বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বাকশালী কুশাসন থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই আগষ্ট বিপ্লব, খোন্দকার মুশতাকের তিরাশি দিনের শাসনের পর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধতার কারণে শহীদ জিয়া প্রধান সামরিক প্রশাসক হয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান নিজেকে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করলেন। এটা ইতিহাসের ডকট্রিন অব নেসেসিটি ছিলো, সংবিধানে লেখা ছিলো না। নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার পর ১৯৭৭ সালের ৩০ মে তিনি গণভোট দিলেন। গণভোটে তিনি জনতার ম্যান্ডেট পেলেন। মানুষ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দায়িত্ব গ্রহনকে সানন্দে গ্রহন করলেন এবং গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করলেন। ডকট্রিন অব নেসেসিটি হিসেবেই প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসনকালকে বৈধতা দেয়া হয়েছিল।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজন জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম, ফয়সল আহমদ শান্ত, ফারুক হোসেন, হৃদয় তড়ুয়া, ফরহাদ, তানভীর, সায়মন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ওমর বিন নূরুল আবসারসহ সারা দেশের দু’হাজার শহীদের রক্ত ঋণে আমরা দায়বদ্ধ। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই স্বার্থক হবে যখন জুলাই সনদ আইনি মর্যাদা পাবে এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যগণ ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ এর সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে দেশকে জটিলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইতোমধ্যে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান দেখে আপামর জনসাধারণ উদ্বেগ -উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। অবশ্যই দ্রুততম সময়ের মধ্যে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিন। গণভোটের রায় না মানলে জিয়ার শাসনও অবৈধ ঘোষিত হবে, তারেক জিয়াও দেশ শাসনের অধিকার হারাবেন।
এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্রগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার ও মুহাম্মদ উল্লাহ, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোছাইন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী প্রমুখ।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শহীদ ওমর বিন নুরুল আবছারের মা রুবি আকতার, শহীদ ওমর ফারুকের স্ত্রী শিমা আকতার, জুলাই যোদ্ধা হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, আবরার হাসান রিয়াদ, দেলোয়ার হোসেন, আরমান শাহরিয়ার, আমান উল্লাহ, তানিম মির্জা, মাহবুবুল আলম, সিয়াম এলাহী, আবু সাঈদ প্রমুখ।