কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের মাসিলিয়া গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের খোকসা ও কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত বিএনপি কর্মীরা হলেন— ফুলবাড়িয়া গ্রামের খাইরুল ইসলাম (৪০), তুহিন (৩০) ও নিজামুদ্দিন (৪০)। অপরদিকে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে আহত হয়েছেন উত্তরশ্যামপুর গ্রামের শেখ সাইদুল ইসলাম সাঈদ (৩৩), মাসিলিয়া গ্রামের মাসুম বিল্লাহ (২২) এবং এস এম আবু দাউদ (৫০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাসিলিয়া গ্রামের রহমান প্রামাণিকের বাড়িতে জামায়াত নেতা ও ইউপি সদস্য মো. আবু দাউদসহ কয়েকজন নেতাকর্মী দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে গেলে পরিবারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাসিলিয়া বাজারে শালিস বৈঠক বসে। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বিএনপি ও জামায়াত–ছাত্রশিবিরের কর্মীরা আহত হন।
পরে বিএনপি তাদের আহত কর্মীদের খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং জামায়াত পক্ষ কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ঘটনার পর বুধবার দুপুরে উপজেলা জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম ও স্থানীয় বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে উভয় পক্ষ বসে আপস-মীমাংসায় পৌঁছায়। ভবিষ্যতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই বলে দুই পক্ষই স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান।
খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাহমাদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা: তাসমিন জাহানের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দলও এলাকা ঘুরে দেখে।
এ বিষয়ে খোকসা থানার ওসি মোতালেব হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।