গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী: গাইবান্ধার ৫টি আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে এক জরিপে জানাগেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবং ৩৬জুলাইয়ের পর জামায়াতের সমর্থন বহুগুন বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। গোটা দেশে যে জোয়ার শুরু হয়েছে গাইবান্ধা তার ব্যতিক্রম নয়। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রচার প্রচারনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগ উঠান বৈঠক ও সভাসমাবেশে সময় পার করছেন তারা। বিভিন্ন দলের পুরুষ মহিলা নেতাকর্মীরা বসে নেই। এদিক থেকে প্রচার প্রচারে ১ম সারিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা, তবে অন্য দলের প্রার্থীরাও পিছেয়ে নেই। সরজমিনে গাইবান্ধার ৫টি নির্বাচনি আসনে ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র এবার সব হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। ৫টি এলাকার প্রাথী ও তাদের সমর্থক এবং ভোটারসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে এবারে তারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য ৩৬ জুলাইয়ের চেতনায় নতুন নেতৃত্বের দিকে বেশি মতামত দিয়েছেন। পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে দল ভূমিকা রাখবে সেই দলকে তারা বেছে নিবে এবং জয়যুক্ত করবে। তবে এ ৫টি আসনে পুরুষের চাইতে মহিলা এবং নতুন ভোটার একটা ফ্যাক্টর। এই দুই শ্রেণির ভোটার যেদিকে গড়বে সেদিকে বা সেই দলের প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এবারের জেলায় ৭টি থানায় ও ৪টি পৌরসভা নিয়ে মোট ভোটারের সংখ্যা ২১ লক্ষ ৯০ হাজার ৪০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১০ লক্ষ ৮২ হাজার ৪৩৭জন ও মহিলা ভোটার ১১লক্ষ ৭ হাজার ৯৬৪জন। সর্বপ্রথম গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এই আসনের মোট ভোটার হচ্ছে ৪ লক্ষ ১৯ হাজার ১১১ জন এরমধ্যে পুরুষ ভোটার হচ্ছে ২ লক্ষ ৭ হাজার ৫শত ৭৩জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্য ২ লক্ষ ১১ হাজার ৫শ ৩৫জন। এই আসনের জামায়াতের হেভিয়েট প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক ছাত্র নেতা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমান তিনি বর্তমানে সবার উপরে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে অবস্থান করছেন। তাছাড়া এই সুন্দরগঞ্জ আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত। বিগত দিনের ইতিহাসে তাই পাওয়া যায়। শুধুমাত্র ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময় এই আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে চলে যায়। সেটি ভোটের মাধ্যমে নয়। জোর-জবরদস্তি সেন্টার দখল হুমকি ধামকি দিনের ভোট রাতে বিভিন্ন কারণে তারা আসনটি ধরে রাখে। জাতীয় পার্টীও কয়েকবার এই আসনে জয়ী হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে ৩৬ জুলাইয়ের পর সবকিছুই উল্টে গেছে। আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টীর ব্যাপারে এই এলাকার মানুষ খুবই ক্ষুব্ধ। তারা আরও স্বৈরাচার এবং তার দোসরকে ভোট দিতে চায়না। যদিও এ আসনে জাতীয় পাটীর সেক্রেটারী শামীম হায়দার পাটোয়ারী থাকলেও জনগনের মাঝে তার ইমেজ নেই। অপরদিকে বিএনপি’র প্রার্থী ডা. জিয়াউল হক নতুন মুখ হওয়ায় জনগনের মাঝে সেই রকম সারা নেই। মূলত স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে মোস্তফা মহসিন মন্টু এলাকার জনগণের সমর্থনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় শিল্পপতি হিসেবে পরিচয় থাকলেও জনগন তাকে সেই ভাবে মূল্যায়ন করছে না। মূলত জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমান। দীর্ঘদিন থেকে এই এলাকায় সাংগঠনিক কাজের মাধ্যমে এবং ব্যাপক উন্নয়নকর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে জনগণের মধ্যে তার ব্যাপক সারা পরেছে। আগামী নির্বাচনে জনগন সৎযোগ্য এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ করে ন্যায় ইনসাফ কায়েমের জন্যই মূলত জামায়াতের প্রার্থীকে বেছে নিতে চায়। এলাকায় প্রত্যন্তঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে এই অবহেলীত এলাকায় বিগত জোট সরকারে আমলে জামায়াতের প্রার্থী মরহুম মাওলানা আব্দুল আজিজ এমপি হয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন। তার ধারবাহিকতায় সেই উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যহত রাখার স্বার্থে জনগন এবার জামায়াতের প্রার্থীকে বেছে নিতে চায়। অপরদিকে বিগত সরকারে আমলে সবচেয়ে বেশি জুলুমের স্বীকার হয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুধু তাই নয় তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করায় জনগণ এটাকে সহজে মেনে নিতে পারছে না। সব মিরিয়ে জামায়াতের জনপ্রিয়তা এখানে সারাদেশের ন্যায় বেড়ে চলছে। