আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে যখন সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা প্রয়োজন, তখন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জনমনে সংশয় ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে। নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত রাখার পরিবর্তে এমন রহস্যজনক সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো—তা দেশবাসীর কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনসিসির মতো নিরপেক্ষ সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া এবং এখন সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বরং অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের একটি কার্যকর হাতিয়ার। এই সুযোগ কেড়ে নেওয়ার অর্থ হলো ভোট জালিয়াতি ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর পথ সুগম করা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এ দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। অথচ সেই আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ৪০০ গজের এই অযৌক্তিক বিধিনিষেধ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভোটারদের চলাচল ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে এবং ভোটার উপস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় অবিলম্বে এই হঠকারী ও অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনসহ গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।