আব্দুর রাজ্জাক রানা, আবু সাঈদ বিশ্বাস, এম এ আর মশিউর রহমান

খুলনার শিল্প ও কৃষি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সরকারের ভুলনীতি ও লুটপাটে একের পর এক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে। জামায়াত আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের রায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পেলে বন্ধ মিল কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন কারখানা স্থাপন হবে। তিনি বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদেরকে অপমান করতে চাই না। আমার তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদেরকে সম্মানিত করতে চাই। জুলাই বিপ্লবে তাদের যে অবদান, কিছুটা হলেও তার ঋণ শোধ করতে চাই।

গতকাল মঙ্গলবার খুলনায় ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী ও জেলা শাখা আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। দুপুর ২টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশের কাজ শুরু হয়। জামায়াতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোটা নগরী হয়ে উঠেছিল লোকেলোকারন্য। নির্ধারিত সময়ের আগেই সার্কিট হাউজ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্নস্থানে সহিংসতা ও হানাহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমীর। তিনি বলেন, একটি দল একদিকে দিচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে দিচ্ছে মা বোনদের গায়ে হাত। যারা মাকে অসম্মানিত করছেন, তাদেরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের রায়ে আস্থা রাখুন। অতীতে যারা আস্থা রাখেননি তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। হামলার সাথে জড়িতদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখন মাঘ মাস। এখনই যদি মাথা এতো গরম থাকে, তাহলে চৈত্র এলে কি করবেন?

জামায়াত আমীর জনসভায় আগত সবাইকে জনগণের ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা প্রত্যেকটি নর নারীর ভোটের অধিকারের পাহারাদার হবেন। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। কিšুÍ আমরা বাক্স পর্যন্ত ভোটারকে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কালে এবং তারও আগে ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার তান্ডবে নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। সেই সাথে আহত, পঙ্গু, কারা নির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ আমি এখানে জামায়াতের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়াইনি। বিগত ১৬ বছর যে সকল মায়ের বাবার বুক খালি করা হয়েছে, যে সকল বোনের কাছ থেকে স্বামীকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যে সকল শিশুকে পিতাহারা করা হয়েছে- আমি তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছি। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে, ব্যাংক লুট করে, শেয়ার বাজার লুটপাট করে বিদেশে বেগম পাড়া বানিয়েছিল।

জামায়াতের ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর অতীতে জুলুম অন্যায় করা হলেও ৫ আগস্টের পরে প্রতিহিংসাপরায়ণ না দলের প্রতিটি নেতাকর্মী পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছিলেন জানিয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, এর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে প্রমাণিত হয়েছে কাদের কাছে তারা নিরাপদ। ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দলের মন্ত্রী এমপিদের নিজস্ব কোন লাভালাভ নয়, বরং গোটা বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল শক্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড় করানো হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

অনেকেই পুরাতন ফ্যাসিবাদের অ্যাপ্রোন গায়ে দিতে চাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে এ দেশের যুব সমাজ জানিয়ে দিয়েছে তা আর সম্ভব নয়। ৫টা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে যুব সমাজ তা জানিয়ে দিয়েছে।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অনেকেই সন্ত্রাস, গুজব ও মিথ্যা ছড়িয়ে জোর করে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে। যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ, লুটপাট করে ক্ষমতায় যেতে চায়, দেশের জনগণ তাদেরকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সনাতন ধর্মের মানুষদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। আগামী নির্বাচনে জামায়াত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন মানবিক বাংলাদেশ গঠন করা এবং খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল কারখানা চালু, পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ, বন্দর নগরী খুলনায় আধুনিক বিমান বন্দর স্থাপন এবং ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশের প্রতিশ্রুতি দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসলামি ছাত্রশিবির বিজয় লাভের পর ক্যাম্পাস থেকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত হয়েছে। এটা একটা নমুনা। আগামী দিনে জনগণ ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় পাঠালে বিপ্লব উত্তর নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী খুলনা জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দী।

