২৯ মিন্টু রোডের লাল রংএর বাড়িটি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবন। সংসদীয় সরকার ব‍্যবস্হা প্রবর্তনের পর থেকে এ বাড়ীটি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অতীতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে ।

১৯৯১ সালে বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা ।এই বাড়ী থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি পালনের নেতৃত্ব দেয়া হয়েছিল ।

১৯৯৬ সালে বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। আএয়ামী দু:শাসনের বিরুদ্ধে এখান থেকে নেতৃত্ব দেয়া হতো।১৯৯৯ সালের ১২ মার্চ মিন্টো রোডের সেই বাড়িতে বিরোধী দলীয় নেত্রীর সাথে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যকরী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিলো । তিনি শিবিরকে আন্দোলন বেগবান করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে সেদিনই তার সাথে আমার সরাসরি প্রথম সাক্ষাৎ এবং পরিচয় ।এ বৈঠকে আমাদের পারফরমেন্সে তিনি খুব উৎসাহিত হয়েছিলেন। শিবিরের রাজনৈতিক ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

এখান থেকেই চারদলীয় ঐক‍্য জোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল। চারদলীয় জোটের সে আন্দোলন সফল হয়েছিল।

আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় সেই বাড়ীটি আজ বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি এর সরকারি বাসভবন । ইতোমধ্যে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এ বাড়ীটি তিনি বসবাসের জন‍্য ব‍্যবহার করবেন না । বিরোধী দলীয় নেতার অফিসিয়াল কাজ, কুটনৈতিক যোগাযোগ ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের জন‍্য এটি ব্যবহার করবেন।

এমন এক সময় জামায়াত বিরোধী দলের আসনে বসেছে যখন অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে দেশের রাজনৈতিক অংগনে বড় ধরনের সংকট বিরাজ করছে। ক্ষমতা গ্রহনের পর বিএনপি একের পর এক বিতর্কিত কাজ করে যাচ্ছে।

এক. ফ‍্যসিস্ট সরকারের পতনের পর একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল এদেশের তরুন যুব সমাজ।তাদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে প্রনীত হয়েছিল জুলাই সনদ। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংগীকার করে সকল রাজনৈতিক দল তাতে স্বাক্ষর করেছিল । জুলাই সনদের প্রতি জনগণের সমর্থন আছে কি না, তার জন‍্য ঐকমত‍্যের ভিত্তিতে গণভোটের আয়োজন করা হয় । জনগন ‘হ‍্যাঁ’ কে বিজয়ী করেছে।অথচ বিএনপি সরকার গঠনের পর জনগনের ম‍্যান্ডেটকে অস্বীকার করছে । বলা হচ্ছে ,সংবিধানে গণভোটের অস্তিত্ব নেই। জনগণের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দলের ভূমিকা কি হয় তা জনগণ দেখতে চায়।

দুই. সরকার গঠনের পর বিএনপি দলীয়করনের লাগামহীন যাত্রা শুরু করেছে।

তিন. সরকারের বরাদ্দ বন্টনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের এমপিদের সাথে বৈষম‍্য করা হচ্ছে।

চার. অতীতের সকল গনহত‍্যর বিচার সম্পন্ন করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

পাচ. বিদেশে পাচার কৃত ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ফেরত আনার কোন কার্যকর উদ‍্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

ছয়. প্রকৃত সত‍্য আড়াল করে মিথ‍্যচার করে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে।

সাত. ফ‍্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ফিরে যাবার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
আট. সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের অভিপ্রায়কে অবজ্ঞা করা হচ্ছে ।

নয়. সাধারন মানুষের প্রাপ‍্য বুঝিয়ে না দিয়ে দলীয় লোকদের সরকারী সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

২৯ মিন্টু রোডের বাড়িতে ২১ মার্চ কুটনীতিকদের এবং বিশিষ্ট ব‍্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সাংবাদিকদের তাৎক্ষনিক প্রশ্নের উত্তরে আমীরে জামায়াতের বক্তব‍্য আগামী দিনের রাজনীতিতে তার যৌক্তিক ভূমিকার ইঙ্গিত বহন করে। রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করে, জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে মিন্টু রোডের বাড়ীটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে এটাই জনগণের প্রত‍্যশা।