মহেশখালীতে লবণচাষি, শ্রমিক ও ছাত্র-জনতার উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য এবং কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুত থাকা সত্ত্বেও এবং উৎপাদন মৌসুম শুরু হতেই বিদেশ থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, জনস্বার্থবিরোধী এবং দেশীয় লবণ শিল্প ধ্বংসের শামিল।
তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়াসহ উপকূলীয় অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ লবণচাষি ও শ্রমিক বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে লবণে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে এক লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশীয় লবণের ন্যায্যমূল্য ভয়াবহভাবে কমে যাবে, চাষিরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশে লবণ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
ড. আযাদ আরও বলেন, দেশীয় লবণ শিল্প শুধু একটি অর্থনৈতিক খাত নয় এটি উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকা, শ্রমিকের রুটি-রুজি এবং জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পরিকল্পনাহীন আমদানি দেশীয় শিল্পকে দুর্বল করে বিদেশনির্ভরতা বাড়াবে, যা কখনোই দেশ ও জনগণের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।
তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন
১) অবিলম্বে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে, ২) লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে,৩) লবণ সংরক্ষণ ও বিপণনে সরকারি উদ্যোগ জোরদার করতে হবে,৪) চাষি ও শ্রমিকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশীয় লবণ শিল্প ও লবণচাষিদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপকূলবাসী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে শান্তিপূর্ণ কিন্তু কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। তিনি দেশপ্রেমিক সকল রাজনৈতিক দল, কৃষক সংগঠন, পেশাজীবী সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের দেশীয় লবণ শিল্প রক্ষার এই ন্যায্য আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।