স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গাজীপুর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ হোসেন আলী এবং গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. জাহাঙ্গীর আলম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। একই দিনে গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় জেলার নির্বাচনী সমীকরণে স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৫০ জন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মোট ৮ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে পাঁচ আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে। এর মধ্যে গাজীপুর-২ আসন থেকে সর্বাধিক ৪ জন, গাজীপুর-৩ আসন থেকে ২ জন, গাজীপুর-১ ও গাজীপুর-৫ আসন থেকে ১ জন করে প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। গাজীপুর-৪ আসনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
গাজীপুর-৩ আসনের সাবেক প্রার্থী ড. জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর এক আবেগঘন ও ইতিবাচক বক্তব্যে বলেন, তিনি আমীরে জামায়াতের নির্দেশনায় জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং স্বল্প সময়েই যে আস্থা ও ভালোবাসা পেয়েছেন তা আজীবন স্মরণে থাকবে। বৃহত্তর স্বার্থ, ঐক্য ও জোটগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন আনুগত্যই কল্যাণের পথ। তিনি আরও বলেন, তিনি গাজীপুরের মানুষের পাশে আগের মতোই থাকবেন এবং ব্যক্তিগত জয় নয়, জনগণের ও জাতীয় বিজয়ই তাদের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে গাজীপুর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ হোসেন আলী মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি গাজীপুর-২ আসনের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন এবং সংগঠনের আস্থা ও মানুষের ভালোবাসা নিয়েই সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করে এসেছেন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহত্তর ঐক্য ও জোটের স্বার্থে গাজীপুর-২ আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামী ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক সমর্থন তৈরি হয়েছে। তিনি গাজীপুর-২ আসনের টঙ্গী পূর্ব, টঙ্গী পশ্চিম, গাছা, সদর মেট্রো ও রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবেন এবং সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রেখে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে একযোগে কাজ করবেন।
একই দিনে গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়ন প্রত্যাহার নির্বাচনী মাঠকে আরও কেন্দ্রীভূত করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যেবক্ষকরা। তাদের মতে, জোটগত সিদ্ধান্ত ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ফলে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন ও নির্বাচনী কৌশলে স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
প্রতীক বরাদ্দের পর গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে অবশিষ্ট ৪২ জন বৈধ প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। জামায়াতের দুই প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো ও ঐক্যের আহ্বান গাজীপুরের নির্বাচনী রাজনীতিতে ইতিবাচক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনৈতিক চর্চার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।