ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে (কয়রা-পাইকগাছা) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হওয়ার পরই উপকূলীয় জনপদের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো, চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ সুরক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন।
নির্বাচনোত্তর প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে এলাকাবাসী আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এজন্য সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মানুষের পাশে থেকে মতবিনিময়, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং তাদের রায়ের ভিত্তিতেই আমি নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের সঙ্গে যে ওয়াদা করেছি, তা বাস্তবায়নে কাজ করব।
তিনি জানান, খুলনা-৬ আসনের বড় অংশ উপকূলীয় ও নদীভাঙনপ্রবণ হওয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হচ্ছে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ। জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত এই জনপদের স্থায়ী সুরক্ষায় দ্রুত প্রকল্প নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
তার ভাষ্য, আমাদের এলাকার মৌলিক সমস্যা বেড়িবাঁধ। এটি নির্মাণ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপকূলবাসীর জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্য এটি অপরিহার্য।
অবহেলিত অঞ্চলে সুপেয় পানির অভাবকে বড় মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পৃথক প্রকল্প নেওয়া হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কথাও জানান।
আঠারো মাইল থেকে কয়রা পর্যন্ত মহাসড়ক সংস্কার ও মেরামতের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। কয়রার সাতটি ইউনিয়ন ও পাইকগাছার দশটি ইউনিয়নের সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনাও রয়েছে।
নবনির্বাচিত এমপি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানোন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও উন্নয়নও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
চিকিৎসাসেবার অভাবে দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে থাকা এলাকাবাসীর জন্য কয়রায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল এবং পাইকগাছায় ১২০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, মানুষ যাতে চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে বাধ্য না হয়, সে ব্যবস্থা করতে চাই।
কয়রাকে পৌরসভায় উন্নীতকরণ এবং দক্ষিণ বেদকাশী–গোলখালি এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকাকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান।
যুবকদের ক্রীড়া ও বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে দুই উপজেলায় দুটি স্টেডিয়াম এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এতে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বনদস্যু ও জলদস্যু সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপদ চলাচল ও জীবিকার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বছরে তিন মাস মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকারে সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, জনগণের রায় আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই। উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।