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, যেহেতু সুন্দরগঞ্জের রামজীবনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং ছাত্রজীবন থেকে এখানে মানুষ হয়েছি লেখাপড়ার পাশাপাশি ইসলামী ছাত্র আন্দোনে কেন্দ্র পর্যন্ত ব্যাপক স্বক্রীয় ভূমিকা রেখেছি। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদিয়ে এলাকার গরীব দুখী অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি এবং এলাকার উন্নয়ন করেছি সেই কারণে শতভাগ আশাবাদী, জনগণ আমাকে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন। মূলত এই আসনে উপরে উল্লেখিত স্বতন্ত্রপ্রাথী মোস্তফা মহসীন মন্টুর সাথে মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে বলে ভোটাররা জানিয়েছে।

গাইবান্ধা-২ সদর আসন এ আসনে জামায়াতের জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল করিম ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের কারনে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক আকারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী সরকার তার জনপ্রিয়তায় ঈর্শানি¦ত হয়ে অনেক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বহুবার জেল খাটিয়েছে। সে কারনে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। জনগন এবার এগুলো বিষয় চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার তাকে বিজয়ী করবে। অপর দিকে ফ্যাসিস্ট সরকারের একমাত্র টার্গেটকৃত সংগঠন জামায়াতে ইসলামী হওয়ার কারনে এবং শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদেরকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করায় জনগন কোনক্রমেই মেনে নিতে পারছে না। সব মিলিয়ে জামায়াতের প্রার্থী সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। একটি পৌরসভা নিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৪লাখ ১১ হাজার ৪৬০জন পুরুষ পুরুষ ভোটার ২লক্ষ ২হাজার ৩৪জন। মহিলা ২লক্ষ ৯হাজার ৪১৫জন। ভোট সেন্টার ১১৮টি। এই উপজেল ১৩টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কারা নির্যাতিত নেতা আব্দুল করিমের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি। ভোটারদের ধারণা, এই বিএনপি’র সাথে মূলত মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে। তবে জাতীয় পার্টির থেকে আব্দুর রশিদ সরকার অংশগ্রহণ করলেও তার প্রতি মানুষের আগের মত আগ্রহ নেই। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনিসুুজ্জামান খান বাবু বলেন ‘বিগত ১৭ বছর রাজপথে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছি। এই আসনে আমি নির্বাচিত হলে মানুষের উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাব।’

এছাড়াও ভোটারদের মতামত হলো এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দ্বিমুখী। অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে জোর প্রতিযোগিতা হবে। জেলা সদরের আসনটি বিএনপি ও জামায়াত দুই দলের কাছেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ কারণে প্রভাবশালী নেতাদের প্রার্থী করেছে দুই দলই। জামায়াত প্রার্থী দলের জেলা শাখার আমীর ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল করিম সরকার বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এ কারণে এবার গণসংযোগের সময় প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধভাবে নেতা-কর্মীরা দাঁড়িপাল্লা মার্কার পক্ষে কাজ করছেন।’ ‘আমি ইউপি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে অনেক উন্নয়ন করেছি। বিগত সরকারের আমলে বিনা দোষে ২৬ মাস কারাভোগ করেছি। এতে আমার ও দলের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ এখানে আরও প্রচার চালাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল মাজেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাফেজ আবদুল মজিদ। