মো. জুলফিকার আলম, জামালপুর : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে। বিএনপির প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পরে দলে একাধিক প্রার্থীর প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। ৫টি আসনের দলীয় পরিবর্তনের দাবিতে সভা সমাবেশ মিছিল মিটিং প্রেস কনফারেন্স এমনকি সড়ক অবরোধের ঘটনার নজির আছে। এতেই শেষ নয়, বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। অপর দিকে জামায়াত ও সমমনা ইসলামী দলগুলো একক প্রার্থী রাত দিন মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। এনসিপি, গণঅধিকারসহ একক প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রার্থীদের প্রচারণা এবং কৌশলগত দিক থেকে সুবিধা স্থানে আছে জামায়াত। জামায়াতের সুসংগঠিত কর্মপন্থা এবং প্রচারণা গতিধারা, গণসংযোগে জনগণের আস্থা অর্জনে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুকে পরিণত হয়েছে। ফলে চা দোকান থেকে ক্ষেত খামারেও জামায়াতের সমর্থন ভারী হচ্ছে। সাধারণ এবং সচেতন ভোটাররাও বলা বলি করছে যে, বিগত দিনে পাল্টা পাল্টি ক্ষমতার পালাবদলে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। একবার জামায়াতকে ক্ষমতা দেখতে চাই। আবার ইসলামী আন্দোলন ও সমমনা দলের একক প্রার্থী থাকায় প্রচারণায় তারাও পিছিয়ে নেই। গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং কওমী ঘরনার ভোটের পাল্লা ভারী করতে নানা কৌশলে তারা হাঁটছে। ভোটের মাঠে তারাও আলোচনায় আছে। নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্যান্য দলের তরুনদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তারাও ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।
জামালপুর-১, (দেওয়ানগঞ্জ বকশীগঞ্জ) : এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পরে আব্দুরুফ তালুকদার নিজের প্রার্থীতার প্রচারণা চালাচ্ছেন। বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকায় তার যথেষ্ট প্রভাব আছে। বিএনপির প্রার্থী বদলের দাবিতে দেওয়ানগঞ্জ,বকশীগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করেছেন। বিএনপির হাই কমান্ড বিএনপির প্রার্থী বদল না করায় আব্দুরুফ তালুকদার নিজেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছেন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুমও মাঠ গুছিয়ে ছিলেন। তিনি এখন অনেকটা নিষ্ক্রিয়। দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ বিএনপিতে ত্রিধারা বিভক্তিতে দলীয় প্রার্থী কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে আব্দুরুফ তালুকদার বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের কথাও আলোচনায় আসছে। সু সংগঠিত একমাত্র জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন। এই আসনে জামায়াত মনোনীত এড. মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদীর জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। জামায়াত প্রার্থী এড. মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী সংগ্রামকে বলেন, গত তিনটি প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে না পারায় এবং দেড় যুগ যাবৎ কোন নির্বাচনের সাথে জনসম্পৃক্ততা না থাকায় নিজেদের ভোটধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনসমর্থিত সরকার প্রতিষ্ঠার আশায় দেশবাসী ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রথমত ঘুষ দুর্নীতির কারণে জাতীয় ভাবে সকল উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে তা নিরসনে সর্বাত্মাক উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান। এনসিপি, গণঅধিকারসহ অন্যান্য দলের প্রার্থী থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের মধ্যে পরিচিতি নেই। এই আসনে বিএনপি-জামায়াতও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি এখন সামনে আসছে। এদের মধ্যে এড. নাজমুল হক সাঈদীর কথা সকল ভোটারদের মুখে শুনা যাচ্ছে।
জামালপুর -২, (ইসলামপুর) : এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুর নাম ঘোষণা করা হয় । এরপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আব্দুল হালিমের সমর্থকরা মিছিল, মিটিং সভা সমাবেশসহ কাফনের কাপড় পড়ে রাস্তা অবরোধ করে। এতে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই আসনের জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. ছামিউল হক ফারুকী জামায়াত মনোনীত একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে মাওঃ সুলতান মাহমুদ সিরাজের নাম ঘোযণা করা হয়েছে। অন্যান্য দলের একক প্রার্থী থাকলেও প্রচারণায় বিএনপি এবং জামায়াত ছাড়া অন্যদের তৎপরতা নেই।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ -মাদারগঞ্জ) : বিএনপির সহ জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক ও মেলান্দহ উপজেলা সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে মনোনয়ন দেয়ার আগে থেকেই বাবুলকে মনোনয়ন না দেয়ার বিষয়ে জোর লবিং চলছিল। মনোনয়ন বঞ্চিত উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান শুভ সিদ্দিকী নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পিছিয়ে নেই মাদারগঞ্জ বিএনপির সাবেক সভাপতি ফয়জুল ইসলাম লাঞ্জু। কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. দৌলতুজ্জামান আনসারী ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়ে হাত পাখার একক প্রার্থী হিসেবে মাঠ কাঁপাচ্ছেন। জামায়াতের একক প্রার্থী অধ্যাপক মাওঃ মো. মুজিবুর রহমান আজাদীর প্রচারণা মানুষের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক লুৎফর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের লিটন মিয়াসহ অন্যান্য দলের পরিচিতি কম থাকায় মাঠে তাদের কর্মকান্ড কম লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়াও বিএনপির আরেকজন অবসর প্রাপ্ত সচিব আহসানুল হক মঞ্জু মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও মাঠে কাজ করছেন। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে লড়াই হবার সম্ভাবনা লক্ষণীয়।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) : জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর শামীম তালুকদারকে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়। মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আঃ ছালাম তালুকদারের মেয়ে ছালামা তালুকদার আরুনীর সমর্থকরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সম্ভাবনা আছে। এতে স্থানীয় বিএনপিতে দ্বিধা বিভক্তি প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে। এই আসনে জামায়াত প্রার্থী এড. আব্দুল আওয়াল, ইসলামী আন্দোলনের মাওঃ আলী আকবর সিদ্দিকী। গণ অধিকারের ইকবাল হোসেন, সিবিপির মাহবুব জামানের নাম শুনা যাচ্ছে। ছোট এবং নতুন দলের পরিচিতি কমথাকায় বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন সুবিধা জনক স্থানে আছে।
জামালপুর -৫, (জামালপুর সদর) : জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র এড. শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহম্মেদের সমর্থকরা মনোনয়ন পরির্বতনের দাবীতে আন্দোলন করেছে। জামায়াতের প্রার্থী মাওঃ আব্দুস সাত্তার, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মোস্তফা কামালের নাম ঘোযণা করেছে। সিপিবির বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আক্কাস, গণ অধিকারের জাকির হোসেন, এনসিপির ফজলুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অন্যান্য দলের প্রার্থীদের পরিচিতি কম থাকায় সুবিধাজনক স্থানে আছে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
জামালপুর ৫টি আসনেই বিএনপিতে কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সুবিধায় থাকবে জামায়াত ও সমমনা ইসলামী দল।