দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল জনসমাগম, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংস্থার জরিপ এবং অতীতের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা, সব মিলিয়ে বিএনপি মনে করছে, তারা এবার সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হবে। আজ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটররা তাদের উপর আস্থা রাখবে। তাই সংসদ নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।
ভোটাধিকার বিহীন দীর্ঘ দেড় দশক পর সারাদেশের মানুষ মুখিয়ে আছে ভোট দেওয়ার জন্য। দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু ঘটনা ঘটলেও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভের বিষয়ে বিএনপি আশাবাদী। নির্বাচনে বিএনপি কত আসনে জয় পেতে পারে, সে সংখ্যা বলতে চাননি তারেক রহমান। তবে তিনি বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের ফল দেশের স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, মতামত জরিপ অনুযায়ী বিএনপির এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভোটারের একাংশ এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। জেনারেশন জেডের ভোট প্রভাবশালী।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এ প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনি প্রচারণায় সারা দেশে যে গণজোয়ার দেখা গেছে, তাতে বিএনপির বিজয় ইনশাআল্লাহ অনিবার্য। সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ রয়েছে। আশা করি সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়ে বিএনপির নাম কখনো আসেনি। অবাধ, সুষ্ঠু ও গঠনমূলক নির্বাচন হলে বিএনপিই জয়লাভ করবে। সুষ্ঠু ও গঠনমূলক নির্বাচন হলে, ফলাফল মেনে নেবে বিএনপি।
এদিকে বিএনপির তৃণমূল নেতারাও নির্বাচনে দলের বিজয়ের ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী। তাদের বিশ্বাস বিএনপি এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। সরকার গঠনের জন্য অন্য কোনো দলের সমর্থনের প্রয়োজন হবে না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের মানুষ দেশের পক্ষের শক্তি বিএনপিকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির সরকার গঠনের ব্যাপারে কোনো শঙ্কা নেই।
সূত্রমতে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারা দেশে টানা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে। বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত জেলা পর্যন্ত তিনি ৪৩টিরও বেশি জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন। এসব সভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি বিএনপিকে নতুন করে উদ্দীপ্ত করেছে। প্রচারণার শেষ দিনে ঢাকার বিভিন্ন আসনে জনসভা শেষে রাতে তিনি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন তারেক রহমান। এ দীর্ঘ প্রচারণায় তারেক রহমান যেখানে গেছেন, সেখানেই সাধারণ মানুষের স্বতঃর্স্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি বলেছেন, এ নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের নয়, এটি দেশ পুনর্গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ধানের শীষে ভোট মানে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, আমরা চাই ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে একটি কল্যাণমুখী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, মাঠের জনসমর্থন, দীর্ঘ ও সক্রিয় প্রচারণা, সুস্পষ্ট ইশতেহার এবং তরুণদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ, এ সবকিছু মিলেই বিএনপিকে জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বিএনপির নেতাদের দাবি, অভিজ্ঞতা থেকেই তারা সঙ্কট মোকাবেলা ও কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম।