজাহান আলী শুধু একজন প্রার্থী নন, তিনি এই আসনের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার নাম। তাঁর মতো যোগ্য, বুদ্ধিমান ও সৎ নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি।”

৮ দলীয় জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ-১ আসনে জনগণের স্বার্থ রক্ষা, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং স্বচ্ছ রাজনীতি নিশ্চিত করতে শাহজাহান আলীর বিকল্প নেই। তাই সমঝোতা ও বিশ্লেষণ শেষে তাঁকে যৌথ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

এখন পুরো এলাকায় একটাই আলোচনা হবিগঞ্জ-১ আসনে সমতার দাড়িপাল্লা, উন্নয়নের শাহজাহান আলীই সবার প্রত্যাশা।

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শায়খ ডক্টর অধ্যাপক মাওলানা মোঃ আব্দুস সামাদ এর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী ভি.পি. আয়নুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শায়খ ডক্টর অধ্যাপক মাওলানা মোঃ আব্দুস সামাদ এর মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং খেলাফত মজলিসের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বচ্ছতা ও নির্বাচন বিধিমালা অনুসরণ করেই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

মতলব উত্তর চাঁদপুর : চাঁদপুর -২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৬ জনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১ জন প্রত্যাহার।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় চাঁদপুর জেলা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী নাসিমা নাজনীন সরকারের মনোনয়ন ঋণ খেলাপি হওয়ায় (যমুনা ব্যাংক) অবৈধ ঘোষণা করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর হুদার মনোনয়ন বাতিল করা হয় প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে।

বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ফয়েজুন্নুর আখন রাসেলের মনোনয়ন হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একই কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মানছুর আহমেদ সাকী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আবদুল মোবিনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়।

এছাড়া এবি পার্টির প্রার্থী রাশিদা আক্তার মিতুর মনোনয়ন হলফনামায় শনাক্তকারীর স্বাক্ষর না থাকায় অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অপরদিকে, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী বি এম গোলাপ হোসেন, নাগরিক ঐক্যের মো. এনামুল হক, জাতীয় পার্টির এমরান হোসেন মিয়া, এলডিপির বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এবং বিএনপির প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তারা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মনোনয়ন বৈধ প্রমাণের চেষ্টা চালাবেন।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ শুককুর পাটোয়ারী ইতোমধ্যে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে চাঁদপুর-২ আসনে বর্তমানে মোট ৫ জন প্রার্থী বৈধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন। আগামী নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আপিল ও প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন প্রশাসন।

মোংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন প্রার্থী এবং তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে মোট ৩২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ৫টি মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ২৭টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর মধ্যে বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মোট ৩টি, বাগেরহাট-২ আসনে এলডিপির ১টি এবং বাগেরহাট-৪ আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ডক্টর লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ জিল্লুর রহমান, এনসিপির মো. রহমাতুল্লাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি-রব)-এর মো. হাবিবুর রহমান এবং চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৩—এই তিনটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি আসনেই তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বাগেরহাট-২ আসনে রাজনৈতিকভাবে একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ আসনে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক দুই সভাপতি, আপন দুই ভাই এম এ এইচ সেলিম ও এম এ সালাম—উভয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন। যাচাই-বাছাই শেষে উভয়ের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ায় বাগেরহাট-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাদের দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চূড়ান্ত হয়েছে।

বরগুনা সংবাদদাতা : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ন্যায় বরগুনা ১ ও ২ আসনে শেষ হয়েছে মনোনয়ন পত্র বাছাইয়ের কাজ। বরগুনার এই দুটি আসনে মোট ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে বেলা ১১টায় ১০৯ বরগুনা ১ আসন ও বেলা ১২টায় ১১০ বরগুনা ২ আসনের মনোনয়ন পত্র বাছাই সম্পন্ন করা হয়।

যাচাই বাছাই শেষে বরগুনা ১ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান এর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ৩টি কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রির্টার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ তাসলিমা আক্তার। ঋণ খেলাপি, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও হলফনামা জমা না দেয়ার কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা,জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ মুহিবুল্লাহ,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মনোনীত প্রার্থী মোঃ অলি উল্লাহ, খেলাফত মজলিস এর মনোনীত প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোঃ জামাল হোসাইন এর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

অপরদিকে বরগুনা ২ আসনে মনোনয়ন জমা দেন ১২ জন প্রার্থী।

মনোনয়ন বাছাই শেষে ৪ জন প্রার্থীর মনোনার বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আমজনতা পার্টির প্রার্থী আলাউদ্দিন আকাশ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী সোলায়মান হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রাশেদুজ্জামান।

এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি,জামায়েত ইসলামের প্রার্থী সুলতান আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মিজানুর রহমান ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল লতিফ ফরাজীকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।