শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-এটি রাষ্ট্রে চলমান বিচারহীনতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। হাদীর ওপর হামলার ১ মাস পূর্ণ হলেও খুনীদের বিচারের আওতায় আনতে না পারার দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের বিচার না হলে রাষ্ট্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
গতকাল শুক্রবার বাদ জুমআ বাইতুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিত ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আধিপত্যবাদ বিরোধী পদযাত্রা ও সমাবেশে এসব কথা বলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ। পদযাত্রা ও সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ।
মুনতাছির আহমাদ বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের রাষ্ট্রব্যবস্থা। অথচ সেই রাষ্ট্রেই যদি জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার না হয়, তাহলে এই রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার না হলে জনগণকে আবারও রাজপথে নামতে হবে, এবং সেই দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ফেলানী থেকে আবরার হয়ে শহীদ ওসমান হাদী; বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে ভীনদেশী আধিপত্যবাদ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সময়ে দেশের স্বার্থে তরুণদের আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আধিপত্যবাদ বিরোধী পদযাত্রার কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ২৪-এর পর যারা সুশীল কথাবার্তা বলতেন আজ শহীদ ওসমান হাদী ইস্যুতে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। হাদীকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও হাদীকে মুছে ফেলা যায় না। যারা শহীদ হাদীকে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে ও রাজপথে ছিল আগামী দিনে জনগণ তাদেরকেই সমর্থন জানাবে।
পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরোয়ার ও ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীল, তথ্য-গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পাদক কামরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস, দফতর ও যোগাযোগ সম্পাদক আশিক মাদবর, প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহদী ইমাম, পরিকল্পনা ও পাঠাগার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম খান লিখন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইব্রাহিম নাসরুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক তুহিন মালিক, কওমি মাদরাসা সম্পাদক সাঈদ আবরার, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আব্দুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য তানভীর আহমেদ শোভন, বি এম মাহদী আল হাসান প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।