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মিহির ঘোষ কাস্তে মার্কা, বাসদের আহসানুল হাবিব সাইদও জনতার দলের সাহেদুর জাহান প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) ॥ একটি পৌরসভা নিয়ে এ আসনে ২উপজেলা মিলে ইউনিয়ন হচ্ছে ২০টি। মোট ভোটার ৫লক্ষ ৬হাজার ১৮৫জন এর মধ্যে পুরুষ ২লক্ষ ৪হাজার ৯০১জন। মহিলা ভোটার ২লক্ষ ৫৭হাজার ২৭৫জন। জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিককে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে এখানে। জামায়াতের প্রার্থী করা হয়েছে দলের জেলা শাখার কর্মপরিষদ ও শূরা সদস্য এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবুকে। তিনি বিগত সরকারের আমলে বহুবার মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছে। তাকে পুরাপুরি ভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে মিথ্যা মামলায় তাকে আমৃতদন্ড কারাদন্ড দেওয়া হয়েছিল। কিš‘ হাইকোর্টের আপিলের মাধ্যমে বেকুসুর খালাস পান। ফলে তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। জামায়াতের শক্ত ঘাটি হিসেবেও পলাশবাড়ী নামকরা যাকে সাতক্ষিরার পরেও আন্দোলন মূলঘাটি হিসেবে পরিচিত এবং একটি জামায়াতের শক্ত অবস্থান এখানে তৈরি আছে। দেশীয় স্থানীয় রাজনৈতিক হিসেবে এবং ৩৬ জুলায়ের পর জামাতের প্রতি মানুষের বহুগুন সমর্থন বেড়ে গেছে। নতুন ভোটার ও নারী ভোটরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে ভোট প্রদান করলে সব হিসাব নিকাশ এখানে পাল্টে যাওয়া সম্ভবনা আছে। এ প্রসঙ্গে মাওলানা নজরুল ইসলাম বলেন আমি এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়ে বিভিন্ন ভাবে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। যেহেতু আমি একজন কারা নির্যাতিত সেই হিসেবে জনগন আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে। অপরদিকে বিএনপি’র প্রার্থী ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, ‘চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে দুই উপজেলায় আমার প্রচুর জনপ্রিয়তা আছে। এ ছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমার পক্ষে কাজ করছেন। বিজয়ের ব্যাপারে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।’ এ আসনে আরও প্রার্থী রয়েছেন গনঅধিকার পরিষদ সুরুজ মিয়া ’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ আওলাদ হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা শাহ আলম ফয়জী, কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল্লাহ আদিল, জনতার দলের মঞ্জুরুল হক, স্বতন্ত্র হিসেবে খাদিমুল ইসলাম খুদি ও আজিজার রহমান নির্বাচন করতে মাঠে আছেন।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) ॥ এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর, কেন্দ্রীয় টিম সদস্য বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুর রহিম সরকার দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মাঠ চোষে বেড়াচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে এই এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করছেন। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার মানুষের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব মালিকানা রাবেয়া ক্লিনিকের মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে গরীব দুখি মানুষের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, এর আগেও আমি চার দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলাম, অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলাম তবে সে নির্বাচনটা ছিল কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ। এখানে বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মোত্তালিব আকন্দের ছেলে শামীম কাওছার লিংকনকে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। তবে তার প্রার্থিতা বাতিল করার দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে ছিলো বিএনপির একটি গ্রুপ। এবং সেই গ্রুপটি সক্রিয় রয়েছে। সেদিক থেকে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুল রহিম সরকার বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় সক্রিয় আছেন