ব্যারিষ্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি বলেছেন, সরকার অর্ডিন্যান্স মেনে সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারলো, কিন্তু সংবিধান হয়নি বলে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলো না। তারা একটা মানছেন, আরেকটা মানছেন না। তিনি বলেন, আপনারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে একটা অর্ডিন্যান্স মানছেন না আরেকটা অর্ডিন্যান্স সংবিধানের একেবারে স্পেসিফিক ধারার বিরোধিতা বিরোধী হওয়ার পরে সেটাকে আপনারা মেনে ছয় জন অনির্বাচিত প্রশাসক বসিয়ে দিলেন।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে তিনি এ কথা বলেন।
তার বক্তব্যের পূর্ণ বিবরণী তুলে ধরা হলো।
১৩৩ টা অর্ডিন্যান্স হয়েছে। একটাকে বলছেন যে এটা সংবিধান অনুযায়ী হয়নি যার কারণে আমরা যুগপৎ সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিব না। আবার দেখেন যে ছয় জন প্রশাসককে আপনারা নিয়োগ দিলেন। নিয়োগ দিলেন সেটাও কিন্তু একটা অর্ডিন্যান্সের আলোকে। এখানে দেখেন একটা বিষয় দেখেন ১৩৩ টা অর্ডিন্যান্স জারি হয়েছে। এই ১৩৩ টার মধ্যে একটা কিন্তু অলরেডি উনারা মানে বলছেন যে এটা সংবিধানের অনুযায়ী হয়নি।
মানে মূল যেটা যেটার আলোকে নির্বাচন হলো জুলাই সনদ কিভাবে বাস্তবায়ন হলো সেই ২০২৫ এর এক নাম্বার যেটা এখন আমি কি আমি মোহাম্মদ ভাই আমি একটু শেষ করে মোহাম্মদ ভাই আমি একটু শেষ করে আপনি তারপর বলেন ১৩৩ টা অর্ডিন্যান্সের কয়টা উনারা রেটিফাই করবেন কয়টা রেটিফাই করবেন না এটা কিন্তু একটা ধোয়াশা আছে।
এরপরে একটা যখন ব্যত্যয় হয়ে গিয়ে সেক্ষেত্রে উনারা বলছেন ডেপুটি স্পিকার আমাদেরকে দেওয়ার জন্য বলছেন কিন্তু গোটা গণভোটের তো গণভোটের একটা পার্ট তো ছিল সেটা অন্যান্য যে বিষয়গুলোতে হা ভোট ভোট পড়েছে চারটা তো স্পেসিফিক বিষয়ে জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে ৩০ টা সংস্কার উচ্চ পরিষদ উচ্চকক্ষ এইগুলোর ব্যাপারে আসলে কি হবে এগুলো না জেনে শুধুমাত্র ডেপুটি স্পিকার আমাদেরকে অফার করলে তো এভাবে তো আমরা শুধুমাত্র পদের লোভে এটাকে নিয়ে নেব। এটা তো মানে সমীচিন না আমাদেরকে তো বুঝতে হবে যে উনারা গোটা জুলাই সনদ নিয়ে কি করছেন গণভোট যে সমস্ত বিষয়ে দেয়া হচ্ছে সেগুলোকে আপনারা কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন তার একটা রোডম্যাপ তো দিতে হবে। ১৩৩ টা অর্ডিন্যান্স হয়েছে একটাকে বলছেন যে এটা সংবিধান অনুযায়ী হয়নি যার কারণে আমরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিব না।
আবার দেখেন যে ছয় জন প্রশাসককে আপনারা নিয়োগ দিলেন। নিয়োগ দিলেন সেটাও কিন্তু একটা অর্ডিন্যান্সের আলোকে। এটা আপনার দেখেন স্থানীয় সরকার যে কর্পোরেশন সংশোধন অধ্যাদেশ ১৭ ই আগস্ট ২০২৪ সেখানে বলা হলো যে সরকার চাইলে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদেরকে ডিসমিস করে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে নিয়োগ দিতে পারে।
এইটা পরিষ্কার সংবিধানের ৬০ নাম্বার অনুচ্ছেদের বিরোধী সেখানে বলা হচ্ছে স্থানীয় সরকার পরিষদ সরকার স্থানীয় সরকারের সকল প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে হবে। আপনারা একটা অর্ডিন্যান্স সংবিধানের দোহাই দিয়ে মানছেন না আরেকটা অর্ডিন্যান্স সংবিধানের একেবারে স্পেসিফিক ধারার বিরোধিতা বিরোধী হওয়ার পরে সেটাকে আপনারা মেনে ছয় জন অনির্বাচিত প্রশাসক বসিয়ে দিলেন। তারা কি আবার শুনছি আবার নির্বাচন করবে স্থানীয় প্রশাসনে এইগুলা তো আসলে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে। বল আমাদের কোর্টে ঠেলে দিলেই তো হবে না, আপনার আমাদেরকে জনগণ নির্বাচিত করেছে, ম্যান্ডেট দিয়েছে, একই সাথে গণভোটে হা বোর্ডকে জয়যুক্ত করেছে।
