নির্বাচন ডেস্ক

নির্বাচনী হাওয়ায় সরগরম রাজধানী। কিন্তু ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন রাজনীতির চেয়েও বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অগ্নিমূল্য। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও রাজধানীর বাজারগুলোতে ‘চাঁদাবাজির হাত’ বদলেছে মাত্র, কমেনি দৌরাত্ম্য।

রাজধানীর বাজার ও পরিবহনে মাসে ২০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর প্রধান পাইকারি বাজারগুলো কারওয়ান বাজার, কাপ্তান বাজার, যাত্রাবাড়ী এবং গাবতলী হয়ে ঢোকা পণ্যবাহী ট্রাকগুলো থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

চাঁদাবাজির চিত্র: রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ হাজার পণ্যবাহী ট্রাক ঢোকে। ট্রাক প্রতি বিভিন্ন পয়েন্টে (ঘাটে ঘাটে) ৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়।

রাজধানীর প্রধান আড়ত ও পরিবহন খাত থেকে প্রতিদিন সংগৃহীত চাঁদার পরিমাণ গড়ে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। এই হিসাবে মাসে শুধুমাত্র বাজার ও পরিবহন কেন্দ্রিক চাঁদাবাজির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

এই ২০০ কোটি টাকার ‘অদৃশ্য কর’-এর বোঝা সরাসরি গিয়ে পড়ছে ভোক্তার ওপর। ১০ টাকার সবজি ঢাকায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তার দাম হয়ে যাচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

রাজনৈতিক দলগুলোর পরিকল্পনা

নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য ও চাঁদাবাজি রোধে প্রধান দুই শক্তিবিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন ভিন্ন সমাধান প্রস্তাব করেছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে বাজার সিন্ডিকেট হবে ‘জাতীয় শত্রু’।

ট্রাক ও আড়তে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রতিটি পাড়ায় ‘ইনসাফ কমিটি’ ও নজরদারি দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

কৃষক যাতে সরাসরি আড়তে পণ্য আনতে পারে, সেজন্য সরকারি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইশতেহারে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্য সামাজিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ড: কার্ডধারীদের জন্য সুলভ মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ করা হবে। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদা তুললে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থার কঠোর হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর মাসে ২০০ কোটি টাকার এই চাঁদাবাজিই মূলত বাজারের আগুনে ঘি ঢালছে। সাধারণ ভোটারদের অভিমত, ইশতেহারে সুন্দর পরিকল্পনার চেয়েও বড় প্রয়োজন প্রয়োগের কঠোরতা। যে দল নির্বাচনের আগেই তাদের এলাকা ও বাজারকে চাঁদাবাজমুক্ত করার প্রমাণ দিতে পারবে, ৫ কোটি তরুণ ও সাধারণ ভোটারের সমর্থন তাদের দিকেই ঝুঁকবে।

রাজধানীর বাজারে চাঁদাবাজির যে ‘অদৃশ্য কর’ সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসেছে, তার প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ক্ষেত থেকে আড়ত এবং আড়ত থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্য পৌঁছাতে কয়েক স্তরে চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদাবাজির সরাসরি প্রভাব পড়ে পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর।