রাজধানীর পুরান ঢাকা-৬ আসনের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের জুবলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল হককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ট আসনটি বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের।

ঘটনায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল মান্নানের পোলিং এজেন্টসহ মোট পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থীর কয়েকজন পোলিং এজেন্ট ডকুমেন্টস জমা দিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনার পর রাত পৌনে আটটার দিকে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, “৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের জুবলী স্কুল কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ডকুমেন্টসে স্বাক্ষর করতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টি করে আমাদের পোলিং এজেন্টদের মারধর করে। তারা অভিযোগ তোলে যে, পোলিং এজেন্টদের অতিরিক্ত ডকুমেন্টস দেওয়া হয়েছে। এ সময় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের ওপরও হামলা চালানো হয়। আমরা এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবো।”

ড. আব্দুল মান্নানের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার নেতৃত্ব দেন ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান অনু, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন, থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদ কামাল রুবেল, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামিল, যুবদলের সাবেক সদস্য শফিক এবং ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রানা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান অনু বলেন, “একপাক্ষিকভাবে জামায়াতের লোকদের ভেতরে নিয়ে পোলিং এজেন্ট ডকুমেন্টস নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমরা সেখানে উপস্থিত হই। তখন দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন।”

প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কারও ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি। শুধু কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা সবাই সরে গেছি।”

তবে মারধরের শিকার কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল হক অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের কার্ডে স্বাক্ষর দিতে আসায় আন্দাজে একটি পক্ষ অভিযোগ তুলে এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। এর পর ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আমাদের আরেক সহকর্মীর ওপর বোতল নিক্ষেপ করা হয় এবং আমাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”