জাবি প্রতিনিধি


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম চৌধুরীর বিভিন্ন টকশো ও গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা। এছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন টকশো ও গণমাধ্যমে অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম চৌধুরী গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এই বক্তব্যে সংগঠনটি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে প্রকাশ্যে সাফাই গাওয়া ভুক্তভোগীদের প্রতি অবমাননাকর এবং ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। সংগঠনের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং অপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতার দাবিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

জাতীয় ছাত্রশক্তি আরও বলেছে, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও শক্তির বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের প্রধান দায়িত্ব। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় রেখে অপরাধীদের পুনর্বাসনের আহ্বান জানানো একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেছে।

সংগঠনটি জানায়, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ অতীতেও অন্যায়, অবিচার ও গণহত্যার রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুবিধাবাদী বক্তব্যের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতি কিংবা অপরাধ আড়াল করার প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম চৌধুরীর কাছে তার বক্তব্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান এবং জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এছাড়া দেশের সচেতন নাগরিক, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে দায়িত্বশীল ও নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করা জরুরি।

#.......