দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশে ফিরে ফের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যদিও গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে ব্যাপক গণসংবর্ধনার পাশাপাশি নিজের ও সামাজিক কিছু কর্মসূচি শেষ করেছেন তিনি। ৩০ ডিসেম্বর মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দল ঘোষিত শোক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এবার তিনি ব্যস্ত হচ্ছেন দলীয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। যদিও বিএনপির নেতারা বলছেন, আপাতত ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে আরও কিছুদিন ব্যস্ত থাকবেন তারেক রহমান।

জানা গেছে, দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো উত্তরবঙ্গে চার দিনের সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে তার ৪টি জেলায় সফরের তারিখ ঠিক হলেও তিনি প্রায় ১০টি জেলা সফর করবেন বলে জানা গেছে। আগামী ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে তার এই সফর শুরু হয়ে ১৪ জানুয়ারি বগুড়া গিয়ে শেষ হবে। তবে নির্বাচনী আচরণ বিধির কারণে এই সফরে তিনি নির্বাচনী কোনো প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেবেন না। এই সফরে তিনি শুধু মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, জুলাই শহীদ আবু সাঈদ, তার নানি তৈয়বা মজুমদারসহ নিহত জুলাই যোদ্ধা, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। কবর জিয়ারতের পাশাপাশি আহত জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তারেক রহমান।

বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য আতিকুর রহমান জানান, আগামী ১১ জানুয়ারি সকাল ৯-১০ টার মধ্যে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে বের হবেন। সেখান থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়া যাবেন এবং বগুড়া রাত্রিযাপন করবেন। পরের দিন ১২ জানুয়ারি বগুড়ার কার্যক্রম শেষ করে রংপুর (পীরগঞ্জ), দিনাজপুর যাবেন। সেখান থেকে ঠাকুরগাঁও রাত্রিযাপন করবেন। ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও কার্যক্রম শেষ করে পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাটের কার্যক্রম শেষ করে আবার রংপুরে এসে রাত্রিযাপন করবেন। সফরের শেষদিন ১৪ জানুয়ারি রংপুর, বগুড়া (গাবতলী) হয়ে ঢাকায় ফিরবেন। তিনি আরও জানান, এই সফরে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এটি প্রাথমিক সফরসূচি।

আতিকুর রহমান বলেন, সফরে যাতে কোনোভাবেই নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ না হয়, সেই বিষয়ে আমরা সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করছি। যার কারণে এসব জেলার নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানের চার দিনের সফরসূচি উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের এ বিষয়ে জানানো হয়।

জানা গেছে, এই সফর ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। তারেক রহমানের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাত্তারের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ‘আচরণ বিধি’ কোনোক্রমেই লঙ্ঘন করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার বরাবর আবেদন করেছে দলটি।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে চীনের সাথে বিএনপি সরকারের সম্পর্কের বিষয়গুলো উঠে আসে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ প্রকাশ করে। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে পরিচালক হিসেবে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা টিমে পরিচালক (নিরাপত্তা) হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ শাফাওয়াত উল্লাহ, পরিচালক (প্রটোকল) হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মইনুল হোসেন ও পরিচালক( সমন্বয়) হিসেবে ক্যাপ্টেন মো. গণী উল আজমকে নিযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফেরার আগেই তার নিরাপত্তা টিমের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলামকে।