কথার ফুলঝুড়িতে মানুষের পেটে খাবার আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে কর্মসংস্থান হয় না, কথার ফুলজুড়ি দিয়ে জনগণের অর্থের সংস্থান হয় না, কর্মসংস্থান হয় না। কর্মসংস্থান করতে হলে, জনগণের পেটে আহার দিতে হলে পরিকল্পনা লাগে, যা একমাত্র বিএনপির আছে আর কারো নেই। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেইটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক চলমান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সময় নষ্ট না করে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আর ঘরে বসে থাকার বিন্দুমাত্র সময় নেই। মাঠে চলে যেতে হবে, মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, পথে প্রান্তরে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আসুন এটাই হোক আজকে আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটাই হোক আজকে আমাদের এই দেশগড়া পরিকল্পনার শপথ।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটি জিনিস মনে রাখবেন, আজ দেশের স্বাধীনতা, দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সবকিছু নির্ভর করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উপরে। আমরা যদি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি এই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। এই দেশকে আমরা ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে পারবো। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ করতে দেশকে না পারি, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, জনগণকে জনগণকে সাথে রাখতে না পারি, এই দেশের অস্তিত্ব নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন দেখা দেবে।
দলের নেতা-কর্মীদের বিএনপি প্রণীত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ সারাদেশে ঘরে ঘরে মা-বোনদের কাছে, তরুণ প্রজন্মের কাছে, মুরব্বীদের কাছে, ইমাম-মোয়াজ্জেমদের কাছে অবশ্যই পৌঁছাতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, হ্যাঁ এগুলো পৌঁছাতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, মঙ্গলবার ছিল আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস। বিএনপির ট্র্যাক রেকর্ড আছে আমরা দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি গঠন করা হয়েছিল। সকলে না জানলেও কেউ কেউ অবশ্যই জানেন, সেই দুর্নীতি দমন কমিশনকে এতটাই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল যে, সেই কমিশন যদি সরকারের কোন একটি বিষয়ে তদন্ত করতে চাইতো সরকারের কোন পারমিশনেরই প্রয়োজন ছিল না,তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিল। ইনশাআল্লাহ এটি আমরা আবার করব। গত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার এই নিয়মটি পাল্টে দিয়েছিল যে, সরকারের কোন কিছু দুর্নীতি তদন্ত করতে হলে সরকারের পারমিশন লাগবে। আমরা দরকার হলে দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হয় এটিকে আমরা আবার চেঞ্জ করে দিব।
তারেক রহমান বলেন এই দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক ভোটের অধিকার, বাক স্বাধীনতার জন্য হাজারো হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছে। আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে চাই ইনশাআল্লাহ জনগণের রায় বিএনপি সরকার গঠন করতে করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, যে অন্যায় যে করে সে কোন দলের হতে পারে না, অন্যায় যে করে সে অন্যায়কারী। যে কোন মূল্যে আমাদেরকে এনসিউর করতে হবে যে কঠোর হস্তে আমরা দেশের স্বার্থে দেশের মানুষের স্বার্থে, আমাদেরকে যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টেনে রাখতে হবে এবং দেশের আইন শৃঙ্খলাকে আমাদের ঠিক রাখতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, তালপট্টির কথা আপনাদের মনে আছে? শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তালপট্টির উপরে কিভাবে বিএনপি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছিল এটি ছিল আমাদের দেশের অংশ। ঠিক একই ভাবে নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে, কিভাবে আমাদের পানির হিৎসাকে আমরা বের করে নিয়ে এসেছিলাম এবং তার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পর্যন্ত যেতে কোনরকম দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম না। আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পর্যন্ত গিয়ে বলেছি যে, আমাদের পানির হিসা আমাদেরকে দিতে হবে এবং সেটি আমরা আল্লাহর রহমতে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছিলা।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব বলেন বিএনপির কাছে নিরাপদ। দেশের দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা বলেন এটিও বিএনপির ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণ করার রেকর্ড বিএনপির ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে।
‘দেশ গড়া পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।