বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শেখ বেলাল উদ্দীন সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি সাংবাদিকতাকে মিশন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। দক্ষ যোগ্য সাংবাদিক হিসেবে ভালো সুযোগ সুবিধা প্রদানকারী মিডিয়া হাউজ থেকে চাকরির প্রস্তাব পেলেও তিনি দৈনিক সংগ্রামের সাথে আমৃত্যু অবস্থান করেছিলেন। পেশার প্রতি সাংবাদিক বেলাল উদ্দীনের কমিটমেন্ট, জনগণের প্রতি তার ভালোবাসা ও মমত্ব, ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের সাথে তার নম্র ও বন্ধুসুলভ আচরণের বিবরণ তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী আন্দোলনের একজন সেনানী হিসেবে শহীদী মৃত্যুকেই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করতেন এবং আহত অবস্থায় ঢাকায় যাওয়ার আগে স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, তুমি শহীদের স্ত্রীর মর্যাদা পাবে।

শেখ বেলাল উদ্দিন অসংখ্য সাংবাদিক সৃষ্টি করেছিলেন উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমি নিজেও তার অনুপ্রেরণায় সাংবাদিকতা শুরু করেছিলাম। খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য হয়েছিলাম। বক্তব্য রাখতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়া মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদ সাংবাদিক বেলালের আদর্শকে ধারণ করে আগামীর পথ চলতে হবে। তিনি একুশে পদকের জন্য সাংবাদিক বেলালের নামের প্রস্তাব যথাসময়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে ব্যবস্থা গ্রহণ, সড়কের নামকরণে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং হত্যা মামলার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার শহীদ শেখ বেলাল উদ্দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি ছিলেন এক নির্ভিক ও সাহসী সাংবাদিক। যিনি অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। সাংবাদিক বেলালসহ কোন সাংবাদিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার হয়নি। বেলালসহ সকল সাংবাদিকের হত্যার পুনঃতদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও সঠিক বিচার না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে এমইউজে খুলনার সাবেক সভাপতি, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি, দৈনিক সংগ্রামের সাবেক খুলনা ব্যুরো প্রধান, খ্যাতিমান সংগঠক ও সমাজসেবক শহীদ সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দীনের ২১ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত দুইদিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনা আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

ইউনিয়নের সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানার পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ও খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন এমইউজে খুলনার সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূর, নির্বাহী সদস্য মো. এরশাদ আলী ও কে এম জিয়াউস সাদাত, এমইউজে খুলনার সাবেক সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান, কেইউজের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও এইচ এম আলাউদ্দিন, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. তরিকুল ইসলাম, এমইউজে খুলনার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, সাবেক কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ তরিকুল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য আহমদ মুসা রঞ্জু, সিনিয়র সদস্য ড. ফোরকান আলী, মাশরুর মুর্শেদ, আবুল হাসান শেখ প্রমুখ। পরে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।

স্মরণ সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতায় এবং এই জনপদের মানুষের কল্যাণে শেখ বেলালউদ্দীনের অবদান এখনও অসংখ্য মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। তার এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে আগামীতে একুশে পদকে ভূষিত করার দাবি জানানো হয়। একই সাথে নগরীর বৈকালী থেকে রায়েরমহল সড়কটির নাম শহীদ সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দিন সড়ক নামকরণের দাবি জানানো হয়। এছাড়া হত্যা মামলায় আসামীদের শাস্তি হয়নি অভিযোগ করে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে যথাযথ বিচার এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এদিকে এমইউজে খুলনা ঘোষিত দুইদিন ব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আজ বুধবার সকাল ৯টায় এমইউজে খুলনার উদ্যোগে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানাধীন রায়ের মহলস্থ শহীদ সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দীনের কবর জিয়ারত এবং যোহরবাদ খুলনা প্রেসক্লাবের নামাজের স্থানে দোয়া করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২০০৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত বোমা হামলায় শেখ বেলাল উদ্দীন আহত হন। পরে তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ফেব্রুয়ারি শাহাদাতবরণ করেন।