এবং ব্যাপক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পুরুষ ও মহিলা নতুন ভোটার যারা হয়েছেন তারা পরিবর্তনের পক্ষে দেশকে সাজানোর লক্ষ্যে ন্যায় ইনসাফের জন্য জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয় করতে চায়। এই আসনে একটি পৌরসভা ও উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৮৪জন এর মধ্যে পুরুষ ২ লক্ষ ৩১হাজার ৬১৬জন, মহিলা ২লক্ষ ৩৬হাজার ৭৫৮জন। ইতিমধ্যেই এ আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সভা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন প্রার্থী। এই আসনে যারা প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তারা হলেন ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাইফুল ইসলাম। জাতীয় পার্টির কাজী মশিউর রহমান, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টী আতাওয়ারুল ইসলাম রয়েছেন। আর কাউকে এখনো সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। তবে মূলত এখানে জামায়াতে ইসলামীর ডা. আব্দুর রহিম ও বিএনপি শামীম কায়সার লিংকনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে।

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) এ আসনে দুটি উপজেলা রয়েছে সাঘাটা ও ফুলছড়ি। এখানে ইউনিয়ন রয়েছে ৩৭টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩লক্ষ ৮৫হাজার ২৬১জন এর মধ্যে পুরুষ হচ্ছে ১ লক্ষ ৯২ হাজার ২৭৭, মহিলা ভোটার ১লক্ষ ৯২ হাজার ৯৮১জন। এখানে দীর্ঘদিন থেকে প্রচার, প্রচারনা চালাচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী দলের জেলা শাখার সিনিয়র নায়েবে আমীর বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল ওয়ারেছ। তিনি এলাকায় বিভিন্ন ভাবে মানুষের সুখ-দুখের অংশগ্রহণ এবং মানুষের বিপদের সময় পাশে দাড়িয়ে ছিলেন। নদীবিধৌত চড়াঞ্চল নিয়ে এ আসন গঠিত। এলাকার মানুষ সাদাসিদে ও ধার্মিক হওয়ায় জামায়াতের প্রতি ক্রমানয়ে সমর্থন বেড়েছে। নতুন এবং মহিলা ভোটার বেশিরভাগই জামায়াতের প্রতি সর্মথন জোর লক্ষ্য করা গেছে। জামায়াতের প্রাথী আব্দুল ওয়ারেছ বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে, আসন্ন নির্বাচনে আমি এ আসনে শতভাগ জয়ী হওয়ার আশা করছি। এই আসনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে ছিলেন। এরপরও আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির সেই রকম কোন ভূমিকা ছিল না। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই আসনে বিএনপি বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর নিজেদের মধ্যে কোন্দল ও কাদা ছোড়াছুড়িতে জড়িত হয়ে পড়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। এ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ব্যবসায়ী ফারুক আলম সরকার দলীয় মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী প্রাথী হিসেবে নাহিদুজ্জামান নিশাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি একসময় জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। কিন্তু তাকে হাইকমান্ড বহিষ্কৃত করেছেন। বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলম বলেন, ‘নাহিদুজ্জামানের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তার প্রার্থিতা আমার নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’ তবে নাহিদুজ্জামান নিশাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি দলীয় প্রার্থী হওয়ার আশায় প্রচার চালাচ্ছি। অপরদিকে এ আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী শামিম হায়দার পাটোয়ারী লাঙ্গল মার্কা নিয়ে মাঠে থাকলেও বিদ্রোহী প্রার্থী এইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে নেমেছেন। সে কারনে এই আসনের হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। বিএনপি থেকে দু’জন, জাতীয় পার্টি থেকে দু’জনের ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় মাঝ দিয়ে জামায়াতের প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও এ আসনের এনসিপির মাহমুদ মোত্তাকিম মণ্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি ইউসুফ কাসেমী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রীক মার্কসবাদী দলের মোছাঃ রাহেলা খাতুন, কমিউনিস্ট পার্টি শ্রী নির্মল প্রার্থী রয়েছে।