নির্বাচন ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য (ঢাকা-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী) এডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার বলেছেন, ‘‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে দাঁড়িপাল্লার এক অভাবনীয় বিপ্লব অর্জিত হবে’’। তিনি বলেন, সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জোয়ার হচ্ছে বিগত ৫৪ বছরের অন্যায়-অনাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে। নতুন বাংলাদেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজের কোনো ঠাই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে বাংলাদেশ এক কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এজন্য দেশের নারী-পুরুষ, কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কিন্তু অতীতে যারা জাতির উপর জুলুম করেছে, যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসী করেছে তারা নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করতে পারে। তারা ক্ষমতা দখলের জন্য মরিয়া ওয়ে উঠবে। এরই অংশ হিসেবে তারা সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। কিন্তু সকল ভয়কে জয় করার মাধ্যমে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল রোববার সকালে ঢাকা-১০ আসনের উদ্যোগে মহিলা কর্মীদের অংশগ্রহনে নির্বাচনী মিছিল পূর্বক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী মিছিলে হাজার-হাজার মহিলা কর্মী অংশগ্রহন করেন। মিছিলটি জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে ইবনে সিনা, সিটি কলেজ, মিরপুর রোড, কলাবাগান, সোবহান বাগ মসজিদ হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ মাধ্যমে শেষ হয়।
এসময় তিনি আরও বলেন, জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র ও ব্যালট পাহারা দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্র দখল হতে দেওয়া যাবে না। ব্যালট কারচুকি করে ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন করতে দেওয়া যাবে না। প্রশাসনের কিছু লোক একটি দলের সঙ্গে আতাঁত করে ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন করার চেষ্টার ছক আঁকছে। কারণ ঐ দলকে ক্ষমতায় বসাতে পারলে তাদের অতীত অপকর্মের দায়মুক্তি পাবে। তারা নিজেদের অপকর্মের দায়মুক্তির জন্য জনগণের ভোট কারচুপি করে একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করবে। প্রশাসনের ভেতরে এবং বাহিরে নির্বাচন নিয়ে যত ষড়যন্ত্র হোক না কেন সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উপস্থিত নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেই হাত মা-বোনদের হিজাব ধরে টান দেয়, যারা মা-বোনদের পেটে লাথি মারে তাদের ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিহত করতে হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা -১০ আসন কমিটির পরিচালক অধ্যাপক নূর নবী মানিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৭ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী জোন পরিচালক শেখ শরীফ উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা-১০ আসন কমিটির নারী সমন্বয়ক ড. ফেরদৌস আরা খানম বকুল, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য সেলিনা পারভীন, কামরুন্নাহার তুরানী। আর উপস্থিত ছিলেন নিউমার্কেট থানা আমীর মাওলানা মহিব্বুল হক ফরিদ, কামরাঙ্গীরচর পশ্চিম থানা আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কলাবাগান পূর্ব থানা আমীর জাহিনুর রহমান, হাজারীবাগ দক্ষিণ থানা আমীর আখতারুল আলম সোহেল, ধানমন্ডি থানা কর্মপরিষদ সদস্য মো. আনিসুজ্জামান প্রমুখ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে বগুড়া-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লার সমর্থন মিছিলে নারীদের বিপুল উপস্থিতি এলাকায় রাজনৈতিক ছবি উল্টেপাল্টে দিয়েছে। গতকাল রোববার সকালে কাহালু পৌর এলাকায় জামায়াতের মহিলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলের উপস্থিতি ড়ৎমধহরংবৎং-কেও অবাক করেছে। স্থানীয় ভোটাররা আশাবাদী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নারীদের সমর্থনে জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত হতে পারে।
বগুড়া-৪ আসন গঠিত কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার উপর ভিত্তি করে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী এখানে মোট ভোটার ৩,৫৬,৯৯৮ জন; এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৭৬,৯৪১ জন, নারী ভোটার ১,৮০,০৪৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ৮ জন। ঐতিহ্যগতভাবে এই আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে।