এতে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার, অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়ক নিজাম উদ্দিন অমিত, এনসিপির খুলনা জেলা আহ্বায়ক মো. ফয়জুল্লাহ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বক্কার সিদ্দিক মোড়ল, লেবার পার্টির প্রতিনিধি মো. সাইফুদ্দোহা, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার, খেলাফত মজলিস খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম, খুলনা জেলা সভাপতি মাওলানা এমদাদুল হক, খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি এফ এম হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির খুলনা মহানগর সভাপতি এডভোকেট হানিফ উদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিল, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মো. জাকির হোসেন খান, মহানগরী জামায়াতের সহকারী এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য খুলনা মহানগরী সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, খুলনা জেলা উত্তরের সভাপতি ইউসুফ ফকির, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু জার গিফারীসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয়, মহানগরী ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। খুলনার কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক এর পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভার শুরুতে ইসলামী সংগীত পরিবেশন প্রেরণা সাহিত্য সংসদ ও টাইফুন শিল্পী গোষ্ঠী।

সাতক্ষীরা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরাবাসির ওপর। সাতক্ষীরাবাসীর সাথে সাড়ে ১৪ বছর সৎ মায়ের মত আচরণ করা হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার মানুষের অপরাধ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মানুষ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় এখানে কোন উন্নয়ন হয়নি। সাতক্ষীরা ছিল সবচেয়ে অবহেলিত জেলা। সাতক্ষীরাকে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা ভেবেছিল এই অবস্থা চিরকাল থাকবে। কিš‘ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন, আর যাকে ইচ্ছা সম্মান কেড়ে নেন। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে সাতক্ষীরার উন্নয়নে সর্বো”চ গুরুত্ব দেয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা, শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায়, ইনসাফ, জনগণের সরকার ও মদিনার শাসন আমলের সুশাসন কায়েম করার জন্য আপনারা যদি আমাদের উপহার দেন তাহলে আপনাদের প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো এবং এই ঋণ পরিশোধ করার জন্য পুরো সময় জুড়ে আমরা চেষ্টা করবো। আপনাদের সাথে আলোচনা করে আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধান করবো। উপর থেকে কিছুই চাপিয়ে দেওয়া হবে না। এইটুকু আমরা নিশ্চয়তা দিতে পারি, আল্লাহ যদি তার মেহেরবাণীতে আপনাদের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ আমাদের দেন, তাহলে কোনো শিক্ষিত চোরের হাত আপনাদের কোন অংশ খেয়ে ফেলতে পারবে না। এই দুখী বাংলাদেশের সম্পদ লুট করে কিছু লোক কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত এবং কিছু লোক জনগণের সেবক হয়ে এমন এমন কাজ করেছে যে তারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। যার ডকুমেন্ট আছে। আর যেটার ডকুমেন্ট নাই সেটার কোনো হিসাব নাই।

তিনি বলেন, আমরা দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি, আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিলে ওদের পেটের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে জনগণের সম্পদ বের করে আনবো ইনশাল্লাহ। যা পারি যতটুকু পারি কোনো ক্ষমা নেই এই ব্যাপারে। জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের ব্যাপারে আমাদের কোনো দয়াও নেই, ক্ষমাও নেই। এখানে আমরা কঠোর, এখানে আপোষ নয়। আর ভবিষ্যতের বার্তা হবে এখন থেকেই- যখন এই সরকার শপথ নিবে অতীতে যা করেছে এটা পরে দেখা যাবে, এখন থেকে কেউ আর কালো টাকার দিকে হাত বাড়াতে পারবা না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জামায়াতের বিজয় চাইনা; ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু মানুষকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। মা বোনদেরকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন ও অত্যাচার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫ তারিখে আল্লাহ যখন আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তখন আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। জননিরাপত্তা রক্ষায় নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের কথা বলেছি। কোথাও অমাদের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজিতে ঝাপিয়ে পড়ে নাই। মামলা করে নাই। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’

দলের নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোনো ব্যক্তির বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না। আামাদের নেতা-কর্মীরা কোনো চাঁদাবাজি করেনি। অন্যায়ভাবে কাউকে মামলা দেয়নি। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলও গত ১৫ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। “অনেক সময় জুলুমের শিকার মানুষই পরে জালিম হয়ে যায়। তাই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি,” বলেন তিনি।

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সরকার গঠনের লক্ষ্যে সমর্থন চান জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুইটা দুষ্টু চক্রের কারণে আজ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। একটা চাঁদাবাজ, আরেকটা সিন্ডিকেট। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে প্রথমে চাঁদাবাজদের হাত শক্ত করে ধরে ফেলবো। তারপর সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করে দেব। কোনো সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব রাখা হবে না।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিতদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে এবং যারা দেশের জন্য অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেন, তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হবে।

