সংগ্রাম ডেস্ক : এয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্তদের পূর্ণ তালিকা এখনো পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত ৬২ জনের তালিকা দেয়া হল।

কুষ্টিয়ায় ১৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া জেলায় ৪টি সংসদীয় আসনে ১৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১৪টি রাজনৈতিক দলের ২৫ জন অংশ গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি হাতি মার্কার রুম্পা খাতুন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম বা শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট যদি না পান তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়।

জেলার রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৩ জন। জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত প্রার্থীরা হচ্ছেন সমাজতান্ত্রিক দলের-জেএসডি মো. গিয়াস উদ্দীন (তারা প্রতীক) পেয়েছেন ২০৩ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. বদিরুজ্জামান (মোমবাতি প্রতীক) পেয়েছেন ২৪১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমিনুল ইসলাম (হাতপাখা প্রতীক) পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী) মো. নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (সাইকেল প্রতীক) পেয়েছেন ১৭ হাজার ৮৬৪ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মো. শাহাবুল ইসলাম (ট্রাক প্রতীক) পেয়েছেন ৬১৩ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মো. শাহারিয়ার জামিল (লাঙ্গল প্রতীক) পেয়েছেন ১ হাজার ৯৪ ভোট।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯ ১১ জন। জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত প্রার্থীরা হচ্ছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নূর উদ্দিন আহমেদ (কাস্তে প্রতীক) পেয়েছেন ৮০ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. বাবুল আক্তার (চেয়ার প্রতীক) পেয়েছেন ১ হাজার ১২৩ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মোহাম্মদ আলী (হাতপাখা প্রতীক) পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৮৭ ভোট।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৩২৩ জন। জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত প্রার্থীরা হচ্ছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মীর নাজমুল ইসলাম (মই প্রতীক) পেয়েছেন ৪৪২ ভোট, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোছা. রুম্পা খাতুন (হাতি প্রতীক) পেয়েছেন ৪৭৫ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মোহা. শরিফুল ইসলাম (ট্রাক প্রতীক) পেয়েছেন ২৯৯ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মো. আব্দুল্লাহ্ আকন্দ (হাতপাখা প্রতীক) পেয়েছেন ৫ হাজার ১৫৩ ভোট।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) এই আসনে মোট ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৮ হাজার ২৬০ জন। জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত প্রার্থীরা হচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আনোয়ার খান (হাতপাখা প্রতীক) পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ ভোট, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) তরুণ কুমার ঘোষ (রকেট প্রতীক) পেয়েছেন ৬৭১ ভোট, গণফোরামের মো. আব্দুল হাকিম মিঞা (উদীয়মান সূর্য) প্রতীকে পেয়েছেন ২৫৫ ভোট ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. শহিদুল ইসলাম (আনারস প্রতীক) পেয়েছেন ৩০৮ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ৯ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

সোনারগাঁ সংবাদদাতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের-৩ (সোনারগাঁও - সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে সাবেক চার বারের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম এবং তিনবারের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

চুড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ১১ প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ২১৪টি। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসেবে ৪২০২৬ ভোটের কম ভোট যারা পেয়েছেন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার কথা। বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম (ঘোড়া) প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৯৬ ভোট, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন (ফুটবল) প্রতীকের স্বতন্ত্রপ্রার্থী পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস (মাথাল) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৩৮ ভোট, জনতার দলের আব্দুল করিম মুন্সী (কলম) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮৫ ভোট, ঈগল প্রতীক নিয়ে আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন পেয়েছেন ১৩৭ ভোট, রিকশা প্রতীক নিয়ে শাহজাহান শিবলী পেয়েছেন ১১৯৩ ভোট, বটগাছ প্রতীক আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি পেয়েছেন ৭৬৯ ভোট ও ট্রাক প্রতীক ওয়াহিদুর রহমান মিল্কি পেয়েছে ৩১৪ ভোট। ফলে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী তাদের (৯ জন) প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁও - সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির (ধানের শীষ) প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. মো. ইকবাল হোসাইন ভুঁইয়া (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট।

বরিশাল-১ আসনে দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) সংসদীয় আসনে দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলে নির্ধারিত সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় তাদের এই পরিণতি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট বৈধ ভোটের এক অষ্টমাংশের (১২ দশমিক ৫ শতাংশ) কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে দুইজন ওই শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেনÑ জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত বাইসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. রাসেল সরদার মেহেদী।

এর আগে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ১২৯টি ভোটকেন্দ্রের গণনা শেষে শীর্ষ প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেলেও অন্য কয়েকজন প্রার্থী তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে পড়েন। ফলে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া নিশ্চিত হয়েছে।

