বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর চলছে চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প। এ যেন ‘কখনো শেষ না হওয়া এক প্রকল্পে’ (never ending project) পরিণত হয়েছে। মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যমতে বিগত কয়েক বছরে চৌদ্দ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে প্রকল্পটিতে। এখনো নগরবাসীর দুর্ভোগ লাগব হয়নি। প্রকাশিত তথ্যমতে গত আট বছরে চারটি বড় প্রকল্পে প্রায় ৯,৮৫২ কোটি টাকা খরচ করা হলেও নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়নি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও নগরীর বিভিন্ন এলাকা বারবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় মহানগরী জামায়াতের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর ওয়ার্ড দায়িত্বশীলদের নিয়ে আয়োজিত ধারাবাহিক পর্যালোচনা বৈঠকের পঞ্চম দিনে হালিশহর, পাহাড়তলী ও আকবরশাহ্ থানাধীন ৬টি ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থার মাঝে যথাযথ সমন্বয় না হওয়া, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ আছে যে, নালা ও খাল পরিষ্কারের নামে ভুয়া বিল তুলে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে, যার ফলে মাঠ পর্যায়ে খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হাইকোর্ট ও ক্যাবিনেট বিভাগ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো জবাবদিহিতা বা বড় কোনো শাস্তির নজির মেলেনি। নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমেই ‘লোপাটের’ প্রকৃত চিত্র বের করে আনা সম্ভব হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করে নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলরের মাধ্যমে জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে। নগরীতে পঁচাত্তরটি খালের মধ্যে সাতান্নটি খালের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ছত্রিশ খালের চলমান মেগা প্রকল্প আগামী বর্ষার পূর্বেই শেষ করে একুশ খালের সমন্বিত প্রকল্প হাতে নেয়া জরুরি। পুরো মহানগরীকে সংরক্ষণ পরিকল্পনার (conservency plan)অন্তর্ভুক্ত করে জনসচেতনা বৃদ্ধি ও ময়লা ব্যবস্থাপনাকে আরো উন্নত করা, পাহাড় দখল ও কাটা রোধ করে মাটির ক্ষয়রোধ, নালা-নর্দমা তথা ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই আদর্শ মহানগরী গড়ে তোলা সম্ভব।
উক্ত বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, ফখরে জাহান সিরাজী, আকবর শাহ থানা আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পাহাড়তলী থানা আমীর মুহাম্মদ নুরুল আলম প্রমুখ। এতে হালিশহর, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ থানা জামায়াতে নেতৃবৃন্দ ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।