জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর ব্যানারে একটি সেমিনার আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ‘গণঅভ্যুত্থান ও অগ্রযাত্রার রাজনীতি: সংবিধানিক বৈধতার প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারটি ঘিরে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

ভিপি জিতুর অভিযোগ অনুযায়ী, এই সেমিনার আয়োজনের ক্ষেত্রে জাকসুর গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, কোনো আনুষ্ঠানিক সভা ছাড়াই এবং সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি সেমিনারের অতিথি নির্বাচন, বাজেট নির্ধারণ ও সময়সূচি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রেও সম্মিলিত মতামত নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, জাকসুর সভাপতি বা অন্যান্য দায়িত্বশীল সদস্যদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। প্রচারণা শুরুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

জাকসু ভিপির মতে, এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত জাকসুর গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এবং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাকসুর ব্যানারে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই সকল সদস্যকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিগত বা দলীয় ব্যানারে এমন আয়োজন করতে পারেন।

তবে জাকসু ভিপির এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেছেন জাকসু'র সমাজসেবা সম্পাদক ও উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজক আহসান লাবিব। তিনি জানান, আমি উক্ত সেমিনারের আয়োজক এবং আমি এই সেমিনার আয়োজন নিয়ে প্রথম আলোচনা করি জাকসু ভিপির সাথে।

তিনি জানান, "আমি প্রথমে সেমিনার আয়োজন নিয়ে ভিপির সাথে কথা বলছিলাম। ভিপি আমাকে জানায়, তিনি এখনো পর্যন্ত বিএনপির কোনো পদ না পাওয়ায় তার জন্য এই সেমিনারে থাকা কঠিন হবে। তাই তিনি আমাকে সেমিনার আয়োজনের সার্বিক বিষয়াবলি নিয়ে জিএস এর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।"

তিনি আরও বলেন, পরে আমি এ বিষয়ে জিএস এর সাথে কথা বলি এবং জাকসুর বেশিরভাগ সদস্যদের মতামতের প্রেক্ষিতে আমরা সেমিনার আয়োজন চূড়ান্ত করি।

সেমিনারে আলোচকবৃন্দদের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী কোনো শিক্ষক বা ভিন্নমতের কাউকে রাখা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এ বিষয়ে জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, আলোচক হিসেবে আমরা জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, জাবি'র যুগ্ন সম্পাদক অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। এছাড়াও আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা উভয়ই আলোচক হিসেবে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সেমিনার আয়োজনকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে আমরা রাত ৯ টায় জরুরি একটি বৈঠক ডেকেছি। বৈঠকের পরে আমরা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানাবো।

উল্লেখ্য, আগামী ৯ এপ্রিল জাহির রায়হান মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এতে দেশের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।