বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংগ্রামী আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ১৮ কোটি মানুষের প্রিয় মানুষ, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সারথী ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে মো. মাসুদুর রহমান মনোনয়ন পেয়েছেন। আজকের জনসভায় আমীরে জামায়াতের আসার কথা ছিল। নির্বাচনী আচরণ বিধির কারণে আমীরে জামায়াত এখানে উপস্থিত না হয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন জামায়াতে ইসলামীর কাছে এতো গুরুত্বপূর্ণ যে, যার কারণে ১১দলীয় জোটের আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ উপস্থিত না থেকে ঝিনাইগাতীর এই নির্বাচনী সমাবেশে উপস্থিত হয়েছি। আগামী ০৯ এপ্রিল দলমত নির্বিশেষে ৪ লক্ষাধিক মানুষের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে একজন সৎ ও খোদাভীরু নুরুজ্জামান বাদল রাহিমাহুল্লার যোগ্য ভাই মোঃ মাসুদুর রহমান মাসুদ ভাই কে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। আমাদের প্রার্থীদের অবৈধ ও হারামপথে অর্জিত কোনও অর্থ নাই তাই তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করারও সামর্থ নাই। এই ঝিনাইগাতীর মাঠ, এই ঝিনাইগাতির জমিন মাওলানা রেজাউল করিমের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। শহীদ রেজাউল করিমের রক্তের বদলা নিতে হলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত হওয়া উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত হওয়া উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইগাতীতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ঝিনাইগাতী উপজেলা স্টেডিয়াম মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইগাতী উপজেলা আমীর মাওলানা নূরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরহাদ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, এখন বিজয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ইঞ্জিনিয়ারিং করে যারা ক্ষমতায় গিয়েছেন এক মাস হতে পারলো না জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে তারা একশ আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। ফ্যসিস্ট আমলের বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের ব্যাপারে আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম। তার মধ্যে ৪৭টি সংস্কার ছিল সাংবিধানিক পরিবর্তন। কেন তা চেয়েছিলাম। শেখ হাসিনা এমনভাবে রাষ্ট্রকাঠামোকে আইন কানুন, জুডিশিয়ারি, দুর্নীতিদমন কমিশন এমনভাবে রাষ্ট্রের কাঠামো সাজানো হয়েছিল এর মধ্যে যেই প্রধানমন্ত্রী হবে, যেই ই ক্ষমতায় যাবে সেই ই ফ্যাসিস্ট হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক মোঃ শাহাবুদ্দিন, ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া, ময়মনসিংহ মহানগরী আমীর কামরুল হাসান ইমরুল, শেরপুর জেলা আমীর মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীবরদী উপজেলা আমীর আজহারু ইসলাম মিস্টার, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোশাররফ হোসেন, শেরপুর শহর আমীর মাওলানা নূরুল ইসলাম, শহর সেক্রেটারি মো. হাসানুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি জাহিদ আনোয়ার, শ্রীবরদী উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি আমীর হামজা, পৌর যুব বিভাগের সভাপতি শাহজাহান কবির কমিশনারসহ দলীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনসভায় বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং সংসদীয় ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। তারা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

জনসভা শেষে শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মাসুদুর রহমানের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, পূর্বে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মো. নুরুজ্জামান বাদলের ইন্তেকালের কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ ঘোষণা করে।