ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। সংবিধানকে ইচ্ছেমতো কাটা-ছেঁড়ার মাধ্যমে রাজনীতিবিদ ও কায়েমি স্বার্থবাদের তৈরি করা দুঃশাসন ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছিলো। গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান চাওয়া ছিলো এমন একটি সংস্কার যার কারণে আর কোন দিন কোন স্বৈরশাসকের জন্ম হবে না। এজন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দিনেন পর দিন আলোচনা হয়েছে, রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় করে গণভোট হয়েছে, সেই গণভোটেও জনতা সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। যেই সংবিধানের বিরুদ্ধে মানুষ বিদ্রোহ করেছিলো এখন সেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে যদি সংস্কারকে ব্যাহত করা হয়, বিঘ্নিত করা হয় তাহলে ইতিহাস রাজনীতিবিদদের ক্ষমা করবে না।
আজ ৬ এপ্রিল, সোমবার এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।
বিস্ময় প্রকাশ করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, গণভোট আয়োজনে বিএনপির সায় ছিলো। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। এখন তারা গণভোট অধ্যাদেশকে বেআইনি বলছে, প্রতারণা বলছে। গণভোটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন দ্বিচারিতা জাতিকে বিস্মিত করেছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের নিন্দা করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আওয়ামী লীগ আইনের যেসব সুযোগ নিয়ে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো বিএনপি যদি সেসব আইনী সুযোগ এখনো রাখতে চায় তাহলে জনতাকে আবারো তার দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।