আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রে ব্যবহারে পুলিশের জন্য ২৫ হাজার বডিঅর্ন ক্যামেরা কিনেছে সরকার। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় চীনের তিনটি কোম্পানী থেকে এই ক্যামেরাগুলো কেনে। এর আগে সরকার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে একটি করে এই ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে আর্থিক দিক ও সময় বিবেচনা করে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। এখন ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রণীত তালিকা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে এই ক্যামেরা ব্যবহার করবে পুলিশ। পুলিশ সদর দফতর সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম এন্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম গতকাল রোববার দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে পুলিশের ব্যবহারের জন্য ২৫ হাজার বডিঅর্ন ক্যামেরা কিনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি জানান, এ ক্যামেরাগুলো চীনের তিনটি কোম্পানীর। তার মধ্যে দ্য হুয়া কোম্পানী থেকে ১০ হাজার, দায়মানতে থেকে ১০ হাজার ও টিডিটেক থেকে ৫ হাজার ক্যামেরা কেনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার বডিঅর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা শুরুতেই করে সরকার। সরকার প্রধানও এ ব্যাপারে সায় দেন। সে মতে, বডিঅর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথম অগ্রাধিকার পায়। এরপর গত ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বডিঅর্ন ক্যামেরা থাকবে। তিনি জানান, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য ৪০ হাজার বডিঅর্ন ক্যামেরা কেনা হচ্ছে না। যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, শুধু সেখানেই দেওয়া হবে। ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনা করে এসব ঠিক করবে বলেও সে সময় উল্লেখ করেন তিনি।
জানা গেছে, এই ক্যামেরা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশসহ আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের ইউনিফর্মের (পোশাক) সঙ্গে ব্যবহার করবেন। ভোটকেন্দ্রের যেকোনো ঘটনার দৃশ্য এই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হয়ে যাবে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিক পক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোট গ্রহণকালে পুলিশ সদর দপ্তরের কমান্ড সেন্টার থেকে বডিঅর্ন ক্যামেরা দিয়ে সরাসরি ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রতিটি বডিঅর্ন ক্যামেরার ভেস্টের সঙ্গে জিপিএস ট্রাকিং ডিভাইস লাগানো থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটকেন্দ্রের যেকোন ঘটনার বিতর্ক সমাধানে সহায়ক হতে পারে
বডিঅর্ন ক্যামেরা। ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সরাসরি রেকর্ড করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কাজটিও করা যাবে।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনের পর বডিঅর্ন ক্যামেরা যেকোন গ্রেপ্তার ও তল্লাশি কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে গ্রেপ্তার ও তল্লাশিকালে যেকোন ঘটনার দৃশ্য বডিঅর্ন ক্যামেরায় ধারন করা যায়। কোন বিতর্ক উঠলে ক্যামেরায় ধারনকৃত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। রাস্তায় যানবাহন তল্লাশি, মামলা দায়ের, রেকার বিল চার্জ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করতে বডিঅর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করতে পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ রয়েছে।
গত ২৩ জুলাই প্রধান উপদেষ্টার মূখ্য সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিয়া এর সভাপতিত্বে পুলিশ সংস্কার কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত সুপারিশ বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রথম সভায় বডিঅর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের দিকটিও আলোচনায় আসে। সেখানে মূখ্য সচিব বডিঅর্ন ক্যামেরার সম্ভাব্য ব্যয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দাখিল করতে বলেন।