এম এ আর মশিউর যশোর : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে পুনরায় ফিরে এলেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করায় এলাকায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে নির্বাচনী মাঠ। বিশেষ করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়ন বৈধতা পায়। এর আগে ব্যাংক ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বাতিল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে ওই অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়। এরপর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একটি অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন আলাদা শুনানি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৭ জানুয়ারি রায় ঘোষণার কথা থাকলেও একদিন পিছিয়ে রোববার তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে যশোর-২ আসনের ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে ন্যায়ের বিজয় বলে উল্লেখ করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলার এক প্রবীণ ভোটার আব্দুল জলিল বলেন,

ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ। তিনি মানুষের পাশে থাকেন। তার মতো একজন সৎ প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে থাকাটা আমাদের জন্য স্বস্তির।

চৌগাছা বাজার এলাকার এক তরুণ ভোটার শিহাব উদ্দিন জানান,

আমরা শুরু থেকেই বিশ্বাস করতাম তিনি নির্দোষ। আজ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এবার ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

স্থানীয়দের মতে, ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। চিকিৎসক হিসেবে দরিদ্র মানুষের সেবা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তার ভূমিকা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। এ কারণে মনোনয়ন বৈধ হওয়ার খবরে ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ঝিকরগাছার এক নারী ভোটার সোনিয়া আকতার বলেন,আমরা এমন একজন সংসদ সদস্য চাই যিনি আল্লাহভীরু ও মানুষের কথা বলেন। ডা. ফরিদ সেই যোগ্যতা রাখেন। ইনশাআল্লাহ তিনি বিজয়ী হবেন।

জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা বলেন, নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যশোর-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা রয়েছে, তা ভোটের দিন ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর যশোর-২ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় এই আসনের নির্বাচনী লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

বর্তমানে যশোর-২ সংসদীয় আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত সাবিরা সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাসদের ইমরান খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) রিপন মাহমুদ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মো. শামছুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম।

সব মিলিয়ে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসা যশোর-২ আসনের ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ভোটারদের কণ্ঠে এখন একটাই কথা সুষ্ঠু ভোট হলে বিজয় নিশ্চিত।#