জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সরকারি-বেসরকারি চাকরির মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরি যা-ই হউক কাউকে ঠকানো হলে শুধুই ডিউটি করবে আর ন্যায্যতা পেলে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে। নার্সিং পেশাকে সিনসিয়ার সার্ভিস আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের শুধুই ভাল রাখলে সমাজ ভাল থাকবে। নীতি-নৈতিকতার পরিবর্তন না হলে শুধু আইন করে কাউকে বদলানো যায় না বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিন্টু রোডের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে জাতীয় নার্সেস সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল নার্সেস ফোরাম (এনএনএফ) আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক ড. মো. ইউনুছ আলী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. রফিকুল ইসলাম “Ethical Message of Humanity from The Holy Quran ” শীর্ষক আলোচনা উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে নার্সিং পেশার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডিপার্টমেন্ট অব গ্র্যাজুয়েট নার্সিংয়ের প্রভাষক বুশরা-ই-জান্নাত।
ইউনাইটেড হাসপাতালে নিজের বাইপাস সার্জারির অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমার যখন জ্ঞান ফিরে তখন দুই পাশে দুজন নার্সকেই দেখতে পেয়েছি, ডাক্তার নয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি বেসরকারি চাকরির মধ্যে ব্যালেন্স করা হলে কেউ সরকারি চাকরির পেছনে দৌড়াবে না। তিনি উল্লেখ করেন, যে সমাজ নাগরিককে মর্যাদা দেয় না সেটা ব্যর্থ সমাজ। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ১৮ কোটি মানুষের হাতকে প্রদীপ বানানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নার্সিং পেশাকে স্বর্গীয় পেশা মনে করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, ওয়াশিংটনে যেতে হলে পশ্চিম দিকের গাড়িতে উঠতে হবে। উল্টোপ পূর্বদিকের গাড়িতে আরোহন করলে জাপান নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশকে মডেল রাষ্ট্র বানানোর জন্য দারুস সালাম ব্রুনাই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সেদেশের সরকার প্রধানের বাসার সামনে সিকিউরিটি লাগে না। রাস্তায় চলতে পুলিশ স্কট লাগে না। কারণ "ব্রুনাইয়ের সুলতান জনগণের পেট ভরানোর চিন্তায় থাকেন, নিজের পেট না। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নেতাদের বুলেট প্রুফ গাড়ি লাগবে না। তিনি এও বলেন, আমরা সরকারি দলে থাকলে যে কাজ করব, বিরোধী দলেও থেকেও তাই করব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা নৈতিকতার চর্চা করতে চাই। নৈতিকতার মাধ্যমে মানুষের মাঝে পরিবর্তন আনতে চাই। এজন্য দেশের ১৮ কোটি মানুষের হাতকে শক্তিশালী করতে চাই। আমরা মনে করি শুধু আইন করে কাউকে বদলানো যায় না।
নার্সদের উদ্দেশে জামায়াত আমীর বলেন, আপনাদের কাজটাকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করুন। জাতি যেন বুঝতে পারে, এরাই আমাদের প্রিয়জন, এরাই আমাদের আপনজন।
সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন-ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, এফডিএফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. সাজেদ আ. খালেক, এফডিএফের ঢাকা মহানগরী সভাপতি ডা. জিএম ফারুক হোসেন, বারডেম নার্সিং কলেজের আহত জুলাই যোদ্ধা মো. শাহরিয়াতুর রহমান শিপু, এনএনএফ'র সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, এনএনএফ'র ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মো. নিয়াজ মাখদুম, উত্তরের সভাপতি আলাউদ্দিন ইবনে আবু তাহের, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফোরামের (এমটিএফ) সভাপতি সোহেল রানা, বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) সভাপতি ড. মো. শরিফুল ইসলাম ও মহাসচিব মো. আসাদুজ্জামান জুয়েল।
বক্তারা নার্সিং পেশার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা, নার্সদের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পেশার মর্যাদা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাসমূহ তুলে ধরেন।