১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র বাকি ১১ দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই বাড়ে বিদেশি কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ; সরকার আর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ যেন অনেকটাই রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেখা যাচ্ছে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্যস্ততা। তারা দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাতে দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ও শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকও সেরেছেন। এই দলে আছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রতিনিধি দল ছাড়াও মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ প্রভাবশালী বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।
নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশে কর্মরত বিদেশি কূটনতিকদের; বিশেষ করে উন্নত বিশে^র শক্তিশালী দেশগুলোরও কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ইউরোপ-আমেরিকার কূটনীতিকরা বাংলাদেশের কম-বেশি সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও নির্বাচনের অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করে আসন্ন ভোটের চিত্র কেমন হতে পারে তা জানা-বোঝার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তারা নির্বাচনের প্রার্থী এবং ছাত্রসংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের সাথেও মতবিনিময় করেছেন। মূলত বিদেশিরা তাদের বিনিয়োগ স্বার্থ অক্ষুণœ রাখতে এ দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ এবং সহিংসতামুক্ত ভোট অনুষ্ঠান দেখতে আগ্রহী। অন্যদিকে, তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখছে বিদেশিরা। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঢাকায় বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার মিশনপ্রধানরা কথা বলেছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দূতাবাস, স্থানীয় মিশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা খোঁজ নিচ্ছেন। এ কাজে কিছু মিশনের নির্ভরতা স্থানীয় ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ওপর।
জামায়াতের সাথে কূটনৈতিকদের দফায় দফায় বৈঠক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সাথে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতরা। গত বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর বসুন্ধরার আমিরে জামায়াতের কার্যালয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সোমবার (১২ জানুয়ারি ) রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক চলতি জানুয়ারিতে বিএনপি ও জামায়াত প্রধানদের সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেন। হাইকমিশনার বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যুক্তরাজ্যের দীর্ঘস্থায়ী উৎসাহ পুনর্ব্যক্ত করেন।
দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এবারকার নির্বাচনের ওপর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের সরকারগুলোর তীক্ষè নজর রয়েছে। টানা প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও তার দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কে স্থবিরতা নেমে আসে। ভারত সরকার আশা করছে, নির্বাচনের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গতি সঞ্চারের সুযোগ তৈরি হবে। ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাও সম্প্রতি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াত দৃশ্যমান কার্যক্রম বেড়েছে বহুগুণ। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমানভাবে সক্রিয় দলটি। বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রণে বিদেশ সফর করছেন দলটির নেতারা। বাংলাদেশে থাকা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন জামায়াতের সঙ্গে। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২৫ টি দেশ ও তিন সংস্থার রাষ্ট্রদূত, প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ দেশের রাষ্ট্রদূত, প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতের নেতারা।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান যে গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় হোটেল ওয়েস্টিনে নির্বাচন কমিশনের সব সদস্য দেশে অবস্থানরত সব বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে কমিশনের প্রস্তুতি, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হবে। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠেয় ব্রিফিং অনুষ্ঠানটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত নয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এসে ইসি সচিব গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করবেন।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপের ২৭টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার গত ২০ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নির্বাচন ইস্যুতে বৈঠক করেন। গত ২২ জানুয়ারি রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া ইইউ রাষ্ট্রদূত এর আগে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ জানা-বোঝার চেষ্টা করা। ঢাকায় কর্মরত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক নির্বাচন ইস্যুতে গত ১৭ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে ব্রিটিশ হাইকমিশনার একই ইস্যুতে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া ঢাকায় সদ্য নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন গত ১৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নির্বাচন ইস্যুতে বৈঠক করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত একই ইস্যুতে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন।
ঢাকায় অবস্থিত ইইউ কার্যালয় জানিয়েছে, ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান রাষ্ট্রদূত মিলার গত ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা ও ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্র্যাসির সহযোগিতায় পরিচালিত নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশের নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয় এ জন্য একটি ব্যাপক সহায়তা প্যাকেজ দিয়েছে, যা নাগরিক সমাজ, প্রশাসন এবং ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পর্যন্ত বিস্তৃত। নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসাধারণের আস্থা বাড়াতে পর্যবেক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত ইইউ কার্যালয় জানিয়েছে, ইইউ রাষ্ট্রদূত গত ২০ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সময়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলাদেশে কর্মরত ইউরোপের আরও সাতজন আবাসিক রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। এই সাক্ষাতে আসন্ন ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া এবং ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তাদের সমর্থনের বার্তা দেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে ইইউ এই দেশের সংস্কার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক গত ১৭ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের উৎসাহ পুনর্ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া তিনি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আন্তরিক সমবেদনাও জানান। হাইকমিশন আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডডোর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে কমনওয়েলথ। কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের দায়িত্ব হলো, নির্বাচনি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তার একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা।
এই দলটি বাংলাদেশ যে মানদ-ের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া পরিচালনার বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে, যার মধ্যে জাতীয় আইনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দলটি কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে নির্বাচনের ফলাফল এবং সুপারিশ সংবলিত একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসহ সব কমনওয়েলথ সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দলের তালিকায় আছেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডডো, ক্যারিবিয়ান উইমেন ইন লিডারশিপের প্রেসিডেন্ট লেব্রেচটা নানা ওয়ে হেসে-বেইন, কানাডার যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ নিল ফিলিপ ফোর্ড, প্যাসিফিক ইয়ুথ কাউন্সিলের সমন্বয়ক মিলিয়ানা ইগা রামাতানিভাই, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর ড. রাস আদিবা মোহাম্মদ রাদজি, মালদ্বীপের সাবেক উপমন্ত্রী জেফরে সালিম ওয়াহিদ, মরিশাসের নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ইরফান আবদুল রহমান, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ডেভিড জন ফ্রান্সিস, সিঙ্গাপুরের মানবাধিকার আইনজীবী সাঙ্গিথা যোগেন্দ্রন, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক ম্যান্ডলা এমচুনু, শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. দিনেশা সামারারতেœ, উগান্ডার অধ্যাপক উইনিফ্রেড মেরি তারিনেবা কিরিয়াবউইরে, যুক্তরাজ্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রোজমেরি আজায়ি ও জাম্বিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ক্রিটিকাস প্যাট্রিক এনশিনদানো। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র শান্তি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন গবেষক অধ্যাপক ড. সাহাবুল হক বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতা নতুন বা অস্বাভাবিক নয়। বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার বহু দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত, যারা সারা বছরই নানা সফরসূচি ও কর্মকা- নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তবে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের সক্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি চোখে পড়ছে। এর প্রধান কারণ হলোÑ তারা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, স্বাধীন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চান, যা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আনতে পারে।