বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান আদেশ) ২০২৫-এ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণের আগে জনগণের মতামতই হবে সর্বোচ্চ প্রাধান্য। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন শুধু রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি জাতীয় আকাঙ্ক্ষা- সংস্কার বাস্তবায়নের বাস্তব প্রতিফলন। গণভোট ছাড়া নির্বাচন হলে কোনোভাবেই জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতিফল হবে না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, বিরোধীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে, গণহত্যা করেছে এবং ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এসব অপরাধের বিচার দৃশ্যমান না হলে দেশে স্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ৩টায় রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজনসহ ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনরত ৮ দলের উদ্যোগে এক প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা চাই- নির্বাচন হোক এমন পরিবেশে যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে, থাকবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। জনগণ চাইলে ক্ষমতায় যাবে, না চাইলে যাবে না- এটাই গণতন্ত্র। স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের অবৈধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি। দেশের রাজনীতি শুদ্ধ করতে হলে এদের অপতৎপরতার অবসান ঘটাতে হবে। আগামী দিনে দেশের মানুষ তাদেরকে আর প্রশ্রয় দেবে না। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপ দিতে। তাই ৮ দলের ৫ দফা দাবি আজ সময়ের সবচেয়ে যৌক্তিক ও জাতীয় স্বার্থসম্মত দাবি।
তিনি আরও বলেন, যৌক্তিক পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৩ ডিসেম্বর (বুধবার) রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে ৮ দলের অনুষ্ঠিতব্য রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার জন্য রংপুরবাসী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই।”
৮ দলের ঘোষিত ৫ দফা দাবি:
১. জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান আদেশ) ২০২৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করা।
২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয়কক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু করা।
৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৪. সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।
সমাবেশ বাস্তবায়নে কয়েকটি উপ-কমিটি বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়। সমাবেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগর সভাপতি মুফতি আব্দুর রহমান কাসেমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর জেলা আমির গোলাম রব্বানী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগর সেক্রেটারি মোঃ আমিরুজ্জামান পিয়াল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর জেলা সেক্রেটারি মাও. এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর জেলা সভাপতি এ টি এম গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রংপুর মহানগর সভাপতি মাওঃ ইব্রাহীম খলিল সাঈদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রংপুর জেলা সভাপতি মাওঃ নূর আলম সিদ্দিক, খেলাফত মজলিস রংপুর মহানগর সভাপতি ও রংপুর বিভাগের সহকারী পরিচালক মোঃ তৌহিদুর রহমান রাজু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) রংপুর জেলা সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রংপুর মহানগর সভাপতি আব্দুস সাত্তার শাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, খেলাফত মজলিস রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাঃ সাহিদুর রহমান রাজা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক মাঃ আবু বকর সিদ্দিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রংপুর জেলা সেক্রেটারি মোঃ হারুণ অর রশিদ ফুলবাবু, ইসলামী ছাত্রমজলিসের সভাপতি মাঃ ইসমাইল হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।