এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্গো পৌঁছাতে বিলম্বের কারণে এলএনজি থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকায় শুক্রবারসহ তিন দিন গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রবিবার রাত ১২টা পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সার কারখানাসহ সব শ্রেণির গ্রাহকের লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকবে।
সাময়িক এই অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলে নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায় , দেশে গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। ঘাটতি সামাল দিতে ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। এ জন্য দু’টি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১১’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
অন্যদিকে বর্তমানে প্রতিশ্রুত গ্রাহকের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। যার বিপরীতে আমদানিসহ কমবেশি ২৮শ মিলিয়ন সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।
বাড়ন্ত চাহিদার বিপরীতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি থাকল দূরের কথা, বর্তমান উৎপাদন অব্যাহত রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সবচেয়ে শঙ্কার হচ্ছে দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুদ ফুরিয়ে আসছে। এক সময় দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
বর্তমানে দেশীয় উৎপাদনের ৫০ শতাংশ যোগান দেওয়া ফিল্ডটি এক সময় ১৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও ১৮ নভেম্বর পাওয়া গেছে মাত্র ৮৭১ মিলিয়ন ঘনফুট।পেট্রোবাংলা তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩০ জুনের রিপোর্ট অনুযায়ী গ্যাসফিল্ডটিতে অবশিষ্ট মজুদ ছিল প্রায় ১ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট)। এরপর চলে গেছে আরও একটি বছর, দৈনিক প্রায় ১ বিসিএফ করে গ্যাস উত্তোলন ধরা হলে ৩৬৫ দিনের উত্তোলন শেষে অবশিষ্ট মজুদ ৬০০ বিসিএফ থাকার কথা।