গোদাগাড়ী সংবাদদাতা : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মাহফিলে প্রধান অতিথি জামায়াতের নায়েবে আমীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল খালেক, ড. ওবায়দুল্লাহ, মাস্টার নোমায়ন আলী এবং চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ হিল কাফী। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, পবিত্র রমযান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই বরকতময় মাসেই মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়াতের জন্য পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। কুরআন এমন এক মহাগ্রন্থ যা মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করে দেয়।

তিনি বলেন, রমযানের সিয়াম কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি আত্মসংযম, তাকওয়া ও নৈতিকতার এক মহান প্রশিক্ষণ। রোজা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, অন্যায় ও অবিচার থেকে দূরে থাকতে শেখায় এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মানসিকতা গড়ে তোলে। রমযানের শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচার থেকে মুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কুরআন মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করলেই প্রকৃত ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকের সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয়, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কুরআনের আদর্শ ও ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে সৎ, দক্ষ ও আল্লাহভীরু নেতৃত্বের বিকল্প নেই। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য নৈতিক নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি। তাই দেশের মানুষকে নৈতিকতা ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে শান্তি, সাম্য ও মানবকল্যাণের শিক্ষা। ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে সমাজ পরিচালিত হলে সেখানে কোনো বৈষম্য, শোষণ বা অন্যায় টিকে থাকতে পারে না। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তব্যে জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, রমযান মাস মানুষের আত্মশুদ্ধি ও সমাজ সংস্কারের মাস। এ মাসের শিক্ষা ধারণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিশেষ অতিথি বক্তব্যে ড.ওবায়দুল্লাহ্ বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গঠনে ন্যায়, সততা ও ইনসাফের চর্চা অপরিহার্য। জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হলে সৎ নেতৃত্ব ও নৈতিক রাজনীতির বিকাশ ঘটাতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ রমযানের শিক্ষা ধারণ করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করার আহ্বান জানান।

শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়।