আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের ছলচাতুরির কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম।
হাসিব আল ইসলাম বলেন, যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণ খেলাপীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। তারা যদি ভবিষ্যতে এমপি বা মন্ত্রী হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ সংবিধান, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন নথিপত্র সরকারের হাতে থাকে। যারা বাংলাদেশের নাগরিকই নন বা যাদের রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য নেই, তারা এসব তথ্য অন্য রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে না, এর নিশ্চয়তা কোথায়?
হাসিব আরও বলেন, বিএনপি কিংবা জামায়াতের ঋণখেলাপি প্রার্থীদের ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের শর্তে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, তারা সেই ঋণ কোথা থেকে পরিশোধ করবে? দেশের সম্পদ লুট করে কি সেই ঋণ শোধ করা হবে?
হাসিব বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হলে এবং দেশে আবার কোনও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না দিতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নির্বাচন কমিশন সেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, ঋণখেলাপি প্রার্থীদের মনোনয়ন টেকনিক্যাল অজুহাতে বৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে, এমনকি আদালতে চলমান মামলার পরেও অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বহাল রাখা হয়েছে। এটি শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের বৈধতা দেওয়া।