বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রামে ধানের শীষের মিছিল থেকে দাঁড়িপাল্লা মার্কার কর্মী, জুলাইযোদ্ধা গালিবকে মেরে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভুস্কুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনার মধ্যেই উপজেলার থালতামাজগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে বিএনপির লোকজন জামায়াতের দুই কর্মিকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ৫/৬ জন আহত হয়। মঙ্গলবার উভয় পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদেরকে নির্দোষ দাবী করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহেল গালিব (২২) ভুস্কুর গ্রামের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিল। সেসময় ধানের শীষের একটি মিছিল থেকে গালিবের ওপর হামলা চালায়। তাকে মোটর সাইকেল থেকে ফেলে বেদম মারপিট করা হয়। এনিয়ে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এঘটনার জের ধরে পারশুন গ্রামে বিএনপির লোকজন জামায়াত কর্মী ফারুক ও বেল্লালকে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে। এখবর পেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আটক দুই কর্মিকে উদ্ধার করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি নেতা মাসুদ রানা, জামায়াত কর্মী ফারুক, বেল্লাল, আমিনুলসহ ৪-৫ জন আহত হয়। আহতদেরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবী করেন, ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরনকালে বিএনপি কর্মীরা পারশুন গ্রামের জামায়াতের দুইজনকে আটক করে পুলিশে সংবাদ দেয়। জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা করে বাড়ি ভাংচুর করে এবং মাসুদ রানাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে তাদের কর্মীকে ছিনিয়ে নেয়। অপর দিকে, জামায়াত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংঘর্ষের জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কুর গ্রামে চোখ হারানো জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহ হেল গলিব হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারনা করে ফেরার সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফর মেম্বারের নেতৃত্বে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার ডান হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সে শহীদ জিয়া মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এছাড়া একই দিনে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী ফারুক হোসেন প্রচারনা কার্যক্রম চালানোর সময় বিএনপির সন্ত্রাসী মাসুদের নেতৃত্বে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং মাসুদের বাড়িতে তাকে বেঁধে রাখে। পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করার পরেও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় উত্তেজিত এলাকাবাসী মাসুদ বাহিনীর হাত থেকে জামায়াত কর্মীদের উদ্ধার করতে গেলে বিএনপির লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কিছু নেতার্কী আহত হয়। বিএনপি নেতা মাসুদ এলাকার অমুসলিম ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ পৌঁছার আগেই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে ভোটার মাঝে টাকা বিতরনের যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেবিষয়ে কোন প্রমান পাওয়া যায়নি।