সেক্ষেত্রে তো বিরোধী দলের একটি ভূমিকা থাকে। আমাদের ভূমিকা যেটা আছে আমাদের হলো গঠনমূলক সমালোচনা করা। আমরা তো আপনাদেরকে ধরিয়ে দিচ্ছি কি কি সমস্যা হচ্ছে। এখন এগুলো রেটিফাই করেন। জুলাই বিপ্লব কিভাবে আপনারা বাস্তবায়ন করছেন সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে কোন কোন অধ্যাবেশগুলো সংসদে তোলা হবে। এগুলো তো যাচাই বাছাই করে বিরোধী দলকে আগে জানাতে হবে।
শুধুমাত্র একটা পদ অফার করে আমাদেরকে যদি এক্সপেক্ট করেন যে আমরা অন্য বাকি সবকিছুর ব্যাপারে ধোয়াশার মধ্যে থেকে শুধুমাত্র পথটাকে অন্ধের মতো গ্রহণ করে নিবো। অন্য জুলাইয়ের সনদ কি হবে, ১৩৩ টা অর্ডিনেন্সের কি হবে, আপনার যে স্পেসিফিক অর্ডিনেন্স উনারা ভায়োলেট করলেন সেটাকে কিভাবে আবার না সব অর্ডিনেন্সগুলো তো সংসদে উঠছে এখন কোনটা আলোচনা হবে কোনটা আইনে পরিণত হবে সেটা হলো সংসদ কার্যকরী মাধ্যমে এটা প্রমাণ করে ফেলেছেন। ওইটা রেটিফাই করে করলে আবার সেটার এই না এখানে আমি একটু বলি এখানে ডক্টর মোহাম্মদ যেটা বলেছে যে আমরা একটা অর্ডিনেন্স কে ভায়োলেট করেছি আপনি কি উনি তো আইনের লোক এজ এ ব্যারিস্টার মানুষ রাষ্ট্রপতি কি আদেশ দিতে পারেন অর্ডিন্যান্স দিতে পারে।
তার মানে এটা আপনার এই এই আদেশটাকে আপনারা রিডিফাই করবেন না?
না না আমি আপনাকে আমি বলি রাষ্ট্রপতি কি অর্ডিন্যান্স দেবে না আদেশ? আদেশ কি ম্যান্ডেটরি? প্রেসিডেন্টের আদেশ অবশ্যই ম্যান্ডেটরি। আপনার প্রথম যে সংবিধানটা হচ্ছে আপনি অর্ডিন্যান্স কে আপনি আপনি তো ৭২ ৭২ সালের সংবিধানের কথা বললেন। ৭২ সালের সংবিধান রেডিফাই হওয়ার আগে আমাদের দেশ চলেছে কিসের ভিত্তিতে? এটা কি অর্ডিন্যান্সের আন্ডারে চলেছে নাকি প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের আন্ডারে চলেছে? আর সেটা তো আপনি পরে আইনে পরিণত হয়েছে। এক্সাক্টলি। আইনে পরিণত হয়েছে।
আপনি যদি কোথাও কোনো বেকুয়াম তৈরি হয় না, না আপনি ইউ আর দ্য বেরিস্টার আপনি জানেন কোথাও যদি আমার কোথাও বেরিয়ে কোথাও যদি আমাদের আইনের কোন বেকুয়াম তৈরি হয়, মাস্ট অর্ডিন্যান্স জারি করবে, পরে সে আইনে পরিণত করবে। এটা তো সতসিদ্ধ। এক্সাক্টলি সেটাই তো করেছে।
প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার হয়ে আদেশ আপনি দেখেন ইট ইজ নট অর্ডার এটা আদেশ। না আপনার আদেশ এবং আদেশ আমি বলি আপনি সহযোগিতা করি অর্ডিন্যান্স এবং আদেশের মধ্যে পার্থক্যটা কি?
রাষ্ট্রপতি আদেশ কিন্তু আমাদের ভারতের রাষ্ট্রপতি অর্ডার আমি বলি তারপর আপনি এড করেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশ ৭২ সালের সংবিধানের আগে আমাদের প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার আদেশ অনেকগুলো হয়েছিল সেগুলোকে রেটিফাই করে সংবিধানে সাংবিধানিক রূপ দেয়া হয়েছে। একইভাবে যেহেতু অর্ডিনেন্সের সমস্যা কোথায় অর্ডিনেন্স যেটা হয় আপনার সংবিধানের আলোকে সংবিধানের যে অবকাঠামো আছে, এটার বাইরে তো আপনি সেখানে যেতে পারেন না কিন্তু আমাদের যে সংস্কারগুলোর কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে সেখানে তো আপনাকে সেই এখতিয়ারের বাইরে যেতে হবে।