বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘‘দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার চাঁদাবাজির বৈধতা দিচ্ছে”।
তিনি বলেন, সরকারের সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলছেন সমঝোতার ভিত্তিতে চাঁদা নিলে সেটি চাঁদাবাজি হবে না! এর অর্থ সরকার চাঁদাবাজদের উৎসাহ দিচ্ছে। কিসের সমঝোতার ভিত্তিতে চাঁদা দেওয়া যাবে তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে তিনি সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু জনগণ হ্যাঁ ভোট দেওয়ার পর বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। খুনি হাসিনা যেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে সেই একই সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে ভন্ডামি শুরু করেছে। জাতি কোনো প্রতারণা আর ভন্ডামি মেনে নেয় না, নেবে না।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শাহজাহানপুর পূর্ব থানার উদ্যোগে ইফতার ও সেহরির ফুট প্যাকেট বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়েজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, রমজান মাস হচ্ছে তাকওয়া অর্জন এবং আত্মশুদ্ধির মাস। নিজের ভুলত্রুটির জন্য তাওবা করে সংশোধন হয়ে দ্বীনের মতে ফিরে আসার এক সুবর্ণ সুযোগ রমজান মাস। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের অস্বাভাবিক কষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার দলীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ভুর্তকি দিয়ে হলেও মানুষকে স্বস্তি দিতে হবে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, সংবাদপত্র হাতে নিলেই দেখা যায় সারাদেশে চাঁদার জন্য মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনা চালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ঐ ঘটনার ৪দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে ‘‘চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাবে”! যখন ব্যবসায়ীদের একটি বৃহৎ সংগঠন এই ঘোষণা দেয় তখন বুঝার বাকি থাকে না চাঁদাবাজি কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছিয়েছে। তিনি সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ দমনে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি দলীয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারেন তবে দেশ ছেড়ে আবারও পালিয়ে যেতে হতে পারে।
মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমীর মুহাম্মদ শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মো. আনোয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন চঞ্চল এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল আলীম সুজন। আরও বক্তব্য রাখেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল খালেক ও ওয়ার্ড সভাপতি নাছির উদ্দিন রুমেল। এছাড়াও অনুষ্ঠানে শাহজাহানপুর পূর্ব থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।