জামায়াতের পূর্বনির্ধারিত প্রার্থী কাহালু উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা তায়েব আলী ইন্তিকালের পর নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যাওয়ায়, দলের আমীর ডা: শফিকুর রহমান প্রবাসে থাকা আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব সংগঠন ইফসু’র সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজকে দেশে ডেকে এনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। গ্রামীণ জনসেবায় নিজেকে নিবেদিত এই তরুণ নেতা অল্প সময়ের মধ্যে কাহালু ও নন্দীগ্রামের মানুষের হৃদয় জয় করেছেন।
রোববারের নারী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বক্তব্যে বলেন, “ক্ষমতায় গেলে নারীদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান, নিরাপদ চলাচল এবং পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপদ ব্রেস্টফিডিং সুবিধা নিশ্চিত করব।
সমাবেশ শেষে মিছিল রেডরোজ কিন্ডারগার্টেন স্কুল থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় প্রদক্ষিণ করে কাহালু পৌরসভার সামনে শেষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এতে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি নারী অংশগ্রহণ করেন।
ড. মোস্তফা সকল নারীদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপা ল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : জামায়াতের কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী মুফতি আমীর হামজার পক্ষে কুষ্টিয়া শহরে মহিলা জামায়াতের স্মরণকালের বৃহৎ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে কয়েক হাজার মহিলা অংশ গ্রহণ করেন। কুষ্টিয়া জেলা ও শহর জামায়াতের মহিলা বিভাগের কর্মী ও সমর্থক ছাড়াও সাধারণ মহিলারাও এ মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গন মিছিলটি কুষ্টিয়া আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষ মজমপুর এনএস রোডে শেষ হয়।
স্মরনকালের মিছিলটি কুষ্টিয়া শহরের সবখানে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। এ মিছিলই জামায়াতের বিজয়ের সুবাতাস চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানান কুষ্টিয়ার সাধারণ জনগন।
নোয়াখালী সংবাদদাতা : নির্বাচনকালীন সময়ে নারী হেনস্তার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ভোট কেন্দ্র ও এর আশেপাশে নারী ভোটারদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন সহ নারী ভোটার ও নারীকর্মীদের হয়রানির হেনস্তার প্রতিবাদে, ভ্রাম্যমান আদালত কার্যক্রম জোরদার করা সহ পাঁচ দফা দাবিতে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এর বরাবরে স্মারক লিপি প্রদান করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ।
গতকাল রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এর আগে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিএনপি’র সশস্ত্র ক্যাডাররা নানাভাবে মহিলা জায়ামাতের কর্মী ও নেত্রীদেরকে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে বাধা দিচ্ছে। সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের নেত্রী ও কর্মী বোনদেরকে হেনস্থা করছে। প্রকাশ্যে মা-বোনদেরকে লাথি মারছে, মাথায় আঘাত করছে,বস্ত্র খুলে নেওয়া হুমকি দিচ্ছে,১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছে।
এসময় নোয়াখালী জেলা জামায়াতের মহিলা শাখার জেলা সেক্রেটারি নাজনীন আক্তার, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য রেহানা বিনতে আলী,নোয়াখালী শহর শাখা সভানেত্রী কামরুন্নাহার ফাতেমা শহর কর্ম পরিষদ সদস্য জান্নাতুল মাওয়া সুলতানা রাজিয়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হেনস্থার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রোববার দুপুরে ছাতক উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাতক দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ-৫) আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট রেজাউল করিম তালুকদার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের সেওতরপাড়া গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কয়েকজন নারী কর্মী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণে অংশ নেন। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজিজুর রহমান তাদের প্রচারণায় বাধা প্রদান করেন এবং নারী কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দিয়ে প্রচারণা বন্ধ করতে বলেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যার পর গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় জামায়াতে ইসলামী’র নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভকারীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এদিকে, এ ঘটনার পর ছাতক উপজেলা বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল করিম বকুলের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর খুরমা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজিজুর রহমান কর্তৃক জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় দল আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।