স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরার উদ্যোগে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান ও প্রচারণার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ও আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ওই সমাবেশে উপস্থিত থেকে গণভোটের বিপক্ষে বক্তব্য রাখেন, ‘না’ ভোটের পক্ষে আহ্বান জানান এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিপক্ষে ক্যাম্পিংয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেন।

সমাবেশে উপস্থিত কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মফিজ উদ্দিনসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের পক্ষে ভোটারদের আহ্বান জানান বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যারা ভোট দিতে আসবেন, তাদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এ ধরনের বক্তব্য ও অবস্থান সমাবেশস্থলে উপস্থিত অনেককেই বিস্মিত করে।

জুলাই বিপ্লবের অংশগ্রহণকারী পক্ষ হিসেবে সরকার ও প্রশাসন যেখানে দেশব্যাপী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান ও প্রচার চালাচ্ছে, সেখানে বিএনপি আয়োজিত একটি সমাবেশে আওয়ামী আমলের দলবাজ ও সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশ্য ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ রাজনৈতিকভাবে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বললেও তৃণমূলে আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার আশায় ভিন্ন সুরে ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলা হচ্ছে, যা দলীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দ্বিচারিতার উদাহরণ।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রতিপক্ষকে ‘দেখে নেওয়া হবে’-এমন হুমকিমূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বক্তব্যের ভিডিও ও অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুরো ঘটনাপ্রবাহ কাপাসিয়ার রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।