ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কৃষি নির্ভর রংপুর অঞ্চলকে কৃষি শিল্পের নগরীতে পরিনত করা হবে ইনশাআল্লাহ। অবহেলিত জনপদ কুড়িগ্রাম জেলার নদনদীগুলোকে স্থায়ীভাবে শাসন করা হবে যাতে আর কোনো পরিবারকে নদী ভাঙ্গনের শিকার হতে না হয়।

বেকারত্ব দূরীকরণের ব্যাপারে তিনি বলেন- বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকারত্ব দূরীকরণ করা হবে। দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে আমাদের মূল লক্ষ। আমরা দূর্নীতি করবো না কাউকে দুর্নীতি করতে দিবো না ইনশাআল্লাহ।

বুধবার ( ৪ ফেব্রুয়ারি) কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় নির্বাচনের পর ইনসাফের দেশ গড়ার দিকে পা বাড়াবে বাংলাদেশ, এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পেছনে থাকানোর সুযোগ নেই, অপপ্রচার সমালোচনাকারীরাই পেছনে পড়ে থাকবে। আমাদের অগ্রযাত্রাকে আর দমিয়ে রাখা যাবেনা। যাদের জন্য আজ এ দেশ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি সাহস সঞ্চয় করেছে, তাদেরকে আজ অপমান করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের কারণে অনেকে আজকে জেল থেকে বের হয়েছে। বিদেশে গিয়ে অনেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাদের কারণে আজ অনেকের দেশে আসার সুযোগ হয়েছে। আজকে সেই উপকারকে আপনি উপহাস করেন। এটা তাদের জন্য বুমেরাং হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা এই যোদ্ধাদের কথা দিচ্ছি, তেরো তারিখ ইনশাআল্লাহ নতুন করে বাংলাদেশ পাবে দেশের জনগণ। সেদিন আমাদের মায়েদেরকে আমাদের মাথার ওপর তুলে মর্যাদা দেবো ইনশাআল্লাহ। তাদেরকে ঘরে বাইরে কর্মস্থলে সর্বত্র সব জায়গায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপনের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা মোঃ নিজাম উদ্দিন'র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, জুলাই বিপ্লবের অগ্র সৈনিক মোঃ আখতার হোসেন সদস্য সচিব জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদ রাকসুর ভিপি কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের উদীয়মান তরুণ নেতা মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর নুর উদ্দিন কাসেমী, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আবদুল মতিন ফারুকী, ঢাবির ছাত্র পরিবহন সম্পাদক কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপনের সুযোগ্য সন্তান আসিফ আব্দুল্লাহ, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার শামসুল হুদা মিঠু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তাজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা শিবিরের সভাপতি তুখোড় ছাত্রনেতা মোশাররফ হোসেন,কুড়িগ্রাম জেলা শিবিরের সেক্রেটারি মোবাশ্বের রাশেদীম।

আয়না ঘরের বিভৎস নির্মম নির্যাতনের শিকার উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কবির উদ্দিন মিঠু তার শরীরের ক্ষতস্থানের বর্ননায় বলেন আমার হাতের নখ তুলে ফেলে নখের ভেতর সুই চালানো হয়েছে এবং প্লাস দিয়ে চামড়া টানা হয়েছে, পা উপরের দিকে লটকিয়ে শারীরিক নির্যাত করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ডক্টর আতিক মুজাহিদ শাপলা কলিসহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠনের উদার্ত আহবান জানিয়ে কুড়িগ্রামের কৃতি সন্তান তরুণ প্রজন্মের আইকন ডক্টর আতিক মুজাহিদ আরও বলেন আমারা কম্বল কিংবা ত্রাণ চাইনা সম্মানজনক মর্যাদার কর্ম চাই।

কুড়িগ্রামের সকল সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কুড়িগ্রাম-৩ আসনের ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী (দাঁড়িপাল্লা) তিনি বলেন আমারা অবহিত থাকতে চাইনা। কুড়িগ্রামের জন্য যে বরাদ্দ তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে আত্নমর্যাদায় সুনামের সাথে সুনাগরিকের মর্যাদায় বাসতে চাই। কুড়িগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক জননেতা অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও গণমানুষের পছন্দের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক সহ স্থানীয় নের্তৃবৃন্দ।

আমীরে জামায়াত ডা, শফিকুর রহমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বলেন, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপ্রসারিত স্থায়ী ক্যাম্পাস সহ সব ধরনের সমস্যা সমাধানের দায়দায়িত্ব সরকার বহন করবে। মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সমস্ত শিক্ষা খরচ বহন করবে সরকার। সন্তান লালন পালনে মায়েদের ভূমিকা অপরীসিম এবং এ নেয়ামত মহান আল্লাহ তা’আলা শুধু মায়েদেরকেই দিয়েছেন।

