ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে অনিয়ম, এজেন্ট বের করে দেওয়া এবং প্রার্থী ও তাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় তারা শতাধিক ভিডিও ফুটেজ ও প্রামাণ্য দলিল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে জমা দিয়ে বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোতে ভোট স্থগিত করার দাবি জানান। ইসি জানিয়েছে, জামায়াতের অভিযোগ খতিয়ে দেখে রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেবেন ।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় টিমের সদস্য অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমসহ ১১ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টির প্রতিনিধিরা।

মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের অন্তত ৩০টি কেন্দ্র থেকে শুরুতেই এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রার্থী অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন শফিকুল আলম একজন প্রবীণ শিক্ষাবিদ। তিনি নিজে লিখিত আবেদন দিয়ে ভোট বন্ধের দাবি জানিয়েছেন, কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। আমরা সেই আবেদনের কপি সিইসিকে দিয়েছি। এছাড়াও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুয়াপুর) আসনের অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

তিনি বলেন, নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) আসনের বেলাব পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের সহায়তায় জোরপূর্বক সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে প্রার্থীকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। ঝালকাঠি, পাথরঘাটা এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জেও একই ধরনের সংঘাত ও কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া শরীয়তপুরের বিভিন্ন আসনেও এজেন্টদের প্রবেশে বাধা ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জুর গাড়িবহরে হামলার নিন্দা জানিয়ে জামায়াত নেতারা বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও সংবাদের লিংক এরইমধ্যে কমিশনকে সরবরাহ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিইসি ও অন্যান্য কমিশনাররা আমাদের কথা ধৈর্য সহকারে শুনেছেন। তারা জানিয়েছেন, এখনই জরুরি বৈঠকে বসে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। আমরা চাই একটি পরিচ্ছন্ন ফলাফল, যা নিয়ে জাতির মনে কোনো প্রশ্ন থাকবে না।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, জামায়াতের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ভোট বন্ধের সুযোগ আছে কি না? হতে পারে। অভিযোগ আছে, সেটা প্রমাণিত হলে...। কারণ আমরা তো এখানে, তথ্য না নিয়ে বলতে পারব না। আগাম বলা উচিত না। আগাম বললে মানুষ বিভ্রান্ত হবেন। সেজন্য অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সে অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেবেন। এখন পর্যন্ত নির্বাচন পরিস্থিতিতে সমস্যা নেই।