গোবিন্দগঞ্জে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির দায়ের করা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক সাংবাদিক সম্মেলন গত বুধবার সকালে স্থানীয় জামায়াত অফিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য, গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহিম সরকার।
তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারার মাধ্যমে জাল ভোট প্রদান করেন। এ বিষয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
ডা. আব্দুর রহিম সরকার অভিযোগ করে বলেন, ওই মামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় এক মাস পর গত ৯ মার্চ বিএনপি তাদের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। তিনি দাবি করেন, মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিন ৬৮ নম্বর বড়দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের মারামারি, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় কিংবা জাতীয় কোনো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের ঘটনার কোনো তথ্য নেই।
ডা. রহিম বলেন, বিএনপি তাদের অনিয়ম আড়াল করতে এবং জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই মামলা দায়ের করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যেভাবে মিথ্যা মামলা সাজানো হতো, ঠিক একই কায়দায় এ মামলাটিও করা হয়েছে।
তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেন কোনো নিরপরাধ নেতা-কর্মীকে হয়রানি করা না হয়। অন্যায়ভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে এবং এর ফলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায়ভার প্রশাসন ও সরকারকে নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে অবিলম্বে দায়ের করা এই মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।