বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানে পুনর্বহাল করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। গতকাল শনিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে দেশে বা মুসলিম বিশ্বে কোথাও কোনো দ্বিমত নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে খতমে নবুওয়ত পরিষদের উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সারাদেশ থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান ও তার আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে এই মহাসম্মেলনটি সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত চলে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, সৌদি আরব, মিশরের প্রতিথযশা আলেম-ওলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। খতমে নবুয়তের মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান।

সালাহউদ্দিন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে প্রথমবারের মত বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেছিলেন, সেটা বহাল আছে। অনেকেই এটা সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল, পারে নাই। কিন্তু যেটা বহাল নাই, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে আমরা যেটা সংযোজন করেছিলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মহান আল্লাহর উপরে আস্থা এবং বিশ্বাস সংবিধানের প্রস্তাবনায় ছিল এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ছিল আর্টিকেল ৮ এর মধ্যে। সেটা তুলে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ সেটা আমরা পূনর্বহাল করব।

খতমে নবুয়তের দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সালাহ উদ্দিন বলেন, যদি বাংলাদেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব বিএনপি পায়, তাহলে আজকে যে সমস্ত দাবি দেওয়া হয়েছে আমরা সকল দাবি-দাওয়া বা প্রস্তাবের পক্ষে আইনি ব্যবস্থা জাতীয় সংসদে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে গ্রহন করব। এজন্য সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, জাতীয় সংসদে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, সারা বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা মসুলমান, আমরা লা ইলাহা ইল্লাহ মুহাম্মাদুর রসুলাল্লাহতে বিশ্বাস করি। রসুলুল্লাহর (সা.) বলে গিয়েছেন, আমিই আখেরী নবী। আমার পরে কোনো রসুল আসবে না, কোনো নবী আসবে না। যদি কেউ পরে দাবি করে থাকেন, নিজেকে নবী ঘোষণা করে থাকেন তাহলে তিনি রসুলাল্লাহ (সা.) এই বানীর মধ্যে নাই। আমরা রসুলকে আখেরী নবী হিসেবে বিশ্বাস করে কলেমা পড়ে মুসলমান হয়েছি। বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আমরা এদেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশী পরিচয়ে বিশ্বাস করি। আর যারা রাসুলল্লাহ (সা.) এর পক্ষে নয় তারা মুসলমান হতে পারে না।

খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির আমীর মধুপুরের পীর আল্লামা আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি এবং মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক, হেফাজতে ইসলামের মাওলানা নজিবুল হাসান কাশেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, পীর মাওলানা খলিলুর রহমান নেসারাবাদী, মাওলানা নুরুল হক, পীর শফিকুল হক, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি এ এম এম বাহাউদ্দীনসহ বিভিন্ন মাদ্রাসার আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইসলামী চিন্তাবিদরা বক্তব্য রাখেন।

জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে দেশে বা মুসলিম বিশ্বে কোথাও কোনো দ্বিমত নেই। আজকের এই সমাবেশে শুধু বাংলাদেশের মুসলমান নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছেন। কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার বিষয়ে সবার অবস্থান এক। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বহু হাদিসে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনিই শেষ নবী, তার পরে আর কোনো নবী আসবে না। এই আকিদা ইসলামি উম্মাহর সর্বসম্মত বিশ্বাস। বাংলাদেশের জনগণ যদি আমাদের নির্বাচিত করে তাহলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে ইনশাআল্লাহ।