জামায়াত আমীর বলেন, দেশের তরুণ সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আকাক্সক্ষা ক্রমেই বাড়ছে। ভোট প্রসঙ্গে বলেন, ‘হা’ অর্থ আজাদী ‘না’ অর্থ গোলামী। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে হা ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন হা ভোট দিলে বাংলাদেশ জিতে যাবে না ভোট দিলে বাংলাদেশ হেরে যাবে বলে মন্তব্য কনে তিনি।

এর আগে ২০১৫ সালে সাতক্ষীরায় সফরের স্মৃতিচারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এসেছিলেন। “যে মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, যে শিশুরা বাবাকে হারিয়ে কষ্টে আছে তাদের চোখের পানি আমি দেখেছি,” স্মৃতিচারণ করেন তিনি। তিনি ভারতকে ইঙ্গিত ও আইসিসির সিদ্ধান্ত পূনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা প্রতিবেশীদেরকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই। তবে কাউকে প্রভূ হিসেবে আসতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন তিনি।

সমাবেশে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতেরক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামসহ জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, বাংলাদেশ মসজিদ মশিনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওঃ খলিলুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ জেলা সভাপতি মুহাদ্দিস মোস্তফা কামাল, আমার বাংলাদেশ (এবি) পাটি সদস্য সচিব জি এম সালাউদ্দীন শাকিল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পাটির জেলা সভাপতি সাইফুজ্জামান মিঠু, সাতক্ষীরা শহর শাখা শিবিরের সভাপতি আর মামুন, সাতক্ষীরা জেলা শিবিরের সভাপতিজুবায়ের হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর জেলা আহ্বায়ক আরাফাত হোসেনসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃৃত্ব বৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান।

যশোর : জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে দেশে ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবেÑএমম মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, আর এই পাল্লার মাপে ইনশাল্লাহ কোনো ধরনের কমবেশি করা হবে না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে যশোর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তায়ালার রহমতে যদি জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে যশোর শহরকে সিটিকরপোরেশনে উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে যশোরে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন, সদর হাসপাতালের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ভৌত অবকাঠামো শক্তিশালী করণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব দাবি কোনো অযৌক্তিক বা অসম্ভব দাবি নয়; বরং এগুলো যশোরবাসীর ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রত্যাশা। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করবে।

জনসভায় উপস্থিত জনগণের প্রতি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, হ্যাঁ মানে আজাদী, আর না মানে গোলামী।

এ সময় জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যশোরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। পাশা পাশি যশোরে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করা হয়। যশোরে নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট চাওয়া সবার অধিকার। আপনারা নারীদের গায়ে হাত তোলার কে? আমাদের নারী কর্মীরা ভোট চেয়ে কি অপরাধ করেছে।

সকালে ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক গোলাম রসুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্ছু, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ সহ ছয়টি আসনের প্রার্থীরা। এছাড়া বক্তৃতা করেন জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল, জেলা প্রধান সমন্বয়ক মো: নুরুজ্জামান জুলাই যোদ্ধা আমানুল্লাহ, খেলাফত মসলিস ও খেলাফত আন্দোলনের জেলা নেতৃবৃন্দ,ছাত্র শিবিরের শহর ও জেলা সভাপতি বৃন্দ।

জন সভায় হাজার হাজার নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে যশোরের ময়দান মুখরিত হয়। সকাল ৮টায় জনসভার নির্ধারিত সময় থাকলেও সাড়ে সাতটায় শুরু হয়। ভোর থেকে মানুষ আমিরে জামায়াত কে এক নজর দেখতে এবং তার মূল্যবান বক্তব্য শুনতে ছুটে আসেন।

আমিরে জামায়াত তার বক্তব্যে আরও বলেন, জামায়াত দেশের সবচেয়ে মজলুম সংগঠন। আমাদের ১১জন নেতাকে জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে। তারা আমাদেরকে রেখে গেছেন আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য। মানুষ পরিবর্তন চাই। চাদাঁবাজদের আর ক্ষমতায় দেখতে চাইনা। আপনারা আপনাদের আদর্শ প্রচার করুন। কিন্তু আমাদের আদর্শ প্রচারে আপনি বাধা দেয়ার কে? আমাদের কোনো নেতাকর্মী যদি আচরণবিধি লঙঘন করে তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে, প্রশাসন আছে। কিন্তু আপনি কে আমাদের মায়েদের গায়ে হাত দেয়ার। আপনি কে আমাদের ভোটের প্রচারে, আদর্শ প্রচারে বাধা দেয়ার। আপনি কে আইন হাতে তুলে নেয়ার। আপনি কে নারীদের ইভটিজিং করার। যুব সমাজকে আহ্বান যেখানেই দেখা হবে সেখানেই প্রতিরোধ। ছাড় দেবেন না। আমাদের ইজ্জত আর অধিকারের প্রশ্নে কোন ছাড় নয়।