নরসিংদীতে ২৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা: নরসিংদীর ৫ টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণের পর এ তথ্য উঠে এসেছে।

নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী মোট বৈধ প্রদত্ত ভোটের এক–অষ্টমাংশের (১/৮), অর্থাৎ ১২.৫% এর কম ভোট পেলে তাঁর নির্বাচনী জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

এদের মধ্যে নরসিংদী-১ (সদর) আসনে ৬ জন, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে ৩ জন, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে ৫ জন, নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) ৭ জন এবং নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে ৬ জন প্রার্থীর জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়।

পাঁচটি আসনের মধ্যে ১৬৩ ভোট পেয়ে সর্বনি¤œ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী (নরসিংদী-৪ মনোহরদী ও বেলাব) আসনের কাজী শরীফুল ইসলাম এবং একই আসনে সবোর্চ্চ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯২ ভোট পেয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সরদার সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।

নরসিংদীর ৫টি সংসদীয় আসনের সব কয়টিতে বিএনপি জয়লাভ করেছে এবং তাদের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র। এদের মধ্যে ৪ টি আসনে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ১ টি আসনে নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ জামাল আহমেদ চৌধুরী।

নরসিংদী-১ (সদর) আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আশরাফ হোসেন, গণফোরামের শহিদুজ্জামান চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের শিরিন আক্তার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাখাওয়াত হোসেন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের হামিদুল হক পারভেজ।

নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ১১ দলের প্রার্থী গোলাম সারওয়ার (তুষার) ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমজাদ হোসেন ছাড়া অন্য ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। এরা হলেন ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আফিস ইকবাল, জাতীয় পার্টির এ.এন.এম রফিকুল ইসলাম সেলিম এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে জামানত হারিয়েছেন জাকের পার্টির প্রার্থী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠান, জাতীয় পার্টির একেএম রেজাউল করিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওয়ায়েজ হোসেন ভূইয়া, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রায়হান মিয়া।

নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনে জনতার দলের আবু দার্দ্দা মো. মাজ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী শরীফুল ইসলাম, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কাজী সাজ্জাদ জহির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মুহম্মদ মিলন মিয়া, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ছাইফুল ইসলাম।

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের তাহমিনা আক্তার, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মশিউর রহমান, জাতীয় পার্টির মেহেরুন নেছা খান হেনা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সোলায়মান খন্দকার।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের ৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী-রাজিবপুর-চিলমারী) আসনের ৭ প্রার্থীর ৪ প্রার্থী। জামানত হারাবেন। মোট ভোটের নুন্যতম ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা জামানত হারাচ্ছেন।

১৫ ফেব্রুয়ারী সোমবার জামানত হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী উপজেলা নির্বাচন অফিসার লিটু আহমেদ। তিনি জানান, পরাজিত সকল প্রার্থীদের ভোটের হিসেব করে প্রার্থীদের জামানতের বিষয়টি কোর্টে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল), ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা), বাসদ (মই) ও বাসদ (মার্কসবাদী)।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৭ এবং ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা জমা দিতে হয়। কোন প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে, তা টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। সেই হিসাবে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা ৪ জন।

নান্দাইলে তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ১৫৪ নান্দাইল-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শোচনীয় পরাজয়ের পাশাপাশি নির্বাচনী জামানত হারিয়েছেন তিন প্রার্থী। প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম কোটা পূরণ করতে না পারায় নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী তাঁদের জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইদুর রহমান (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির হাসমত মাহমুদ (লাঙ্গল) এবং গণফোরামের মো. লতিফুল বারী হামিম (উদীয়মান সূর্য)। নির্বাচন অফিস সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই তিন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. সাইদুর রহমান সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০১ ভোট পেয়েছেন। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাসমত মাহমুদের প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৭৭৩। আর গণফোরামের প্রার্থী মো. লতিফুল বারী হামিম পেয়েছেন মাত্র ২৪৩ ভোট। নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে তাঁর জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫ শতাংশ) ভোট পেতে হয়। কিন্তু এই তিন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ন্যূনতম সীমার অনেক নিচে থাকায় তাঁরা জামানত হারিয়েছেন। এলাকার সচেতন ভোটাররা বলছেন, বড় দলগুলোর প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলেও এই তিন প্রার্থী ভোটারদের নজর কাড়তে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির মতো একটি দলের প্রার্থীর এক হাজারের নিচে ভোট পাওয়া নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই আসনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এই তিন প্রার্থী সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।