বিএনপি নেতার নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে প্রতিবাদ এবং সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির ভয়াবহ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বিএনপি নেতার নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের দেওয়া নিকাববিরোধী কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি এক বক্তব্যে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর প্রকাশ্যে দাবি করেছেন‘ নেকাব মুসলমানদের ড্রেসই না। ইহুদি নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করতো তখন নেকাব পরতো।’ এই বক্তব্য চরম মিথ্যাচার, ইতিহাস বিকৃতি ও জঘন্য কুরুচির বহিঃপ্রকাশ। মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাককে এভাবে অপমান করা শুধু ইসলাম অবমাননাই নয়; বরং মুসলমানদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। এবং তার এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় আইনে ফৌজদারি অপরাধ। আমরা তার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, হিজাব ও নিকাব কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক পর্দা ব্যবস্থার অংশ এবং যুগ যুগ ধরে মুসলিম সমাজে চর্চিত একটি সম্মানজনক ধর্মীয় অনুশীলন। নিকাব মুসলিম নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক।রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে ইসলামী বিধিবিধানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। দুঃখজনকভাবে, বিএনপির একাধিক নেতার বক্তব্যে এ ধরনের অসংযম ও ধর্মবিদ্বেষী মনোভাবের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি ইসলামী রীতিনীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধে বিশ্বাস করে কি না তা তাদের নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মানুষের তথা মুসলমানদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও বিধান নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। অন্যদের ওপর ‘ধর্ম ব্যবসার’ অভিযোগ চাপিয়ে দিয়ে নিজেরাই ইসলামের বিধানকে অবমাননা করা দ্বিচারিতা ও ইসলামোফোবিক মানসিকতার স্পষ্ট প্রকাশ।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আলেমসমাজ ও সচেতন মুসলিম জনগণকে এ বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির মহাযজ্ঞে গভীর উদ্বেগ, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির ভয়াবহ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গত রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় একযোগে ১৮ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁস ও সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। শুধুমাত্র গাইবান্ধা জেলায় ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া জামালপুরে ৪ জন, নওগাঁয় ৯ জন, কুড়িগ্রামে ১১ জন, দিনাজপুরে ১৬ জন, রংপুরে ২ জন, টাঙ্গাইলে ৫ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ জনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশ্নফাঁস ও ডিভাইসভিত্তিক প্রতারণার একটি ভয়াবহ চিত্র জাতির সামনে উঠে এসেছে, যা পুরো নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন এই প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের একজন বিশেষ সহকারী পদমর্যাদার ব্যক্তির ড্রাইভারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই ধরনের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতা ও দায়িত্বশীল মহলের নজরদারির ঘাটতিরই বহিঃপ্রকাশ। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারি কর্ম কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতোই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে, যার মাশুল গুনতে হচ্ছে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মেধাবীদের বঞ্চিত করে অর্থ ও প্রভাবশালী জালিয়াত চক্রকে সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। এর ফলে একদিকে শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে অযোগ্য ও অনৈতিক ব্যক্তিদের তুলে দেওয়ার মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন বা দুর্ঘটনাজনিত নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিহীনতার ফল।
নেতৃবৃন্দ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সকলকে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের নতুন সভাপতি মো:রিয়াজুল ইসলাম, সেক্রেটারি আব্দুল আলীম আরিফ ২০২৬ সেশনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচন এবং সেক্রেটারি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জকসু’র নবনির্বাচিত ভিপি মো:রিয়াজুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি হিসেবে জকসু’র জিএস আব্দুল আলীম আরিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ইব্রাহীম খলীল মনোনীত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যদের নিয়ে সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।
২০২৬ সেশনের জন্য শাখা সভাপতি নির্বাচন উপলক্ষ্যে সদস্য সমাবেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত মো:রিয়াজুল ইসলামকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং নবনির্বাচিত সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান।
সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত সভাপতি মো:রিয়াজুল ইসলাম শাখা সেক্রেটারি হিসেবে আব্দুল আলীম আরিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো: ইব্রাহীম খলীলকে মনোনীত করেন।
পরিশেষে, দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে সদস্য সমাবেশ সমাপ্ত হয়।