আমরা কারো সাথে গায়ে পড়ে গ্যাঞ্জাম করতে চাইনা। কিš‘ কেউ যদি আমাদের পায়ে পাড়া দিয়ে গ্যাঞ্জাম করতে আসে আমরা ছাড় দেব না।

ঝিকরগাছায় দলীয় নেত্রীদের ওপর বিএনপির হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ব্যবস্থা গ্রহণের। তিনি বলেন, অনেকে জুজুর ভয় দেখায়। আমরা ভয় পাইনা। আমরা লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি দল। আমরা চাঁদা নেইনি। মামলা বাণিজ্য করতে চাইনা, দেখতেও চাইনা। ট্যাম্পু স্ট্যান্ড দখল নিয়ে আমরা কারো সাথে ঝগড়া বাধাইনি। সবাইকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে যশোর জেলার ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে তাদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

মাগুরায় জামায়াতের পথ সভা জনসভায় রুপান্তরিত

মোঃ সাইফুল্লাহ, শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা : নির্বাচনে ক্ষমতায় গেলে নিজেরা দুর্নীতি করবো না এবং কাউকে দুর্নীতি করতেও দিবো না। সবাইকে নিয়ে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়বো ইনশাআল্লাহ। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের উন্নয়নের নামে লুটপাট করে বিদেশে অর্থ পাচার করে বেগম পড়া বানিয়েছে।

গত সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মাগুরা আদর্শ কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী পথ সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, দুর্নীতিবাজদের টাকা এনে দেশের উন্নয়ন করা হবে। নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। পাঁচ বছরে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে পাল্টে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা দেশ শাসন করেছে, তারা কেউই জনগণের ওপর সুবিচার করেনি। কোনো সরকার বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে তারা দুর্নীতিমুক্ত ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমি শহীদ পরিবারের সন্তান, মুক্তিযুদ্ধকে হাজার বার সম্মান করি তবে এটিকে ব্যবসায় পরিণত করার বিরোধিতা করি। তিনি বলেন, শহীদরা কোনো দল বা পরিবারকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছেন।

বিগত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনে অর্থনীতি, বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে এবং ব্যাংক-বীমা-শিল্পখাতে লুটপাট হয়েছে।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ তারিখে দুটি ভোট হবে—গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামী। তিনি নারীর নিরাপত্তা ও যুবকদের মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন।

মাগুরা জেলা জামায়াতের আমীর ও ১১ দলীয় জোটের মাগুরা-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এম বি বাকেরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোঃ মোবারক হুসাইন, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাগুরা- ১ আসনের ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আলহাজ্জ আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ সিবগাতুল্লাহ। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক মাওলানা সাইদ আহমেদ বাচ্চুর সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মাহবুবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল গাফফার, সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মশিউর রহমান, মাওলানা মারুফ কারখী, সদর উপজেলা আমীর ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইসচেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক ফারুক হুসাইন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাগুরা জেলা সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম বিশ্বাস,শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর সহকারী অধ্যাপক মাওলানা ফখরুদ্দিন মিজান, ইসলামী ছাত্র শিবিরের মাগুরা জেলা সভাপতি মোঃ আমিন উদ্দিন আশিকসহ জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

শেষে মাগুরা-১ আসনে আলহাজ্জ আব্দুল মতিন ও মাগুরা-২ আসনে সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মুশতারশেদ বিল্লাহ বাকেরকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইনকিলাব জিন্দাবাদ শ্লোগান দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

কুস্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে কর্মসূচি শেষে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি সমাবেশস্থলে পৌঁছে বক্তব্য শুরু করেন,এবং বক্তব্য শেষে রাত সোয়া ৯ টার দিকে মাগুরা ছেড়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

মাগুরা আর্দশ ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত আমীরে জামায়াতের নির্বাচনী পথ সভাটি মূলত জনসভায় রুপান্তরিত হয়েছিল।