তিনি জুলাই যোদ্ধাদের কথা বলতে গিয়ে যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুহাত প্রসারিত করে বলেন বুকের ভিতর অনেক ঝড় বুক পেতেছি গুলি কর বলে আবু সাঈদ গুলি খেয়ে প্রেরণা যুগীয়েছেন। বেকার ভাতার সমালোচনা করে বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করবো না। আমরা যুবকের প্রত্যেকটা মজবুত করে গড়ে তুলবো যাতে করে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে পারে। এবার তারাই চিৎকার দিয়ে বলবে আমিই বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশকে গর্বিত নাগরিক বানাতে চাই যুব সমাজকে।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশে অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। মা বোনদেরকে অপমান করা। তার প্রতিবাদ করায় এখন চোরের মতো আমার পেছনে লেগেছে। তাদের সামনাসামনি প্রতিবাদ করার সাহস নেই। এসব লোকেরা সামনে আসার সাহস পাবেনা পেছনেই পড়ে থাকবে। তিনি আহবান জানিয়ে বলেন, নিজের আদর্শ কর্মসূচি পরিকল্পনা বক্তব্য চরিত্র নিয়ে আসুন। আমাদের দল আমাদের শাসক আমাদের সরকারই পারবে একটা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দিতে। অবশ্য সেটি তারা বলেনি। তারা চাইছে টুটি চেপে ধরতে। বগলের তলে ঋণ খেলাপি, আর আপনিই দিবেন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ? জনগণ সবার চালাকি বুঝে। জনগণ এখন আর বোকা না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা, শফিকুর রহমান বলেন, ফেলানীর বাড়ীতে আমি গিয়েছি তার মা বাবা চোখের পানি ফেলেছে। তার চোখের পানি ফেলেনি রক্ত ফেলিয়ে। আর এমন হতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশী থাকবে বন্ধুর মতো। কোনো আধিপত্যবাদ বা চোখ রাঙানিকে পরোয়া করা হবে না। তিনি গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, ‘না’ মানে গোলামি। আগামী ১২ তারিখে প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’ দিয়ে সবাইকে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের মাঝে গণজোয়ার সৃষ্টি করার আহ্বান জানান তিনি।

সুবিশাল কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠ কানায় কানায় ভর্তি হয়ে আশপাশের সকল রাস্তায় মানুষের উপস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য রাস্তায় চলাচল সাময়িক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সুবিশাল নির্বাচনী জনসভায় মুহূর্তে মহিলারা তাদের নির্ধারিত স্থান ভরিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে ডাঃ শফিকুর রহমানের বক্তব্য শোনেন এবং তার-ও দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে শ্লোগান দেয়।

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে নীচের মৌলিক কিছু বিষয়ে মুহতারাম আমীরে জামায়াতকে অবহিত করা হয়ঃ

একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন করা, কালিগঞ্জ থেকে কচাকাটা, কাঠালবাড়ি থেকে ফুলবাড়ি এবং ব্রক্ষপুত্রের বুকে চিলমারী থেকে রৌমারী ব্রিজ স্থাপন করা, টেক্সটাইল মিল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করুন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র দুইটি ডিপার্টমেন্ট চালু যা ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস স্থাপন এবং ডিপার্টমেন্ট বৃদ্ধি করন, চর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করুন এবং সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বেকার যুবকদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিল্প, কলকারখানা স্থাপন, অর্থনৈতিক জোন চালু করন, নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং কৃষি খাতের উন্নয়ন করা, বেশ কয়েকটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই যা অতীব জরুরি, জেলায় আন্তঃনগর ট্রেন একটি যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল, এখানে আরো অন্তত দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা দরকার মর্মে জানানো হয়। দাবীর প্রেক্ষিতে আমীরে জামায়াত বলেন-

যুবসমাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের যুবকরা কখনো বেকার ভাতার জন্য আন্দোলন করেনি। তারা সম্মানজনক কাজ চেয়েছে। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

দেশ থেকে অর্থপাচারের প্রসঙ্গ তুলে ডাঃ শফিকুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। এই টাকা জনগণের। ইনশাআল্লাহ এই অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে ইনসাফের ভিত্তিতে সারা দেশে উন্নয়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কাজের সুযোগ পাবে। কর্মক্ষেত্র, চলাচল ও সমাজের সর্বত্র নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে।

কানায় কানায় ভর্তি কলেজ মাঠের জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠান শেষে সমাপ্তি ঘোষণা করেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি এবং কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এডভোকেট মোঃ ইয়াছিন আলী সরকার, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়া, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য আলতাফ হোসেন, জেলা বায়তুল মাল সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম সদর আমির মাস্টার শামসুল হুদা মিঠু, কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং শহর শাখা সেক্রেটারী এডভোকেট তাজুল ইসলাম, শহর কর্ম পরিষদ সদস্য এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল, খেলাফত মজলিসের রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক শবেবর রহমান, এনসিপির কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া প্রমুখ।