বগুড়া-৬ সদর আসনের আসন্ন উপনির্বাচনকে প্রভাবিত করতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রশাসনে রদবদল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন।

লিখিত বক্তব্যে জামায়াত প্রার্থী অভিযোগ করেন, “নির্বাচনের তপশীল ঘোষণার পরেই বর্তমান সরকার বগুড়ার প্রশাসনে নগ্ন ভাবে হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের তপশীল ঘোষণার সাথে সাথে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর নির্বাচন কমিশনের অধিনে থাকে। নির্বাচন কমিশনের আদেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বদলী বা নতুন পদায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, নির্বাচন কমিশননের কোন নির্দেশনা ছাড়াই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিগত ৪/৩/২৫ তারিখের পত্রের মাধ্যমে পুলিশ সুপারকে অন্যত্র বদলী করেছে। এরপর আরো জানতে পারলাম একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকেও বদলী করা হয়েছে। সম্প্রতি আমরা জানতে পারলাম বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বদলী করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে পত্রের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করা হয়েছে। আমরা জানি তপশীল ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে প্রশাসনের কোন রদ বদল একমাত্র এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের কিন্তু নির্বাচন কমিশনের চাহিদা ছাড়াই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উপরোক্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রদ-বদল বা বদলী করছে। এতে প্রতিয়মান হচ্ছে যে, সরকার সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান প্রতিনিয়ত লংঘন করছে। আমাদের প্রশ্ন- আসন্ন উপনির্বাচন নির্বাচন কমিশনের অধিনে হচ্ছে নাকি সরকারের মর্জি মত হচ্ছে? এ ধরনের বদলীর মাধ্যমে প্রশাসনের সকল স্তরে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না বলে আমরা মনে করছি।”

জামায়াত প্রার্থী আরও বলেন, “আমরা জানি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনের তপশীল ঘোষণার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সরকারের মন্ত্রি, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার কোন ব্যক্তি কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারেন না। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম বিগত ইং ০৮/০৩/২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর শাহে আলম বগুড়ার নাজ গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে তার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চাইলেন। আমরা জেলা রিটার্নিং অফিসারের সাথে সাক্ষাৎ করে উল্লেখিত বিষয়গুলো মৌখিক ভাবে জানালেও তিনি এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। এভাবে যদি আইন লংঘন করা হয় তাহলে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে যে, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন আবারও ২য় মাগুড়ার মত নির্বাচন হবে কি না?

আসন্ন উপনির্বাচন অবাধ, গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নিকট আমরা নিম্নোক্ত দাবী জানাচ্ছি-

এক. অনতিবিলম্বে সকল প্রকার বদলী বাতিল করে প্রশাসনের ভীতি দূর করে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। দুই. বিগত ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নিয়োগপ্রাপ্ত ভোট কর্মকর্তাদের মধ্যে অধিকাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের সুস্পষ্ট অভিযোগ আছে। তাদেরকে পুনরায় উপনির্বাচনে নিয়োগ না করে বিধি মোতাবেক নিরপেক্ষ নতুন সরকারি অফিসার নিয়োগ করতে হবে। তিন. অনতিবিলম্বে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতকরন, ভয়ভীতি, কালো টাকার দৌরাত পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। চার. প্রশাসনে সরকারের প্রভাব বিস্তার বন্ধ করতে হবে। পাঁচ. নির্বাচনী আচরন বিধি কোন মহল লংঘন করলে তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে এবং গত নির্বাচনে নিয়োগকৃত পোলিং এজেন্টদের বাতিল করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আলমগীর হোসাইন, সেক্রেটারি অধ্যাপক আ.স.ম আব্দুল মালেক, জেলা নায়েবে আমীর আব্দুল হাকিম সরকার, বগুড়া-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, জামায়াত নেতা হেদাইতুল ইসলাম, আব্দুস ছালাম তুহিন, শাহীন মিয়া, ইকবাল হোসেন প্রমূখ।