জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে বলে মন্তব্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে দেখেছি, মোটামোটিভাবে তারা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে। গতকাল সোমবার সকালে শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অপর্ণের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব একথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যখন বাছাই হয় তখন কিছু সমস্যা থাকে, এটা নতুন কোনো ব্যাপার না।আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে দেখেছি, মোটামোটিভাবে তারা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে। আমাদের যে সমস্যাগুলো দুই-একটা আমরা মনে করেছি সেটা আমরা রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সামনে তুলে ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি যে এই নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। ভোটে সমান সুযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের নেই।

জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল সকাল ১১টায় বিএনপি মহাসচিব দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সালাহ উদ্দিন আহমদকে নিয়ে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন এবং পরে জিয়াউর রহমান এবং পাশে শায়িত দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তারা। এই সময়ে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিএনপি মহানগর, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, ছাত্র দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা জিয়ার কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৯০তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমরা কবর জিয়ারত করতে এসেছি, শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। একই সঙ্গে আমরা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। তার পাশেই শুয়ে আছেন আরেকজন ক্ষনজন্মা অপরাজেয় মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি তার সারাটা জীবন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই করে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অমর নাম। যে নাম প্রতি মুহুর্তে স্মরণ করতে হয়। যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং পরবর্তিকালে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুণঃপ্রবর্তন করেছিলেন সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর স্মরণ করি, তার অনুসৃত যে পথ সেই পথে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্যে আমরা আরও দৃঢ়ভাবে শপথ গ্রহণ করি।

মির্জা ফখরুল বলেন, যখন ফেব্রয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে, একটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে, তখন আবার নতুন করে একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়ার জন্য আমরা আজকে এখানে শপথ নিয়েছি। এই শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি এবং এর সমস্ত অঙ্গসংগঠনের শহীদ জিয়ার আদর্শ সেই আদর্শকে বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করব এই শপথ আমরা এখানে নিয়েছি।