নামাজের বিধান প্রতিষ্ঠা ও যাকাতভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বসুন্ধরা থানা জামায়াত আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। থানা আমীর আবুল বাশারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইউসুফের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন থানা বায়তুল মাল সম্পাদক বারাকাত গাজী, থানা কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক মোল্লা, মুন্সি সিরাজুল হক ও নাসির উদ্দিন তারেক, থানা অফিস সম্পাদক মোবারক হোসাইন ও জামায়াত নেতা কাইয়ুম উদ্দিন প্রমূখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসের কল্যাণেই মানুষের মধ্যে সংযম, শৃঙ্খলা, সবর, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। একটি অবনাবিল ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে ওঠে। মানুষে মানুষে সৃষ্টি হয় সৌহার্দের সেতুন বন্ধন। মানুষ অন্য সময়ের তুলনায় বেশী আল্লাহমুখী ও বিনয়ী হয়ে ওঠেন। মূলত, মাহে রমজানের বরকতে মহান আল্লাহ তা’য়ালাই মানুষের মধ্যে এসব সৎগুলাবলী সৃষ্টি করে দিয়ে আমাদেরকে কল্যাণে পথে এগিয়ে নেন। তাই আমাদের সকলকে রমজানের হক যথাযথভাবে আদায় করে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি অর্জন করতে হবে। তিনি মাহে রমজানের প্রকৃতি শিক্ষা বাস্তবজীবনে ধারণ করে সকলকে তাক্বওয়াভিত্তি সমাজ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

তিনি বলেন, নামাজ ও যাকাত মহান আল্লাহ তা’য়ালার অত্যাবশ্যকীয় বা ফরজ বিধান। তিনি আমাদেরকে নামাজ কায়েম ও যাকাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর প্রকৃত নামাজী কখনো সুদ, ঘুষ, যেনা, ব্যাভিচার, দুর্নীতি, চুরি ও ডাকাতির সাথে যুক্ত হয় না। নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার কালামে হাকিমে ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষকে সকল প্রকার অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে’। কিন্তু ব্যক্তি পর্যায়ে নামাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই সমাজে নামাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে পারলেই সুশাসন ও মানুষের মুক্তি সম্ভব। তিনি দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।