নির্বাচনে বড় রকমের অনিয়ম হয়েছে অভিযোগ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এসব অনিয়মের যথাসময়ে প্রতিকার চাই। নয়তো এজন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে। এসময় তিনি নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি এবং আল্লামা মামুনুল হকের আসনসহ বিভিন্ন স্থানে আইনের ব্যত্যয়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
গতকাল শুক্রবার দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে ১১ দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন জামায়াতের আমীর। এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের আমীর বলেন, আমরা সবাই প্রিয় বাংলাদেশের নাগরিক। দীর্ঘদিন নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ বৃহস্পতিবার স্বাচ্ছেন্দ্যে ভোট দিতে চেয়েছিলেন। আমরা বলেছিলাম আমরা সুস্থ ধারার রাজনীতির পক্ষে এবং আমরা চাচ্ছি ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করবো। আমরা এও বলেছিলাম আমাদের বেশ কিছু পর্যক্ষেণ আছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন মানে হার জিতের ব্যাপার থাকবে। সেটা যদি স্বাভাবিকভাবে হয় তাহলে কারো আপত্তি থাকে না সবাই সাধারণভাবে মেনে নেয়। কিন্তু যদি সেখানে বড় রকমের অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের পরও আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আজকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলের কর্মী এজেন্ট ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা হচ্ছে। আগুণ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটাতো ফ্যাসিবাদী তৎপরতা। যে ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের। এর সম্পূর্ণ দায় তাদের নিতে হবে। যারা এর সাথে জড়িত। আমরা চাইলেও যদি তারা ইতিবাচক রাজনীতি না চান তাহলে আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করবো না। এবারের নির্বাচনে আমাদের যথেষ্ট অবজারবেশন এবং আপত্তি আছে। দেশের শান্তি রক্ষা হবে তাদের দায়িত্ব হবে যারা সরকার গঠন করবে। কিন্তু এগুলো কিসের আলামত ? এখন এগুলো বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আমরা বাধ্য হব যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে। আমরা নিরীহ দেশবাসী যে কোন পরিবর্তনের পক্ষে ভোট হ্যাঁ বলেছেন। ভোট দিয়েছেন, সহযোগিতা সমর্থন দিয়েছেন তাদের সাথে আমরা ছিলাম। আজ থেকে আরও শক্তভাবে আমরা আপনাদের সাথে আছি।
তিনি উল্লেখ করেন বেশ কিছু জায়গায় হঠাৎ করে ফলাফল বন্ধ। কষ্ট করে তাকে ছাড় দিয়ে নির্বাচিত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এটা অবাস্তব। আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে। রেজাল্ট সিটে ঘষামাজা করা হয়েছে। কিছু কিছু আসনে দ্বৈত নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির আসনে সেন্টার দখল করে একজন নেতার আপনজনের নেতৃত্বে যা হয়েছে তার সাক্ষী বিশ্ববাসী।এবং দেশবাসী। আমরা জেনেছি মিডিয়ার কারণে। বাংলাদেশ খেলাফত মজসিলেসের আমীর আল্লামা মামুনুল হকের আসনে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির আসনে যে কারণে অন্য একজনের ব্যালট গ্রহণ করা হয়েছে একই কারণে মামুনুল হকের পক্ষে সেটা গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একদেশে কি দুই আইন চলবে ? নির্বাচন কমিশন কি একেক জায়গাতে একেক আইনের প্রয়োগ করবে ? একই বিষয়ে ? বিশাল প্রশ্নের ব্যাপার। আমাদের সেক্রেটারি জেনারেলসহ বেশ কিছু আসনে এরকম ব্যাপার আছে। তাদের প্রতি অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। তাদের অধিকার জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্ত তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি আমরা প্রতিকার চাই তাহলে এক কথা। যদি না পাই তাহলে বাধ্য হবো আমাদের পথ ধরতে। আমরা আশা করবো নির্বাচন কমিশনের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা ন্যায় ইনসাফ করবেন। না করলে দায় তাদের নিতে হবে। আমরা এখনো বলবো- আমরা দেশকে ভালবাসি। দেশের ঐক্য চাই। আমাদের স্লোগান ছিল ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হলে পরস্পরকে ভালবাসতে হবে। এখানে কেউ রাজা নয় বাকীরা প্রজা নয়। এখানে কেউ মালিক নন বাকীরা অধিনস্ত নয়। এখানে সবাই একই সংবিধানে সমান অধিকার তারা ভোগ করবেন। অতীতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম-- যে কালো অধ্যায়ের অবসান হউক। যদি কালো অধ্যায় ফিরে আসে তাহলে আমরা লড়ে যাবো। ছাড় দিবো না। ফ্যাসিবাদে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটে না।
তিনি বলেন, সারা বিশ্ব থেকে পর্যবেক্ষকরা এসেছেন। তারা ঘুরেছেন দেখেছেন। আমরা চাই দেশে পুরানা ধারার সেই রাজনীতি ফিরে না আসুক।